kalerkantho


২১ বছরেও ৩৭ একর জমি বুঝে পায়নি তাঁত বোর্ড

বিঘ্নিত হচ্ছে মিরপুর বেনারসি পল্লীর উন্নয়ন

নিখিল ভদ্র   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



২১ বছরেও ৩৭ একর জমি বুঝে পায়নি তাঁত বোর্ড

বরাদ্দ পাওয়ার পর দীর্ঘ ২১ বছরেও মিরপুর বেনারসি পল্লীর ৩৭ একর জমি বুঝে পায়নি বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড (বাতাঁবো)। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কেনা ওই জমি দখলে না পাওয়ায় বেনারসি পল্লীর উন্নয়ন ও প্রসার কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্রুত ওই জমির দখল বাতাঁবোকে বুঝিয়ে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

কমিটির কাছে বাতাঁবোর পক্ষ থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার মিরপুরের ১৭ নম্বর সেকশনে ১৯৯৬ সালে বেনারসি পল্লীর যাত্রা শুরু হয়। জমির মূল মালিক জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ১১ কোটি ৩১ লাখ টাকায় বাতাঁবোকে ৪০ একরের জমিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে মিরপুরের ওই জমিতেই তাঁত বোর্ডের ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের নির্দেশনা দেন; কিন্তু ওই জমির বেশির ভাগই এখনো স্থানীয় বস্তিবাসীর দখলে রয়েছে। সেখান থেকে ২০১৫ সালের ১৯ আগস্ট বাতাঁবোর অনুকূলে মাত্র তিন একর জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে।

কমিটি সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন বিষয়টি একাধিকবার কমিটি বৈঠকে উত্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি একাধিকবার আলোচনাও করেছে। সর্বশেষ গত ১৯ নভেম্বর কমিটির বৈঠকে এ ব্যাপারে অগ্রগতি জানতে চাওয়া হয়। এরপর বাতাঁবো চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন আহমেদ কমিটিকে জানান, সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে গত ২৩ আগস্ট এ বিষয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে এক আন্ত মন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ আগস্ট ও ২৬ সেপ্টেম্বর গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকে পৃথক দুটি অনুরোধপত্র পাঠানো হয়। বাতাঁবো চেয়ারম্যান এ বিষয়ে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপও করেছেন। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

বস্ত্র ও পাটসচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী জানান, মিরপুর ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা। সেখানে বেনারসি পল্লী বা এতে কর্মরত শ্রমিকদের উপযুক্ত বাসস্থানের ব্যবস্থা নেই। তাই ঢাকার বাইরে খোলামেলা জায়গায় বেনারসি/তাঁতপল্লী স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে তাঁতিরা ক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করে। যে কারণে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া আটকে যায়। অবশ্য ইতিমধ্যে মামলাটির নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় তাঁতিদের লিখিত অনাপত্তি পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনাকালে কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সত্ত্বেও এটা নিয়ে জটিলতা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেন। আলোচনা শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বাকি ৩৭ একর জমি দ্রুত বাতাঁবোর দখলে বুঝে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার তাগিদ দেন।

এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্য বেগম সাবিনা আক্তার তুহিন কালের কণ্ঠকে বলেন, জমি বুঝে না পাওয়ায় বেনারসি পল্লীর উন্নয়ন ও প্রসার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে আর সময়ক্ষেপণ না করার পরামর্শ দেন তিনি।



মন্তব্য