kalerkantho


খুলনায় হচ্ছে দুই অর্থনৈতিক অঞ্চল

জমি অধিগ্রহণ প্রস্তাবের নিষ্পত্তি হয়নি

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



খুলনায় হচ্ছে দুই অর্থনৈতিক অঞ্চল

খুলনা জেলায় দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এ সিদ্ধান্ত বেশ আগের। নীতিগত সিদ্ধান্ত হচ্ছে এর একটি হবে তেরখাদা উপজেলার কোলা পাটগাতি মৌজায় এবং অন্যটি হবে বটিয়াঘাটা উপজেলার তেঁতুলতলা মৌজায়। এই জোনের প্রস্তাবিত স্থানটি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা কয়েক দফা ঘুরে গেছেন, তবে এখনো জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি। সম্প্রতি খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহণের অনুমতি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাপ্তরিক চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও বরিশাল বিভাগে মোট ১২টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে একটি বেসরকারি উদ্যোগে ও বাকিগুলো সরকারি তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠবে।

শিল্প খাতের দ্রুত বিকাশ, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণে উৎসাহ দিতে, সর্বোপরি পশ্চাত্পদ ও অনগ্রসর এলাকা উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-বেজা এ উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ডেভেলপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

খুলনা জেলা প্রশাসকের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের তেঁতুলতলায় ৫৯৪ একর জমি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একইভাবে তেরখাদা উপজেলার কোলা পাটগাতী মৌজায় ৫১৭ একর জমি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। গত ১১ ডিসেম্বর ভারতীয় হাইকমিশনার হষ বর্ধন শ্রিংলাসহ একটি প্রতিনিধিদল খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্প পরিদর্শনের সময় এই এলাকাটিও ঘুরে দেখেন। গত বছর জুন মাসে ভারতীয় একটি প্রতিনিধিদল বটিয়াঘাটার এই অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকাটি পরিদর্শন করে।

ওই প্রতিনিধিদলে ছিলেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অজিত ভেনায়েক গুপ্ত, আন্ডার সেক্রেটারি ভিপুল কুমার মিশ্রী এবং ভারতের এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ (কনসালট্যান্ট)। এ ছাড়া বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলও এ এলাকা পরিদর্শন করেছে।

দেশীয় শিল্পপতিরা ছাড়াও জাপান, কোরিয়া, ভারত, পানামা, তুরস্ক, ইউক্রেন, ডেনমার্ক, সুইডেন, ইতালি, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে পুঁজি বিনিয়োগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। এসব অঞ্চলে সয়াবিন তেল, সুপারি, বাইসাইকেল, তাঁবু, ক্যামেরার লেন্স, কেমিক্যাল শিল্প, প্লাস্টিক দ্রব্য, এনার্জি সেভিং বাল্ব, গাড়ির যন্ত্রাংশ, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, চশমা, ব্যাটারি, ধাতব শিল্প, গলফ শ্যাফট, জুতার অ্যাকসেসরিজ প্রভৃতি উৎপাদিত হবে।

অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্পর্কে বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার জগন্নাথ ঘোষ জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের এলএ শাখায় একটি প্রাথমিক কার্যক্রমের নির্দেশ আসে, সেই নির্দেশ অনুযায়ী সার্ভেয়ার দ্বারা মেপে ভূমির অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, খুলনায় দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে খুলনায় নতুন নতুন শিল্প কল-কারখানা গড়ে উঠবে। নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। মোংলা বন্দর গতিশীল হবে। পাশাপাশি পদ্মা সেতুর উন্নয়নের সেতুবন্ধ গতিশীল হবে।

খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল আহসান বলেন, তেরখাদা উপজেলার কোলা পাটগাতি মৌজা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার তেঁতুলতলা মৌজায় দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তেরখাদার কোলা পাটগাতি মৌজায় প্রস্তাবিত ৫১৭ একর জমির মধ্যে সরকারি জমি রয়েছে ২৫৬ একর। এ ছাড়া বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা মৌজায় ৫৯৪ একর জমিতে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে সরকারি খাস জমি প্রায় অর্ধেক। জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রাথমিক অনুমতি চেয়ে গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি এ বিষয়ে বলেন, খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আন্তরিক। বর্তমান সরকারের আমলে খুলনায় সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি বেসরকারি শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠছে। দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে খুলনাঞ্চলের অর্থনীতির ছবিটি পাল্টে যাবে। এ অঞ্চলের বেকার সমস্যার সমাধান হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিকে খুবই সমৃদ্ধ করবে।



মন্তব্য