kalerkantho


দেড় মাস পর চালু বাণিজ্যিক লেনদেন

মংডু বন্দর হয়ে পণ্য আসছে

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মংডু বন্দর হয়ে পণ্য আসছে

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনের জেরে দেড় মাস বন্ধ থাকার পর আবার সচল হয়েছে টেকনাফ স্থলবন্দরের সঙ্গে মিয়ানমারের মংডু বন্দরের বাণিজ্যিক লেনদেন। গত ১১ অক্টোবর থেকে দুই দেশের এই দুই বন্দরের সঙ্গে নৌবাণিজ্য আবার শুরু হয়েছে।

ফলে সেপ্টেম্বর মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে রাজস্ব আদায়। তবে যে হারে পণ্য আসছে বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে পণ্য যাচ্ছে খুব সামান্যই। কিন্তু এর পরেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে।

টেকনাফ স্থলবন্দর সূত্র জানায়, অক্টোবর মাসের জন্য এ স্থলবন্দরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ কোটি ৪ লাখ টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। অথচ সেপ্টেম্বরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এর মধ্যে আদায় হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৭৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১ শতাংশ কম। মূলত দেড় মাস পর আবার মংডু বন্দর সচল হওয়ায় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে। এর আগে শুধু আকিয়াব বন্দর দিয়েই পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতো।

চলতি নভেম্বর মাসে এই বন্দরের জন্য রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা। গতকাল ২০ নভেম্বর পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। নভেম্বর মাসে আকিয়াব ও মংডু বন্দর থেকে সর্বমোট ১১ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে। এর মধ্যে মংডু দিয়ে এসেছে ৪ হাজার মেট্রিক টন পণ্য। আমদানীকৃত পণ্যের মধ্যে ৭৫ শতাংশই চাল।

জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের মংডুতে সহিংসতা শুরুর দিন সর্বশেষ মংডু থেকে মালবোঝাই নৌকা আসে। ২২ থেকে ২৪ আগস্ট মোট ১১টি নৌকা মংডু থেকে পণ্য আনে। এরপর আর কোনো পণ্য ওই বন্দরের সঙ্গে লেনদেন হয়নি। সহিংসতার কারণে এ নৌকাগুলোর ৪০ জন মাঝিমাল্লাও টেকনাফে দেড় মাস ধরে আটকা পড়ে ছিল। সর্বশেষ গত ১১ অক্টোবর আটকে থাকা মাঝিমাল্লারা নৌকা নিয়ে ফিরে গেলে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আবার শুরু হয়েছে।

টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানির মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ হয় মিয়ানমারের মংডু রাজ্যের সঙ্গে। বাকি ৩৫ শতাংশ আকিয়াব বন্দরের সঙ্গে লেনদেন হয়। গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহিংসতা শুরুর পর মংডুর সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি একেবারে বন্ধ ছিল। তবে আকিয়াব অঞ্চলে কোনো ধরনের সহিংসতা না থাকায় এ বন্দরের সঙ্গে বাণিজ্য সচল রয়েছে বলে টেকনাফ স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা আ ম শহীদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত মাস থেকে সামান্য পরিমাণে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি, যা আসছে এর বেশির ভাগই চাল। ’

বাংলাদেশ থেকে মংডুতে কিছু টি-শার্ট রপ্তানি হচ্ছে বলে তিনি জানালেন, যদিও তা পরিমাণে খুবই সামান্য।

সূত্র জানায়, অক্টোবর মাসে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে মোট ১ কোটি ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে মিয়ানমারে। এর বেশির ভাগই তৈরি পোশাক। আগের মাসে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৩৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য। আমদানির তুলনায় রপ্তানি বৈষম্য গত দুই মাসে আশঙ্কাজনক হারেই বেড়েছে। কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এস এম নূরুল হক বলেন, ‘মংডুতে যারা বাংলাদেশের পণ্যের ক্রেতা তারাই তো এখন বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে আছে। সেই মার্কেট তো আর নাই। ফলে বাংলাদেশ থেকে ওই বন্দর দিয়ে রপ্তানি স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে। ’

এস এম নূরুল হক মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পেলে রাজনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবেই উন্নতি হবে। ’


মন্তব্য