kalerkantho


পুঁজিবাজারে লোকসানি কম্পানিতে বড় পতন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



পুঁজিবাজারে লোকসানি কম্পানিতে বড় পতন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লোকসানি ও উৎপাদনে না থাকা কম্পানিতে শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়েছে। এসব কম্পানিতে বিক্রেতা থাকলেও শেয়ারের ক্রেতা ছিল না। এতে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ কম দামে শেয়ার বিক্রি হয়েছে। দীর্ঘদিন লেনদেন বন্ধ থাকায় দুই কম্পানিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত করায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনুৎপাদন বা লোকসানে থাকা কম্পানির শেয়ার বিক্রিতে হিড়িক পড়ে। শেয়ার বিক্রি করতে চাইলেও ক্রেতা ছিল না।

উল্লেখ্য, উৎপাদন বা ব্যাবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রহিমা ফুড ও মডার্ন ডাইং অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং লিমিটেডকে তালিকাচ্যুত (ডিলিস্টিং) করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উৎপাদনে না থাকলেও কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়ছিল কম্পানি দুটির। আরো যেসব কম্পানি উৎপাদনে নেই সেসব কম্পানির বিষয়েও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া বলে হুঁশিয়ারি করে ডিএসই। এতে উৎপাদনে নেই বা লোকসানে রয়েছে এমন কম্পানির শেয়ারের দামে পতন ঘটেছে।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, দাম কমার শীর্ষে ১০টি কম্পানিই লোকসানে। দীর্ঘসময় এসব কম্পানির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। যার জন্য আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করছে বিনিয়োগকারী।

বৃহস্পতিবার সমতা লেদার, জুট স্পিনার্স ও এমারেল্ড অয়েলের শেয়ারের দাম কমেছে ১০ শতাংশ। সাভার রিফ্যাক্টরিজের ৯.৯৫ শতাংশ, শ্যামপুর সুগার ৯.৯১ শতাংশ, ইমাম বাটন ৯.৯০ শতাংশ, বিচ হ্যাচারির ৯.৮৬ শতাংশ, সোনারগাঁ টেক্সটাইল ৯.৮৫ শতাংশ ও মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের ৯.৮৩ শতাংশ শেয়ারের দাম হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া দুলামিয়া কটনের ৯.৭৫ শতাংশ, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের ৯.৭২ শতাংশ, ইউনাইটেড এয়ারের ৯.০৯ শতাংশ, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের ৮.৪৮ শতাংশ, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের ৭.৯৮ শতাংশ ও তুং হাই নিটিংয়ের ৪.৩৫ শতাংশ শেয়ারের দাম কমেছে।

এদিকে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও লেনদেন বাড়ার মধ্য দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৯১২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছে ৩ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৬৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছিল প্রায় ৯ পয়েন্ট।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর থেকে শেয়ার বিক্রির চাপে সূচক নিম্নমুখী হলেও পরে বেড়েছে। দুপুর পৌনে ১২টার পর থেকে শেয়ার কেনার চাপ বেশি হওয়ায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। এতে দিনের সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। দিন শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৩৩৭ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৯০৪ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ্ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ২৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৩৭ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫০টির, কমেছে ১৫৩টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪ কম্পানির শেয়ারের দাম।

লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে বিবিএস কেবলস। কম্পানিটির লেনদেন হয়েছে ৫০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা গোল্ডেন হারভেস্টের লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে থাকা দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালের লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। অন্যান্য শীর্ষ কম্পানি হচ্ছে লিগেসি ফুটওয়্যার, মুন্নু সিরামিকস, কেডিএস অ্যাকসেসরিজ, ইউনাইটেড পাওয়ার, আমান ফিডস, ইফাদ অটোস ও খুলনা পাওয়ার।

মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স, ন্যাশনাল পলিমার, রূপালী লাইফ ইনস্যুরেন্স, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল, রিজেন্ট টেক্সটাইল, প্যাসিফিক ডেনিমস, কেডিএস অ্যাকসেসরিজ, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিল, এসিআই লিমিটেড ও বেঙ্গল উইন্ডসোর। অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে রয়েছে এমারেল্ড অয়েল, জুট স্পিনিং, সমতা লেদার, সাভার রিফ্যাক্টরিজ, শ্যামপুর সুগার, ইমাম বাটন, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ্ ফান্ড, বিচ হ্যাচারি, সোনারগাঁ টেক্সটাইল ও মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক।

অন্য বাজার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৫২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছে ৩৯ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছিল প্রায় ৩ পয়েন্ট। বৃহস্পতিবার লেনদেন হওয়া ২৫২ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১২১টির, কমেছে ১১২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯ কম্পানির শেয়ারের দাম।



মন্তব্য