kalerkantho


আট বছরেও চালু হয়নি সরকারের তিন কারখানা

ফারজানা লাবনী   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আট বছরেও চালু হয়নি সরকারের তিন কারখানা

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ প্রতিষ্ঠান খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল (কেএনএম), নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল (এনবিপিএম) এবং চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (সিসিসি) চালুতে ২০০৯ সালের ১২ এপ্রিল নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে ‘বন্ধ সরকারি কল-কারখানা চালুতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়ন’ সম্পর্কিত গত জুন মাসে তৈরি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় এসব কারখানা গত আট বছরেও চালু হয়নি।

খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল (কেএনএম) : প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ‘দেশে নিউজপ্রিন্ট কাগজের চাহিদা থাকায় কেএনএম চত্বরে একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, শক্তি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব নিউজপ্রিন্ট কাগজ কল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পিডিপিপি প্রেরণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ অঞ্চলে সার মজুদ এবং সুষ্ঠুভাবে বিতরণের জন্য কেএনএমের অবশিষ্ট জমিতে প্রি ফ্যাব্রিক্যাটেড গোডাউন নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ’

কেএনএমের ৫০ একর জমি (বিদ্যমান গাছপালা ও অন্যান্য স্থপনাসহ) নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানির (নওপাজেকো) কাছে বিক্রির বিষয়ে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘অনুষ্ঠিত ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে সরকারি বিধিবিধান মতো কেএনএমের প্রস্তাবিত ৫০ একর জমির মূল্য নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি কেএনএমের জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে জমির মূল্য ৮১৪ কোটি ৪১ লাখ ৯ হাজার ২৩ টাকা নির্ধারণ করে বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করে। ’ এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল (এনবিপিএম) : প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কারখানাটি ১৯৬৭ সালে পাবনা জেলার পাকশীতে ১৮৮.৪১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কাঁচামাল আখের ছোবড়া। বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ১৫ হাজার টন কাগজ।

কাঁচামালের অভাব এবং ফার্নেস অয়েলের উচ্চ মূল্যের কারণে ক্রমাগত লোকসানে প্রতিষ্ঠানটি পে-অফের আওতায় ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর বন্ধ করা হয়। মিলটি বেসরকারীকরণে চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরপত্র আহ্বানকারী মামলা করে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে মামলার রায় বিসিআইসির পক্ষে যায়। এরপর প্রতিষ্ঠানটি চালু করতে চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট কাগজকলের জায়গায় কাগজকল বা অন্য কোনো শিল্প স্থাপনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী আহ্বান করতে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির জায়গায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কাগজ কল বা অন্য কোনো শিল্প স্থাপনের জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বিসিআইসি আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে কাগজ কলটিতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের জন্য পিডিপিপি প্রণয়ের কার্যক্রমও চলছে। ’

চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (সিসিসি) : শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সিসিসি পুনঃ চালুকরণের নিমিত্ত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির গত ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সভায় চীনের মেসার্স হুহান এনিআং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কম্পানির ক্রয়সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। চুক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করায় ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে। ’

প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ‘কারখানার মেকানিক্যাল কমপ্লিকেশন এবং প্রি কমিশনিং ও কমিশনিংয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর সিসিসি পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করে। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি সিসিসিতে পিজিটিআরের কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু পিজিটিআর চলাকালীন কিছু সমস্যা দেখা দেয়। পিজিটিআর সফল না হওয়ায় দ্বিতীয়বার পিজিটিআরের নিমিত্ত প্লান্ট মেরামত সম্পন্ন করার পর চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল পুনরায় পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন করা হলে গ্যাস লাইন প্রেসারের সমস্যার কারণে চলতি বছরের ৫ মে জিইজি ট্রিপ করে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে চলতি বছরের ৯ জুন পিজিটিআর প্রস্তুতির কার্যক্রম শুরু করা হয় কিন্তু গত ১১ জুন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৩৩ কেভি লাইন বিকল হয়ে যায়। বর্তমানে ৩৩ কেভি লাইন মেরামত করা হলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে পিজিটিআরের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে পিডিবির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ ঠিকাদার ডাব্লিউএএসটিসিএল জানায়, কারখানার বিভিন্ন কারিগরি সমস্যা ও তাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকায় তাদের পক্ষে কারখানা চালু করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ এবং লুব্রিকেন্ট কেনা সম্ভব হচ্ছে না। এতে কারখানাটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। পরে কারখানাটি চালুতে (পিজিটিআর) সম্পাদনে বিসিআইসি চেয়ারম্যান, সিসিসি চেয়ারম্যান এবং সাধারণ ঠিকাদারের সঙ্গে সভা আহ্বান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ’

প্রতিবেদনে এ প্রকল্পের মেয়াদকাল চলতি বছরের এপ্রিল মাস (২০১৭, এপ্রিল) পর্যন্ত উল্লেখ করা আছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির চালুর মেয়াদকাল শেষ হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারি এই তিন প্রতিষ্ঠান চালুতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সামনে রেখে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশা করি এসব প্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব হবে।


মন্তব্য