kalerkantho


পুঁজিবাজারে বহুজাতিক কম্পানির মুনাফা বেড়েছে

রফিকুল ইসলাম   

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



পুঁজিবাজারে বহুজাতিক কম্পানির মুনাফা বেড়েছে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদেশি বা বহুজাতিক কম্পানির মুনাফা বাড়ছে। আর বছর বছর মুনাফা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব কম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বেশি। চলতি বছরের তিন-চতুর্থাংশ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এই সময়ে হিসাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বহুজাতিক কম্পানির মুনাফায় উল্লম্ফন ঘটেছে। আগের বছরের চেয়ে এসব কম্পানির মুনাফা অনেক বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস।

সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারের ছয় দশকে ১৩টি বহুজাতিক কম্পানির লেনদেন হচ্ছে। আরো চার শতাধিক কম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করলেও পুঁজিবাজারে আসছে না। অন্যান্য দেশে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর বহুজাতিক কম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাংলাদেশে এমন কোনো আইন নেই। তবে বহুজাতিক কম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মতামতও সংগ্রহ করেছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বহুজাতিক কম্পানিগুলোর অবস্থা ও সম্ভাবনা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলধন বিবেচনায় পুঁজিবাজারে বিদেশি কম্পানির অবদান ২৫ শতাংশ। ১৩টি কম্পানির মধ্যে সর্বশেষ ২০০৯ সালে গ্রামীণফোন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এই ২৫ শতাংশের মধ্যে গ্রামীণফোনের অবদান ১১.০৮ শতাংশ। আর ১২টি কম্পানির অবদান ১৫ শতাংশ।

কম্পানিগুলোর প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বহুজাতিক কম্পানির মুনাফায় উল্লম্ফন ঘটেছে। যার দরুন শেয়ারপ্রতি আয়ও বেড়েছে বেশ। সিমেন্ট খাতের দুই কম্পানির মুনাফায় কিছুটা ভাটা পড়লেও অন্য সব কম্পানিতে মুনাফা বেড়েছে। সিমেন্ট খাতের লাফার্জ সুরমার প্রথম ও তিন প্রান্তিকে মুনাফা করেছে। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসানে পড়ে কম্পানিটি। তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসের হিসাবে কম্পানিটি মুনাফায় থাকলেও সার্বিক মুনাফা কমেছে। আর হাইডেলবার্গ সিমেন্টে মুনাফায় বড় ধস নেমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে কম্পানিটির মুনাফা ৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

২০১৭ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের মুনাফা ৮১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১৪.৪৩ টাকা। ২০১৬ সালে এই মুনাফা ছিল ১৩৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ইপিএস ছিল ২৩.৭৬ টাকা। সেই হিসাবে ৯ মাসে কম্পানিটির আয় কমেছে ৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। প্রতি শেয়ারে কমেছে ৯.৩৩ টাকা।

২০০৯ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া টেলিকম খাতের গ্রামীণফোনের মুনাফা ক্রমাগতভাবেই বাড়ছে। ২০১৫ সালে কম্পানিটির মুনাফা ছিল এক হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে মুনাফা দাঁড়ায় দুই হাজার ২৫২ কোটি টাকা। চলতি বছরের তিন প্রান্তিকেই বা ৯ মাসে মুনাফা দুই হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকে কম্পানিটি মুনাফা করেছে ৬৯৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ইপিএস ৫.১৬ টাকা। ২০১৬ সালে ইপিএস ছিল ৪.৭৮ টাকা।

২০১৬ সালে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর মুনাফা ৭৫৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ২০১৭ সালে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে মুনাফা করেছে ৬০৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আর ইপিএস ১০১ টাকা। গত বছর ৬০০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০১৬ সালে ১০৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা মুনাফা করে বাটা শু কম্পানি। চলতি বছরের ৯ মাসে মুনাফা করেছে ৭৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

২০১৭ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ৯ মাসে রেকিট বেনকিজারের মুনাফা ২১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। ইপিএস হয়েছে ৪৬.২৮ টাকা, যা গত বছর ছিল ৩৬.৩৯ টাকা। সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকে কম্পানিটির মুনাফা ৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগের বছরের চেয়ে ইপিএস বেড়েছে ৮.৩৩ টাকা।

ম্যারিকো বাংলাদেশের আর্থিক হিসাব বছর মার্চ-এপ্রিল। ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ আর্থিক হিসাব বছর শেষে কম্পানিটির মুনাফা ১৪৪ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে এই মুনাফা ছিল ১৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর ২০১৫ সালে ছিল ১৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। সর্বশেষ প্রকাশিত দ্বিতীয় প্রান্তিকের হিসাবে কম্পানিটি ছয় মাসে মুনাফা করেছে ৯৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১৪.৪৯ টাকা। আর মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে ইপিএস ৩০.২১ টাকা, যা ২০১৬ সালে ছিল ২৭.৯০ টাকা। ইতিমধ্যে ২৫০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

২০১৬  সালে লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের মুনাফা ছিল ২২২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে ছিল ২২৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ২০১৭ সালে তিন প্রান্তিকে মুনাফা ৪৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। যার মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা ২০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সমন্বিত হিসাবে কম্পানিটির ইপিএস ০.১৮ টাকা, যা ২০১৬ সালে ছিল ০.৩২ টাকা।

তিন প্রান্তিকে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের মুনাফা ৮১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা কমেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ইপিএস ১.৭২ টাকা। ২০১৬ সালে এই সময়ে ছিল ৪.৪৭ টাকা। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ৯ মাসে ইপিএস ১৪.৪৩ টাকা, ২০১৬ সালে ছিল ২৩.৭৬ টাকা। ২০১৬ সালে কম্পানিটির মুনাফা ছিল ১৫০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে ছিল ১৪০ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

গ্লাক্সোস্মিথ ২০১৬ সালে মুনাফা করে ৬৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আর ২০১৫ সালে মুনাফা ৮৩ কোটি ১০ লাখ টাকা।


মন্তব্য