kalerkantho


নতুন বছরে ২০০ কোটি ডলার রপ্তানি করতে চায় বেজা

আরিফুর রহমান   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নতুন বছরে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো থেকে ২০০ কোটি ডলার (১৬ হাজার কোটি) সমপরিমাণ পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপনের কাজও এ বছরের মধ্যে শুরু করতে চায় বেজা। মিরসরাইতে চলতি বছরের মধ্যেই প্রস্তাবিত ‘বঙ্গবন্ধু ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’ উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বেজার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল উদ্বোধনের কথা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বছরের যেকোনো সময়ে সরকারি বেসরকারি মিলে আরো ১৫ অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে এ বছর নতুন করে আরো ৩০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও দেখছে বেজা। ব্যবসায়ীদের বহু দিনের প্রাণের দাবি একই ছাদের নিচে সব সেবা পেতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) আইন চলতি বছর সংসদে অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে। এসব সম্ভাবনা ও স্বপ্নের কথাই জানালেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বাস্তবায়ন বিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। তিনি একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নে সমন্বয়ের দায়িত্বও পালন করছেন।

আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ‘বিদায়ী বছরে দেশের দুটি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে পণ্য রপ্তানির সময় এখনো হয়নি। তবে আমরা চাই চলতি বছর মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপন শুরু করতে। বেজার অধীনে নতুন করে আরো ২০ হাজার একর জমি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এ বছর। এখন বেজার অধীনে জমি আছে ৩০ হাজার একরের মতো’। সরকারি পর্যায়ে চলমান অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চলতি বছর বড় ধরনের অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আবুল কালাম আজাদ।

এদিকে স্বপ্ন পূরণের আরেক ধাপ পেরোনোর মধ্য দিয়ে ২০১৭ সাল শেষ করল বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ। বিদায়ী বছরে দেশের দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি শুরু হয়েছে। ২০১০ সালে বেজার যাত্রা শুরুর সাত বছর পর এই প্রথম বিদায়ী বছরে দুটি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে পণ্য রপ্তানি শুরু হলো। এর মধ্যে বে অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে উৎপাদিত পুতুল ও বাচ্চাদের খেলনা গেছে চীন, যুক্তরাজ্য ও ভারতে। আর মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে টিস্যু পেপার যেতে শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা ও ভারতে। বিদায়ী বছরের ২৭ ডিসেম্বর দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান মিলে গঠিত এসবিজি ইকোনমিক জোন লিমিটেডকে ৫৫০ একর জমি উন্নয়নের কাজ দিয়েছে বেজা। যৌথভাবে গঠিত তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো বসুন্ধরা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ এবং গ্যাসমিন গ্রুপ।

ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে ২৬টি সেবা একই ছাদের নিচে পেতে বছরের পর বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছে দেশের ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বিদায়ী বছরে মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস। এখন সংসদে অনুমোদনের অপেক্ষায়। আইনটি পাস হলে ২৬ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে একই ছাদের নিচে। তখন আর সেবা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হবে না ব্যবসায়ীদের। চলতি বছরের মধ্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সংসদে পাস হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বেজার কর্মকর্তারা। ২০১৭ সালে ওএসএস আইন মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাস হওয়াকে সফলতা হিসেবে দেখছে বেজা।

বেসরকারিভাবে বাস্তবায়নের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রাথমিক প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে বিদায়ী বছরে। ঢাকা-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কসংলগ্ন বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পারে সিরাজগঞ্জ সদর ও বেলকুচি উপজেলায় এক হাজার ৪১ একর জমির ওপর হতে যাচ্ছে এখন পর্যন্ত সর্ববৃহৎ বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত সিরাজগঞ্জে এই বিশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে যাচ্ছে দেশের প্রতিষ্ঠিত ১১ উদ্যোক্তা কম্পানি। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে বিদায়ী বছর বেজার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা) ও পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এটিকেও বড় অর্জন হিসেবে দেখছে বেজা।

নতুন বছরের পরিকল্পনা সম্পর্কে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী জানালেন, ‘এ বছরের মধ্যেই ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইনটি সংসদে পাস হবে। নাফ, সোনাদিয়া ও সাবরাং পর্যটনকেন্দ্রের কাজ এ বছরের মধ্যেই শেষ করতে চাই। মিরসরাইতে শিল্প স্থাপনের কাজও শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নিজস্ব জনবলকে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে নতুন বছর।’


মন্তব্য