kalerkantho


বিড়িশিল্প নিয়ে কমিশন গঠনের দাবি

রংপুর অফিস   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিড়িশিল্প ধ্বংসের চক্রান্তের প্রতিবাদ ও বিকল্প কর্মসংস্থানসহ বিড়ি শ্রমিকদের বাঁচাতে রংপুরে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশি এমপি।

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসির সভাপতিত্বে জনসভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষণা উন্নয়ন কালেক্টিভের (আরডিসি) চেয়ারম্যান মেজবাহ কামাল, বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম কে বাঙালী, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান, গবেষণা উন্নয়ন কালেক্টিভের সাধারণ সম্পাদক জান্নাত-এ-ফেরদৌসী।

বক্তারা বলেন, দেশে প্রায় ১৫ লাখ বিড়ি শ্রমিক এই শিল্পে কর্মরত রয়েছে। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া যুগ যুগ ধরে অসহায়, অচল ও কর্মক্ষমহীন শ্রমিকদের কর্মসংস্থান করে যে শিল্পটি গড়ে উঠেছে, একটি মহল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই শিল্পকে ধ্বংসের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। বিড়ির ওপর অতিরিক্ত ট্যাক্স আরোপ এবং ট্যাক্স আগ্রাসন নীতির কারণে বিড়ি বাজারজাত করতে হিমসীম খেতে হচ্ছে।

বক্তারা আরো বলেন, বিড়ি শ্রমিকরা চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করে। অন্য যেকোনো কাজের তুলনায় মজুরিও কম। এক হাজার বিড়ির শলাকা তৈরি করে পাওয়া যায় মাত্র ২১ থেকে ২৭ টাকা। একজন শ্রমিক এক দিনে গড়ে পাঁচ হাজার বিড়ির শলাকা উৎপাদন করতে পারে। সুতরাং বিড়ি শ্রমিকদের দৈনিক গড় আয় ১৩৫ টাকার বেশি নয়। অন্যদিকে সপ্তাহে তিন-চার দিনের বেশি কাজও থাকে না। বিড়িশিল্পের কাজে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও অন্যান্য কাজ থেকে অনেক বেশি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবারের শিশু, নারীসহ সবাই বিড়ি তৈরির কাজে সম্পৃক্ত। ফলে একদিকে যেমন সন্তানদের লেখাপড়া ব্যাহত হয়, অন্যদিকে সেই শিশুদের বড় হয়ে বিড়ি শ্রমিক হিসেবেই জীবন অতিবাহিত করতে হয়। ফলে তাদের অবস্থারও কোনো পরিবর্তন হয় না।

বক্তারা বিড়ি শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের কথা বিবেচনা করে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে শিল্প-কারখানা স্থাপন, বিড়ি শ্রমিকদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে চাকরি প্রদান, বিড়ির কাজ ছাড়তে সাময়িক আর্থিক সহায়তা ও বিনা মূল্যে দক্ষতা উন্নয়ন সহায়তা, বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের শ্রমিকদের প্রাধান্য দেওয়া, বিড়িশিল্প মালিকদের বিকল্প শিল্প-কারখানা স্থাপনে সরকার কর্তৃক প্রণোদনার দাবি জানান। এ ছাড়া বিভিন্ন উৎসাহমূলক নীতি গ্রহণের পাশাপাশি বিড়ির ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহার করে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, অসহায় ও কর্মক্ষমহীন শ্রমিকদের বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠায় কর্মসংস্থান রক্ষা, বিড়িশিল্প সম্পর্কে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে একটি বিশেষ কমিশন গঠন ও বিদেশি টোব্যাকো কম্পানি কর্তৃক ট্যাক্স ফাঁকি এবং টাকা পাচার বন্ধের দাবি জানান।



মন্তব্য