kalerkantho


জিএসপি পেতে ইউরেশিয়ান ‘ক্লাবে’ যাচ্ছে বাংলাদেশ

আবুল কাশেম   

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জিএসপি পেতে ইউরেশিয়ান ‘ক্লাবে’ যাচ্ছে বাংলাদেশ

রাশিয়াসহ পাঁচটি দেশের সংগঠন ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে একটি কাঠামোগত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এটি সই হলে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ রাশিয়ায় বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা বা জিএসপি পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এরই মধ্যে স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি সই করার জন্য আন্ত মন্ত্রণালয় সভা করে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইউরেশিয়ান কমিশনের পক্ষ থেকে শীঘ্রই ঢাকায় মন্ত্রিপর্যায়ে এই স্মারক সই হবে বলে জানানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সদস্য দেশগুলো হলো—রাশিয়া, বেলারুশ, আর্মেনিয়া, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহায়তা বিষয়ে বছরের শুরুতে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ একটি চুক্তি সই করেছে। ওই চুক্তির আওতায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি আন্ত সরকার কমিশন গঠন করা হবে। এ জন্য আলাদা একটি চুক্তির খসড়াও চূড়ান্ত করেছে সরকার। দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক সুবিধা-অসুবিধা, পারস্পরিক অর্থ লেনদেনসহ ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা, দ্বৈত করারোপ, কৃষি পণ্যে ব্যাকটেরিয়া ব্যবস্থাপনা ও শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়সহ বিভিন্ন বিষয়ে এই কমিশন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

কমিশন গঠনের এই চুক্তিটিও একই সময় সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান ও রাশিয়ান ফেডারেশনের সমন্বয়ে গঠিত ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে এবং বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেতে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই এবং রাশিয়ার সঙ্গে আন্ত সরকার কমিশন গঠনের প্রস্তুতি নিতে গত ১১ অক্টোবর আন্ত মন্ত্রণালয় প্রস্তুতি সভা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, রাশিয়াসহ চারটি দেশের মধ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক এখন স্বাক্ষরের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শীঘ্রই তা স্বাক্ষরের বিষয়ে কমিশন থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী সমঝোতা স্মারকটি ঢাকায় মন্ত্রিপর্যায়ে স্বাক্ষরিত হবে।  

ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে সই হওয়ার অপেক্ষায় থাকা সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশনের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও সমন্বিত সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। উভয় পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসা-বিনিয়োগে বিদ্যমান বাধা দূর করা হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নয়নে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সদস্য রাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিবহন, জ্বালানি, কৃষিশিল্প, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস, সেবা খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, তথ্য-প্রযুক্তি, সরকারি ক্রয়সহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করবে।

সমঝোতা স্মারকের খসড়া অনুযায়ী, পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে, যেখানে বাংলাদেশ ও ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশন থেকে দুজন কো-চেয়ারম্যান থাকবেন। এই ওয়ার্কিং গ্রুপ বছরে একবার করে বৈঠক করবে।

আর রাশিয়ার সঙ্গে যে আন্ত সরকার কমিশন হবে তার খসড়ায় বলা হয়েছে, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও কারিগরি ক্ষেত্রে বিস্তৃত সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে এই কমিশন কাজ করবে। উভয় পক্ষ কমিশনে চেয়ারম্যান, ডেপুটি চেয়ারম্যান, নির্বাহী সচিব ও সদস্য নিযুক্ত করবে। তবে কমিশনের সদস্য ২০ জনের বেশি হবে না। কমিশন প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে মস্কো ও ঢাকায় বৈঠক করবে। বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই দুপক্ষের আলোচ্য বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে পরস্পরের সম্মতিসাপেক্ষে। কমিশন নিজ নিজ পক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিজ্ঞান, কারিগরি ও বিনিয়োগ সহায়তার ক্ষেত্র নির্বাচন করবে।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করবে। পরস্পরের মধ্যে রপ্তানি বাড়াতে বাণিজ্যিক বাধাগুলো দূর করবে। শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে কাজ করবে।


মন্তব্য