kalerkantho


অরক্ষিত সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরী

তোফাজ্জল হোসেন লুতু, সৈয়দপুর (নীলফামারী)   

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



অরক্ষিত সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরী

মেরামতের অভাবে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে শিল্পনগরীর সড়কটি

সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরী, উত্তর জনপদের মধ্যে অন্যতম সফল ও লাভজনক। কিন্তু শিল্পনগরীতে তৈরি হওয়া নানা সমস্যা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে উদ্যোক্তাদের প্রচেষ্টায়।

বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় সীমানাপ্রাচীর ও সড়ক বাতি না থাকা, পানি সমস্যা এবং সড়ক ও ড্রেনেজব্যবস্থার রুগ্ণ দশা যেন এটির সাফল্যের বিপরীত কথাই বলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৩৩ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া সেভাবে লাগেনি শিল্পনগরীতে। উত্তরের বাণিজ্য ও শ্রমিক প্রধান সৈয়দপুর শহরের নিয়ামতপুর এলাকায় ১৯৮৪ সালে প্রায় ১১ একর জায়গা জুড়ে বিসিক শিল্পনগরীটি গড়ে তোলা হয়। এতে মোট ৯০টি শিল্প প্লট রয়েছে। যাতে গড়ে উঠেছে তিন শ্রেণির ৪৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সচল শিল্প-কারখানা রয়েছে ৪৪টি। এর মধ্যে খাদ্যপণ্য শিল্প, জুট, হালকা প্রকৌশল ও রসায়নশিল্প কারখানা উল্লেখযোগ্য। আর এসব কারখানায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

শিল্পনগরীটি প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছর পার হলেও আজও এখানে নির্মিত হয়নি সীমানাপ্রাচীর।

ফলে বছরের পর বছর নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই কারখানা চালাতে হচ্ছে মালিকদের। সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য তাগাদা দেওয়া হলেও তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি। বিসিক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ওই প্রাচীর নির্মিত হচ্ছে না বলে শিল্প মালিকদের অভিযোগ। একই অবস্থা বিরাজ করছে সড়ক বাতি, রাস্তা ও ড্রেনেজব্যবস্থায়। বিসিক শিল্পনগরী অভ্যন্তরের রাস্তায় সড়ক বাতি নেই দীর্ঘদিন ধরে। সন্ধ্যার পর পরই পুরো এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে। বেড়ে যায় অপরাধ ঘটার আশঙ্কা। বিশেষ করে শিল্প-কারখানার বৈদ্যুতিক সংযোগের তার চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। চুরি যাচ্ছে কারখানার মূল্যবান মালপত্রও। ক্রমাগত চুরির ঘটনায় অনেকট অসহায় কারখানা মালিকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় সীমানাপ্রাচীর না থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তাপ্রহরী না থাকায় অপরাধীরা খুব সহজে ভেতরে ঢুকে অপকর্ম করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পারে। ফলে চুরির আতঙ্ক নিয়েই রাত কাটাতে হয় অনেককে।

বিসিক শিল্পনগরীর সড়ক ও ড্রেনেজব্যবস্থারও বেহাল দশা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাস্তা ও ড্রেনের সিংহভাগ সংস্কার ও মেরামত করা হয়নি। সড়কের বেশির ভাগই ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এতে করে পণ্য ও কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিল্প মালিকদের। অন্যদিকে ড্রেনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে বিসিক শিল্প এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অনেক সময় জলাবদ্ধতায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত মালপত্র নষ্ট হচ্ছে। অতিবৃষ্টিতে কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়ে। যদিও স্থানীয় দপ্তর থেকে এসব সংস্কারের একটি প্রস্তাব দেড় বছর আগে প্রধান দপ্তরে পাঠানো হয়।

শিল্পনগরীর নানা সমস্যা নিয়ে মেসার্স গাউসিয়া মেজর ফ্লাওয়ার মিলসের এমডি মো. মোস্তফা জানান, বিসিক শিল্পনগরীর বড় সমস্যা নিরাপত্তাহীনতা। এখানে এখনো সীমানাপ্রাচীর নির্মিত হয়নি। এ নিয়ে বহুবার কর্তৃপক্ষের কাছে বলা হলেও এটি নির্মাণে তাদের আগ্রহ নেই। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় চুরি নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিসিক এলাকায় সড়ক বাতি নেই। নেই নিরাপত্তাপ্রহরীর কোনো ব্যবস্থাও। অথচ আমরা প্রতিবছর সরকারের ভ্যাট, ট্যাক্সসহ সব চার্জ নিয়মিত পরিশোধ করে আসছি।

বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত খলিল মেজর আটা মিলসের এমডি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনে বিসিক শিল্পনগরীতে সুষ্ঠু ড্রেনেজব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তা ছাড়া বিসিকের পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পচানালা খালটি। বর্ষা মৌসুমে ওই খালের পানি উপচে বিসিকে ঢুকে পড়ে। এতে করে শিল্পনগরীর শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যবান মেশিনপত্র ও স্থাপনা তলিয়ে যায়। এ ছাড়া বিসিকের দক্ষিণ পাশে পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য যে নিষ্কাশন পাইপ ছিল সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে বিসিক শিল্পনগরীতে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব বিষয়ে কথা হলে সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. গোলাম রব্বানী বর্তমানে বিসিক শিল্পনগরীতে বিদ্যমান সমস্যার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এখানকার যাবতীয় সমস্যা সম্পর্কে বিসিক প্রধান কার্যালয়ে অবহিত করা হয়েছে। সমস্যাগুলোর ব্যাপারে করণীয় ঠিক করবেন তাঁরা। আমরা শুধু চিঠি দিয়ে বিষয়গুলো সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারি। এর বাইরে আর আমাদের কিছু করার নেই।


মন্তব্য