kalerkantho


জলবায়ু তহবিলের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জলবায়ু তহবিলের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি

গতকাল টিআইবির জলবায়ুবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংলাপে বক্তারা

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে প্রয়োজনীয় জলবায়ু তহবিল প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তাঁরা এই তহবিলের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, নাগরিক অংশগ্রহণ ও শুদ্ধাচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

দক্ষিণ এশিয়ার সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে জরুরিভাবে সামষ্টিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। জার্মানভিত্তিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত দুই দিনের জলবায়ুবিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সংলাপের শেষ দিন মঙ্গলবার বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো প্রশমন অপেক্ষা অভিযোজনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে। তাই এ অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রয়োজন পূরণে সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মসূচির মূলধারায়ও অভিযোজনকে সন্নিবেশ করতে হবে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গত সোমবার ‘জলবায়ু পরিবর্তনে অভিযোজন তহবিল ২ : জলবায়ু অর্থায়ন ও সুশাসন বিষয়ে ইন্টিগ্রিটি ডায়ালগ’ শীর্ষক দুই দিনের এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপ, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। সংলাপে মূল উদ্দেশ্য ছিল তিনটি। তা হচ্ছে—জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা, সুশাসনের আলোকে এসডিজি-১৩ (টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট) ও প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে আঞ্চলিক প্রচেষ্টার সম্ভাব্য ক্ষেত্র ও উপায় অনুসন্ধান।

মঙ্গলবার সংলাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের উপমহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (জ্যেষ্ঠ) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

ধন্যবাদ জানান টিআইবির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের। সম্মানিত অতিথি বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্যের সংস্থা ডিএফআইডির বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সুশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও সুশাসন বিষয়ক দলনেতা আইসলিন বেকার। ইকবাল হোসেন অনুষ্ঠানে জানান, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জলবায়ু তহবিলের ওপর ছয়টি অডিট প্রতিবেদন আলোচিত হয়েছে এবং আরো কয়েকটি প্রকল্পের অডিট বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। ড. ইফতেখারুজ্জামান জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শুদ্ধাচার নিশ্চিতে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং এ খাতে তহবিল প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন।

আইসলিন বেকার বলেন, জলবায়ু বিবর্তনের সংকট মোকাবেলায় বৈশ্বিক অঙ্গীকারের প্রতি যুক্তরাজ্য শ্রদ্ধাশীল হয়ে ২০১৬-২০২১ পর্যন্ত ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। বাংলাদেশের জলবায়ু তহবিলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাজ্য উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে উল্লেখ করে তিনি জলবায়ু অর্থায়নের স্বচ্ছতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনে সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর আগে টিআইবির উদ্যোগে গত বছরের মার্চে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিষয়ে প্রথম ‘ঢাকা ইন্টিগ্রিটি ডায়ালগ’ অনুষ্ঠিত হয়।


মন্তব্য