kalerkantho


ইতিবাচক ধারায় ফিরল রপ্তানি আয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ইতিবাচক ধারায় ফিরল রপ্তানি আয়

দেশের রপ্তানি আয় দুই মাস ধরে আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। তবে চামড়া খাতকে ‘বর্ষপণ্য’ ঘোষণা এবং সাভারে চামড়া শিল্পপল্লীতে কারখানা স্থানান্তরের পরও এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া গত অর্থবছরের চেয়েও রপ্তানি আয় কমেছে। চলতি অর্থবছরের নভেম্বরে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৩০৫ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬.২২ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৬.৬৩ শতাংশ বেশি। এর আগের মাস অক্টোবরেও রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৮৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই মাসের চেয়ে ৬.৪২ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬.২৮ শতাংশ বেশি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ এক হাজার ৪৫৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার আয় করেছে।

এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬.৮৬ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে এক হাজার ৩৬২ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয় ২৯ শতাংশ।

আগস্টে রপ্তানি বাড়ে ১০.৭১ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে এসে লক্ষ্যমাত্রা হোঁচট খায়, ওই মাসে রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ শতাংশ কমেছিল।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারুক হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও এটা আরো ভালো করা সম্ভব। এ জন্য সরকারকে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নীতিসহায়তায় আরো জোর দিতে হবে। তবে বিশ্ববাজারে পোশাকের দরপতনের ফলে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো নিরাপদ কর্মপরিবেশে তৈরিতে অনেক বিনিয়োগ করেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নের ফলে ক্রেতাদের আস্থাও বেড়েছে। ফলে দেশের রপ্তানি আয় অনেকটা ইতিবাচক দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে তৈরি পোশাক থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে এক হাজার ১৯৬ কোটি ২২ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭.৪৬ শতাংশ বেশি। নিটওয়্যার খাতে পণ্য রপ্তানিতে ৬২৪ কোটি ৪৩ লাখ ডলার এবং ওভেন পোশাক রপ্তানিতে ৫৭১ কোটি ৭৯ লাখ ডলার আয় হয়েছে।

অন্য খাতগুলোর মধ্যে চলতি বছরের ৫ মাসে হিমায়িত এবং জীবন্ত মাছ রপ্তানিতে আয় বেড়েছে ১০.৭৮ শতাংশ, চিংড়ি রপ্তানিতে আয় বেড়েছে ৮.২৭ শতাংশ ও কৃষি খাতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৭.৭৭ শতাংশ। তবে চামড়া খাতে রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়েছে ২.৬২ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের চেয়ে কম হয়েছে প্রায় ৩ শতাংশ। যদিও চামড়ার তৈরি জুতা রপ্তানি বেড়েছে ৮.৫৫ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় বেড়েছে ১৬.৫১ শতাংশ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন হাজার ৭৫০ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করে তিন হাজার ৪৬৫ কোটি ৫৯ লাখ ডলার আয় করে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩.৩৯ শতাংশ বেশি।

বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি আয় আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পোশাক খাত। তবে এতে খুব বেশি খুশি হওয়ার নেই। কেননা বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলো সরকারের নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই ওই সুবিধা আমাদেরও সমন্বয় করে রপ্তানি আয়ের বর্তমান অবস্থা ধরে রাখতে হবে।


মন্তব্য