kalerkantho


দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই চাকরির ব্যবস্থা মেলায়

রফিকুল ইসলাম   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই চাকরির ব্যবস্থা মেলায়

চাকরি মেলায় বিভিন্ন কম্পানিতে নিয়োগ পাবে পাঁচ শতাধিক প্রার্থী। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সরকারি চাকরিতে নিয়োগে সময় লাগে প্রায় দেড় থেকে দুই বছর। এক বছর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে প্রার্থী বাছাইয়ে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা নেওয়া হয় পরের বছর।

আর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পর নিয়োগ পেতে আরো ছয় মাস পেরিয়ে যায়। প্রশাসনিক বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতায় অপেক্ষা শেষ হয় না চাকরিপ্রত্যাশীদের। ব্যক্তি মালিকানাধীন বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা কিছুটা কম হলেও একেবারেই কম না। তবে কোনো দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই চাকরি মিলছে ক্যারিয়ার ফেস্টিভাল ও চাকরি মেলায়। ব্যক্তিগত তথ্য বা জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহের পরদিনই সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে। এতে শত শত প্রার্থীর কোনো অপেক্ষা ছাড়াই মিলছে চাকরি। চাকরিপ্রত্যাশী বেকাররা বলছেন, উদ্যোগটি খুবই ভালো ও আশাব্যঞ্জক। মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পর দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ চূড়ান্ত হলে উদ্দেশ্য সফল হবে। ব্যক্তি মালিকানাধীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বড় চাকরিদাতা। দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ২২ লাখ চাকরির সুযোগ রয়েছে। আর বড় অংশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো ‘বিডিজবস-রাওয়া ক্যারিয়ার ফেস্টিভাল ও জব ফেয়ার’। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এই মেলার আয়োজন করছে বিডিজবস। আগে ক্যাম্পাসভিত্তিক এই মেলার আয়োজন করলেও এখন সবার অংশগ্রহণে বিভাগীয় শহরের সেন্টার পয়েন্টে আয়োজন করছে। এবারের চাকরি মেলায় ৫ শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশী কাজের সুযোগ পাবে। বুধবার চাকরিপ্রত্যাশীদের যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যক্তিগত তথ্য ও জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয় আর গতকাল বৃহস্পতিবার চাকরিপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ঢাকার নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা ছুটে আসে এ জব মেলায়।

আয়োজকরা বলছেন, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ পদ শূন্য থাকলেও চাকরিতে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায় না। চাকরিপ্রত্যাশীরা শুধু সার্টিফিকেটসর্বস্ব হয়ে পড়েছে। বিপরীত পক্ষে চাকরিপ্রত্যাশীরা বলছেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ চাকরি মিলছে না। উচ্চশিক্ষা শেষে বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরতে হয় বছর বছর। চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মেলবন্ধন গড়তেই এই মেলার আয়োজন।

জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও এই চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়। এতে ৫০টির বেশি গ্রুপ অব কম্পানি চাকরির পসরা সাজিয়ে বসে। কম্পানির প্রয়োজন অনুযায়ী পদ ও চাহিদা উল্লেখ করে নিজ নিজ স্টলে বিজ্ঞপ্তি টাঙ্গিয়ে দেয়। সিনিয়র-জুনিয়র বা অভিজ্ঞ ও অনভিজ্ঞ প্রত্যেকের জন্যই চাকরির ব্যবস্থা রাখা হয়। তথ্য সংগ্রহের দিন চাকরিপ্রত্যাশীরা নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী পদের বিপরীতে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেয়। আর জীবনবৃত্তান্ত বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীকে সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণে ডেকেছে কম্পানি।

এবারের চাকরি মেলা উপলক্ষে এক সপ্তাহ আগে অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম চালু ছিল। ২০১৬ সালে এই মেলা অংশগ্রহণে ইচ্ছা পোষণ করেছিল সাড়ে ৫ হাজার। তবে এবার ২০১৭ সালে অনলাইনে নিবন্ধন করে সাড়ে ১৪ হাজার। মেলার উদ্বোধনের দিন চাকরিপ্রত্যাশীরা ঘুরে ঘুরে বিজ্ঞপ্তি দেখে জীবনবৃত্তান্ত দিয়েছে। বছর বছর এই মেলার সাড়া বাড়ছে বলে জানান আয়োজকরা।

মেলা প্রাঙ্গণে চাকরি প্রত্যাশীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতোই। কেউ মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে আবার কেউ অংশ নিতে অপেক্ষা করছে। আর কেউ কেউ মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে চলে আসছে। চাকরিপ্রত্যাশীদের সুবিধার্থে মেলাপ্রাঙ্গণে মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে কম্পানি।

কয়েকজন চাকরিপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি চাকরি কিংবা অন্যান্য চাকরির নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে আবেদন, পর বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পাওয়া বেশ সময়সাপেক্ষ। অনেক প্রতিষ্ঠানে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পরও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে অনেক সময় ক্ষেপণ করে। এ ছাড়া দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি তো রয়েছেই। যোগ্য প্রার্থীর চেয়ে স্বজনপ্রীতিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয় এমন অভিযোগ অনেকেরই।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিবুল আলম এসেছিলেন চাকরি মেলায়। চাকরি প্রসঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দিন দিন বেকারত্বের হার বাড়ছেই। উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পরও ভালো চাকরি মিলছে না। অনেকে ভালো ফল করলেও কাজে আসছে না। বিশেষ করে দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতিতে অনেক যোগ্যরা বাদ পড়ছেন। আর বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে চাকরি পেতে হচ্ছে। আর রয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। সেই হিসেবে এই মেলা চাকরিপ্রত্যাশী বেকারদের জন্য খুবই ফলপ্রসূ। নিজ নিজ খাতে যোগ্যরা যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাচ্ছেন। ’

বিডিজবসের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা প্রকাশ রায় চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চাকরি মেলা চাকরিপ্রত্যাশী ও চাকরিদাতার মধ্যে মেলবন্ধন সৃষ্টি করবে। সময় ক্ষেপণ ছাড়াই সহজেই যোগ্য প্রার্থীরা কাজের সন্ধান পাচ্ছেন। ’


মন্তব্য