kalerkantho


পুঁজিবাজার নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের বৈঠক

অসাধু চক্র গুজব ছড়াচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অসাধু চক্র গুজব ছড়াচ্ছে

আসন্ন মুদ্রানীতি ও ব্যাংকঋণ-আমানতের অনুপাত নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে একটি অসাধু গোষ্ঠী ফায়দা লুটতে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। আর এই তথ্যে প্রভাবিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করছে বিনিয়োগকারীরা। এ ছাড়া সরকারি ব্যাংকের জমা রাখা অর্থ ফিরিয়ে দিতে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) শেয়ার বিক্রিতেও নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিগগিরই বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে। অসাধুচক্রের তথ্যে প্রভাবিত না হয়ে বিনিয়োগ করতে হবে।

ক্রমাগত নিম্নমুখী পুঁজিবাজার নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বৈঠক করেছে পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডাররা। মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে বৈঠক করেছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন।

চলতি মাসের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রথম তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পরবর্তী সময়ে ক্রমাগতভাবে নিম্নমুখী হয় বাজার। গত শনিবার ও রবিবার ডিএসইতে মূল্যসূচকে বড় পতন ঘটে। যদিও গত সোমবার ডিএসইর সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে। স্টেকহোল্ডারদের বৈঠক শেষে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক হোসেন সাদেক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি ব্যাংকগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আইসিবির কাছে আমানতের একটি অংশ জমা রাখে। আর আইসিবি সেই অর্থ দিয়ে শেয়ার কেনে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সার্কুলারে বলা হয়েছিল সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার কমাতে হবে। এই বিষয়ে দীর্ঘদিন কোনো আলোচনা নেই; কিন্তু হঠাৎ করেই আইসিবির কাছে থাকা ডিপোজিট ফেরত চাইতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক আইসিবির কাছে টাকা চাইলে, আইসিবি শেয়ার বিক্রি করছে। প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে দিতে হয়েছে। যার জন্যই বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার তুলে নিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও গভর্নরের কাছেও যাবেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, কম সুদে ঋণ দিয়ে ব্যাংকের কাছে এখন তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের কাছে টাকা নেই। যার জন্য বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করছে ব্যাংক। সঞ্চয়পত্রেরও সুদের হার বেশি, ১২ শতাংশ। তবে মানুষ কেন পুঁজিবাজারে আসবে? অনেকে আবারও ব্যাংক আমানত রাখতে ছুটছে। এই ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের সুদ হার কমাতে হবে আর বেশি সুদে ব্যাংকের আমানত গ্রহণও বন্ধ করতে হবে। আইসিবির কাছে ব্যাংকের ডিপোজিট বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলো বর্তমানে মোট ডিপোজিটের ১৫ শতাংশ জমা রাখতে পারে। তবে আমরা চাচ্ছি এই ডিপোজিটের পরিমাণ ৫০ শতাংশ করা হোক। এতে আইসিবির সক্ষমতা আরো বাড়বে।’

মুদ্রানীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুদ্রানীতিতে যেন কোনো নেতিবাচক বিষয় না আসে সেই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজার নিয়ে কারো সঙ্গে কিছুই আলোচনা করে না। আমরা কথা বলা বা আলোচনার চেষ্টা করেছি; কিন্তু করতে পারিনি। ব্যাংকের এক্সপোজার মার্ক টু মার্ক হতে হবে। আমি যে টাকা দিয়ে শেয়ার কিনব সেটাই এক্সপোজার ধরতে হবে। শেয়ার কেনার পর যদি দাম বেড়ে যায় এখানে কিছুই করার থাকে না। যার জন্য যে দামে শেয়ার কিনে সেটাই এক্সপোজার হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নিয়ন্ত্রক। কিন্তু কোনো সমন্বয় নেই। আগে প্রতি মাসে রেগুলেটরদের সমন্বয় সভা হতো, এখন হয় না। সমন্বয় সভা করা উচিত। এ ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে।



মন্তব্য