kalerkantho


পরিবহনে বাড়তি ওজনে জ্বালানি খরচ বাড়ে

শওকত আলী   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



পরিবহনে বাড়তি ওজনে জ্বালানি খরচ বাড়ে

একটি ট্রাক যখন রাস্তায় ছুটে চলে তখন তার নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা থাকে। অর্থাৎ ট্রাকটি একটি নির্ধারিত ওজনের সমপরিমাণ জিনিস বহন করতে সক্ষম।

কিন্তু যখন সেটি ধারণক্ষমতার বেশি ওজন বয়ে নিয়ে যায় তখনই ঘটে নানা ধরনের বিপত্তি। সবচেয়ে বড় বিপত্তি ঘটে জ্বালানি ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে ওই গাড়িটির জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। তবে গাড়িটি বেশি জ্বালানি খরচ করলেও এ সময় ইঞ্জিন সবটুকু জ্বালানি খরচ করতে পারে না, যা কি না পরে কালো ধোঁয়া আকারে নির্গত হয়। আর দেশে যেসব ট্রাক বা লোকাল বাস চলাচল করে সেগুলোর বেশির ভাগই বয়ে চলে বাড়তি ওজন। বিএসটিআই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

যেসব পরিবহন অতিরিক্ত ওজন বহন করে সেগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করে জ্বালানির মাধ্যমে। বাড়তি ওজনের কারণে গাড়ি তার নির্ধারিত গতির চেয়ে কম গতিতে চলে। এতে করে কিছু জ্বালানি ঠিকঠাক মতো পুড়তে পারে না।

সেগুলো গাড়ি থেকে কালো ধোঁয়া আকারে নির্গত হয়। নির্গত এই কালে ধোঁয়া বা কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ।

আবার রাস্তার ওপর দিয়ে অতিরিক্ত ওজন বহনের কারণে বাড়তি চাপ ও বাড়তি ঘর্ষণ তৈরি হয়, যা কি না রাস্তার ক্ষতি করে। এভাবে একটি রাস্তায় নিয়মিত বাড়তি ওজনের গাড়ি চললে রাস্তার স্থায়িত্বও কমে আসে। গড়ি ও গাড়ির চাকার স্থায়িত্বও কমে যায়। আবার এ ধরনের গাড়ি কম গতিতে একটি দ্রুতগামী রাস্তায় চলাচল করলে অন্য গাড়ির স্বাভাবিক যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করে, যা রাস্তায় নানা ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, বেশির ভাগ ট্রাকই তাদের নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বাড়তি ওজনের পরিবহনের জন্য বডির চওড়াটা বাড়িয়ে নেয়। এতে করে রাস্তায় যেটুকু জায়গাজুড়ে গাড়িটি চলার কথা তার চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে। ঢাকায় চলাচলকারী সব বাস লোকাল ও সিটিং দুটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। এসব বাসে অতিরিক্ত মানুষ পরিবহন করার জন্য সংযোজন করা হয় অতিরিক্ত সিট। এভাবে বাড়তি মানুষ নিয়ে বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণেরও কথা জানালেন বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা।

এ দেশে আলাদা আলাদা পার্টস যেগুলো গাড়িতে থাকে সেগুলোর একটি স্ট্যান্ডার্ড থাকলেও একটি পূর্ণাঙ্গ গাড়ির স্ট্যান্ডার্ড কী হবে সেটা নির্ধারণ করার জন্য কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। বিএসটিআই বিভিন্ন সময়ে সভা সেমিনারে বিষয়টি নিয়ে কথা বললেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ বিষয়টি সমাধানে কোনো কাজ শুরু করেনি। আসলে এটা নিয়ে কিভাবে কাজ করা যেতে পারে সেই বিষয়ে এখনো কোনো চিন্তাভাবনাই করেনি প্রতিষ্ঠানটি। যেখানে মেট্রোলজি নামের প্রতিষ্ঠানটির আলাদা একটি বিভাগ রয়েছে। আবার এই বিভাগের কার্যকারিতা পরিদর্শনের জন্য রয়েছে ডিএমআই (ডিভিশনাল মেট্রোলজি ইন্সপেকটোরেট)।

ডিএমআইর ডেপুটি ডিরেক্টর মো. রেজাউল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, এ বিষয়গুলো এখনো চিন্তাভাবনার পর্যায়ে রয়েছে। এখনো কোনো পরিকল্পনা বা কাজ শুরুর কোনো প্রক্রিয়া আমাদের নেই। আসলে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্যই আমাদের কাছে নেই। তথ্য না থাকলে তো কোনো পরিকল্পনা করা যায় না।

চলতি বছর সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো করে গত ২০ মে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস পালন করে শিল্প মন্ত্রণালয়াধীন প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই। পরিমাপের শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থা বিআইপিএম (ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব ওয়েট অ্যান্ড মেজারস) ও ওআইএমএলের (ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব লিগ্যাল মেট্রোলজি) যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘মেজারমেন্টস ফর ট্রান্সপোর্ট’ অর্থাৎ ‘পরিবহনের জন্য পরিমাপ’।

তথ্য মতে, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। বাইসাইকেল থেকে শুরু করে কনটেইনার শিপ, গাড়ি থেকে শুরু করে স্পেস ক্রাফট প্রত্যেক ধরনের পরিবহনকে যথাযথ মানের চাহিদা পূরণের জন্য আন্তর্জাতিক বিধিমালার সঙ্গে সংগতি রেখে জাতীয়ভাবেও বিধিমালা তৈরি করতে হবে। এটা করতে সঠিক পরিমাপের মালপত্র পরিবহন নিশ্চিত করা গেলে একদিকে সকল প্রকার পরিবহনের ‘সারফেস ফ্রিকশন’ যেমন কমবে তেমনি জ্বালানিও সাশ্রয় হবে। সেই সঙ্গে বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের আধিক্য কমে আসবে। ফলে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন দ্রুততর হবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মেট্রোলজি বিভাগের পরিচালক আনোয়ার হোসেন মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাছে ধারণাটা নতুন। তাই এখনো কোনো কাজ শুরু হয়নি। তবে এটার গুরুত্ব অনেক। আমরা পরিবহনের অনেক প্রয়োজনীয় বিষয়েই এখনো কাজ শেষ করতে পারিনি। আমাদের যে লোকবল এবং কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে সে ক্ষেত্রে এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করার সুযোগ খুবই সীমিত। তবে এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।


মন্তব্য