kalerkantho


সফলতা সেই ইউরোপ-আমেরিকায়

নতুন বাজারে রপ্তানি নিম্নমুখী

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



নতুন বাজারে রপ্তানি নিম্নমুখী

পোশাক রপ্তানিতে এখনো নেতিবাচক চিত্র বেশ কিছু দেশে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির মধ্যে দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে আগস্ট মাসের সুখবর সেপ্টেম্বরে এসেই মিলিয়ে গেছে দেশের রপ্তানি খাতে। লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৭৭৬ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে অর্জিত হয়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ কম।

একই কারণে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে আছে ২.৮৪ শতাংশ। এই আপাত মন্দা বাজারে বরাবরের মতো নেতৃত্ব দিয়েছে ইউরোপের বাজার। গত দুই বছরের মন্দাভাব কাটিয়ে নতুন অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকেও এসেছে সফলতা। তবে নতুন বাজারে রপ্তানি চিত্র এখনো হতাশাজনক। রাশিয়া, চীন, জাপান, ব্রাজিলের মতো দেশকে কেন্দ্র করে সরকার ও পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ নতুন বাজার সম্প্রসারণের শোরগোল তুললেও বাস্তব চিত্র হচ্ছে এসব দেশে রপ্তানি গত বছরের চেয়ে পিছিয়েছে। ব্যবসায়ীরা এ জন্য ভাষাগত সমস্যার পাশাপাশি এসব দেশে অবস্থিত দূতাবাস ও বাণিজ্যিক উইংগুলোর ব্যর্থতাকেও দায়ী করছেন।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসের জন্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৯১৬ মিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ৮ হাজার ৬৬২ মিলিয়ন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২.৪ শতাংশ কম। যদিও আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭.২৩ শতাংশ বেশি।

আর অর্জনের ৫৯ শতাংশই এসেছে ইউরোপের বাজার থেকে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে এ সময় রপ্তানি হয়েছে ৫ হাজার ৭৭ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য। এর মধ্যে সিংহভাগ গেছে জার্মানিতে। জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে জার্মানিতে ১ হাজার ৩৮৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছর একই সময়ের চেয়ে দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। এর পরেই যুক্তরাজ্যের বাজারে ১০৩১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। ব্রেক্সিট ইস্যুর পর যুক্তরাজ্যে রপ্তানি নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তা কাটিয়ে উল্টো অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আগের চেয়ে ১৫.৯৮ শতাংশ বেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে অন্য সাফল্যটি এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে। গত দুই বছর এ বাজারে মন্দাভাব থাকলেও জুলাই-আগস্ট মাসে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ সময় দেশটিতে সর্বমোট ১ হাজার ৪৫৩ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩.৮৮ শতাংশ বেশি।

এসব সফলতার ভিড়ে হতাশার চিত্র দেখা যাচ্ছে চীন, জাপান, রাশিয়া ও ব্রাজিলে পণ্য রপ্তানিতে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ বাস করে এই চার দেশে। কিন্তু আমাদের মোট রপ্তানির মাত্র ৬ শতাংশ যায় এই দেশগুলোতে। এই চার দেশে মোট রপ্তানি হয়েছে ৫৩৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৪১ শতাংশ কম।

জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে চীনে ১৬২ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছর একই সময়ে এর চেয়ে ৩৩ মিলিয়ন ডলার কম। জাপানেও নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত ছিল। ২৪৫ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ডলার রপ্তানির মাধ্যমে গত বছরের তুলনায় ৮.৬৮ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে সে দেশে।

তুলনায় রাশিয়া ও ব্রাজিলে রপ্তানি পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। রাশিয়ায় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি ৩৪.৬৮ শতাংশ বেড়ে ৮৫ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়েছে। একই সময়ে ব্রাজিলে রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি বেড়ে মোট ৪১ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলার হয়েছে।

বিশাল জনসংখ্যার দেশগুলোতে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ না হওয়ার পেছনে ভাষাগত সমস্যাকে বিশেষভাবে দায়ী মনে করেন বাংলাদেশ-মিয়ানমার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এস এম নূরুল হক। তিনি বলেন, ‘চীন, রাশিয়া, জাপান ও চীন অনেক বড় বাজার হলেও ভাষাগত সমস্যার কারণে আমরা সেখানে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারছি না। এ জন্য আমাদের দেশে ফ্যাশন টেকনোলজি কিংবা মার্চেন্ডাইজিং ফার্মগুলোতে এসব দেশের ভাষা কোর্স করানো যেতে পারে। একইভাবে মেলা আয়োজন করে সেখানে আমাদের পণ্যসামগ্রীর প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতে হবে। ’

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নতুন বাজার সৃষ্টিতে এসব দেশে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। জাপান জিরো টলারেন্সে কাজ করে। সেখানে চাইলেও নতুন কেউ ঢুকতে পারে না। এ ছাড়া গত বছর গুলশানের হলি আর্টিজান হত্যাকাণ্ডের জন্য জাপানি বায়ারদের বাংলাদেশে আসা এখনো সংকুচিত। ’

ব্যবসা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের দূতাবাস, বাণিজ্যিক উইংগুলো আরো তৎপর হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। বিজিএমইএর এই নেতা বলেন, ‘এসব দেশে সিঙ্গেল কান্ট্রি ফেয়ার করতে হবে। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বিজিএমইএকে আরো সক্রিয় হতে হবে। ’


মন্তব্য