kalerkantho


নতুন বছরে আরো দুটি হোটেল নির্মাণ করব

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নতুন বছরে আরো দুটি হোটেল নির্মাণ করব

কক্সবাজারে হোটেল সায়মানের ইনফিনিটি সুইমিং পুল থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ৫৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী হোটেল সায়মান। সময়ের চাহিদা পূরণে সায়মান ভেঙে ফেলে শহরের কলাতলি সৈকতে ২০১২ সালে নতুন সাজে ‘সায়মান বিচ রিসোর্ট’ যাত্রা শুরু করে। এই বিলাসবহুল হোটেলটি যেন এখন গর্ব করে বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতকে নিয়ে। সাগর পাড়ের ১০ তলা এই হোটেলটিতে রয়েছে আকর্ষণীয় সুইমিং পুল। সায়মান বিচ রিসোর্টের ২২৮ কক্ষের প্রায় প্রতিটি থেকেই সাগরের ঢেউ অবলোকন করা যায়। প্রধানত সাগরের ঢেউয়ের দৃশ্য দেখার সুযোগের কারণেই হোটেলটি এখন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এবার কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন ইনানী বিচ এবং সেন্ট মার্টিনস দ্বীপে আরো দুটি হোটেল নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানালেন ‘সায়মান বিচ রিসোর্ট’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব রহমান। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা বংশানুক্রমেই পর্যটনশিল্পের প্রসারে কাজ করছি। কক্সবাজারের কলাতলি সৈকতের হোটেল সায়মান বিচ রিসোর্টের পর এবার ইনানী সৈকতে ১০ একর জমি জুড়ে ইকো ট্যুরিজম হোটেল গড়ে তোলার কাজ শুরু হচ্ছে। এরপর আরো একটি ইকো রিসোর্ট গড়ে তোলা হবে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনসে। এ জন্য এরই মধ্যে এক একর জমি কেনা হয়েছে। দুটি হোটেল নির্মাণে শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে জানালেন তিনি।

তৃতীয় প্রজন্মের এই উদ্যোক্তা বলেন, এসব ইকো ট্যুরিজম প্রধান হোটেল যেখানে পরিবেশের বিষয় বিশেষভাবে প্রাধান্য পাবে। আমাদের পারিবারিক ব্যবসার প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে পর্যটনশিল্প কেন্দ্রিক বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা। এ লক্ষ্যেই আমার মরহুম দাদা চট্টগ্রামের মিরসরাইর বাসিন্দা তদানীন্তন পাকিস্তান আমলের এম এল এ এবং বিশিষ্ট ঠিকাদারি ব্যবসায়ী মরহুম সাইদুর রহমান কক্সবাজারে ১৯৬৪ সালে হোটেল সায়মান নির্মাণ করেছিলেন।’

তিনি জানান, ষাটের দশকে স্থাপিত কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকায় নির্মিত সেই হোটেল সায়মানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানাসহ দেশ-বিদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অবস্থান করেছিলেন। সেই হোটেলটি ভেঙে সেখানে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময় পিতার পদাঙ্কনুসরণ করে চট্টগ্রাম শহরের বিলাসবহুল হোটেল পেনিনসুলা নির্মাণ করেন বিশিষ্ট রাজনীতিক বর্তমান সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। চট্টগ্রাম শহরের এই বিলাসবহুল হোটেলটিও বন্দরনগরীর পর্যটন বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনস দ্বীপটি পরিবেশ ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্বীপে পানীয়জলের সংকট রয়েছে—এটা সবাইকে মাথায় রেখে কাজে নামতে হবে। হাজার হাজার লোক দ্বীপে অবস্থান নিয়ে থাকবে—সেটাও কাম্য হতে পারে না। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে সহনীয় অবকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমেই প্রবাল দ্বীপে পর্যটনশিল্পকে প্রসারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে সবাইকে।


মন্তব্য