kalerkantho


উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক শুরু কাল

এসডিজিতে সহযোগিতা চাইবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এসডিজিতে সহযোগিতা চাইবে সরকার

বিডিএফ বৈঠক উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ছবি : লুত্ফর রহমান

তিন বছর পর আবার সব উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে সরকার; যেখানে জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ বছর মেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে সহযোগিতা চাইবে সরকারের নীতিনির্ধারকরা। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) সভা শুরু হচ্ছে আগামীকাল বুধবার। সভার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩৬ দেশের ৭০০ প্রতিনিধি যোগ দিচ্ছেন এবারের বিডিএফ বৈঠকে। পরিকল্পনা কমিশনের গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ এসডিজি বাস্তবায়নে স্থিরমূল্যে বাড়তি ৯২৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ সাত লাখ কোটি টাকারও বেশি। বিশাল এই চাহিদার মধ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ অর্থ চাইছে বাংলাদেশ। সার্বিকভাবে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্যবর্তী মূল্যায়ন এবং এসডিজি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে উন্নয়ন ফোরামের সভায়। এর আগে ২০১৫ সালে সর্বশেষ বিডিএফ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকায়।

গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিডিএফ বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম, অতিরিক্ত সচিব মনোয়ার আহমেদ, আলকামা সিদ্দিকী ও জাহিদুল হক। এসডিজি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অর্থায়ন যে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তা অকপটে স্বীকার করলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থায়নই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ট্রিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে না। কম আসবে। সে জন্য নিজেদের অর্থায়নের ওপর জোর দিতে হবে।’ বিডিএফ বৈঠকের আয়োজক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। উন্নয়ন ফোরামের বিভিন্ন দিক জানানোর পাশাপাশি গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী কথা বলেছেন দেশের চলমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়া এবং চার লেন মহাসড়ক নির্মাণে চীনের রাষ্ট্রীয় একটি কম্পানির ঘুষের প্রস্তাব নিয়ে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি চীনের অর্থায়নে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে ঘুষ সেধেছিল। ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ায় আমরা প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিই। আমরা ওই কম্পানিকে ব্ল্যাকলিস্ট করে দিই। এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ নিজেদের অর্থায়নে করার উদ্যোগ গ্রহণ করি।’ তবে অর্থমন্ত্রী ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া ওই কম্পানির নাম প্রকাশ করেননি। উল্লেখ্য, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সরকার সমঝোতা স্মারক সই করেছিল।

 

ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিনিয়োগের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। একই সঙ্গে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ, আমাদের এফডিআই গতি অনেক কম। শ্লথ। এটি বাড়ানো জরুরি। যদিও আমাদের ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগকারীরা বিদেশি উদ্যোক্তা নিয়ে আসছেন।’

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হলে বাংলাদেশ কোনো সমস্যায় পড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বললেন, ‘আগামী মার্চে আমরা এলডিসি থেকে বের হওয়ার পরীক্ষায় পাস করব। এলডিসি থেকে বের হলেও বাংলাদেশ কোনো সমস্যায় পড়বে না। আমরা এখন নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।’

একই কথা জানালেন ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আযম। তিনি বলেন, ‘এলডিসি থেকে বাংলাদেশ বের হলেও বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) ঋণের কোটা বাড়বে বাংলাদেশের জন্য। এডিবিও বাংলাদেশের জন্য ঋণের কোটা বাড়াবে। আর বাংলাদেশ কখনো ঋণ নিয়ে সেই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়নি।’

অর্থমন্ত্রী জানান, দুই দিনের বৈঠকে আটটি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিন হবে চারটি অধিবেশন এবং শেষ দিন আরো চারটি অধিবেশন হবে। তাতে কৃষি খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতকে আরো বেশি করে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে কী করণীয় সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা তাঁদের মতামত জানাবেন। মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা ও দক্ষতার মান উন্নয়ন এবং বৈষম্য কমানোর উপায় খোঁজা হবে। বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে নারী নির্যাতন রোধ, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, শহরমুখী গ্রামীণ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে প্রতিবন্ধকতা, এবং এসডিসি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে অর্থায়ন নিশ্চিত ও অংশীদারিত্বকে শক্তিশালীকরণ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। ঢাকা শহরে এখন কত সংখ্যক মানুষ বসবাস করে, তা নিয়ে নিজের সংশয়ের কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি দেড় কোটি হতে পারে, দুই কোটি হতে পারে, আবার আড়াই কোটিও হতে পারে। শহরের পরিধি বেড়েই চলেছে। নারীদের ক্ষমতায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিডিএফ বৈঠকে যোগ দেবেন ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (অফিদ) মহাপরিচালক সুলেইমান জাসির আল হারবিশ, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট এনেট ডিক্সন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন চাই ঝ্যাং, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমহাপরিচালক মিনরু মাসুজিমা। এ ছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের অনেক প্রতিনিধি বৈঠকে যোগ দেবেন।



মন্তব্য