kalerkantho


এমসিসিআইয়ের সভায় জ্বালানি উপদেষ্টা

আগামী বছর থেকে জ্বালানি সংকট মেটাবে এলএনজি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আগামী বছর থেকে জ্বালানি সংকট মেটাবে এলএনজি

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রধান সংকট জ্বালানির চাহিদা মেটাতে উদ্যোক্তাদের স্বল্প সময়ের মধ্যে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, আগামী বছরের শুরুতেই এলএনজি আমদানি হবে এতে আর গ্যাসের সংকট থাকবে না।

গতকাল বুধবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) মধ্যাহ্নভোজের সভায় তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এসব কথা বলেন। এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি তপন চৌধুরী, সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সাবেক সহসভাপতি আনিস এ খান এবং ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম।

ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেন, আগামী ৫-৬ বছরে জ্বালানি খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হবে। ফলে শিল্প ও গ্রাহক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। শিল্পের জন্য গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোরও চেষ্টা করছে সরকার। আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যে উদ্যোক্তাদের এলএনজি দিতে পারব। দামও সাধ্যের মধ্যেই থাকবে। দাম নিয়ে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ক্যাপটিভ জেনারেটরের মাধ্যমে যারা শিল্প-কারখানায় বিদ্যুতের চাহিদা মেটান তাঁদের জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে হবে।

এ জন্য প্রযুক্তির উন্নয়ন করতে হবে। এটা করা সম্ভব হলে অনেক জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে প্রধানমন্ত্রীর নানা অবদানের কথা উল্লেখ করে ড. তৌফিক-ই-এলাহী বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। সোলার এনার্জিতেও আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। আগামী বছর প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হবে। তবে শিল্প খাতের প্রত্যাশিত উন্নয়নের জন্য জ্বালানি খাতে আমাদের আরো এগোতে হবে। এ জন্যই এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।

তপন চৌধুরী বলেন, এলএনজি গ্যাসের টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু উদ্যোক্তারা আসলে কবে থেকে এ গ্যাস পাবেন, এর দাম কেমন হবে এটা জানা দরকার। এলএনজির দাম স্থিতিশীল থাকবে কি না, এ বিষয়েও উদ্যোক্তাদের স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। না হলে এগুলোর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আসিফ ইব্রাহিম বলেন, এলএনজির দাম নিয়ে সরকারের নীতিমালা কী। অন্তত কয়েক বছরের জন্য এর দাম কেমন হবে তা স্পষ্ট করা উচিত। এ প্রসঙ্গে ড. তৌফিক-ই-এলাহী বলেন, মধ্য মেয়াদে এলএনজির দাম সাধ্যের মধ্যেই থাকবে। পাশাপাশি এলএনজির দাম স্থিতিশীলও থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে নিহাদ কবির বলেন, ২০০৯ সালেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। এখন সেটি ১৫ হাজার ৩৭৯ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এর পরও শিল্পে মানসম্মত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। আধুনিক যন্ত্রপাতি এ বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে চালানো যায় না। ফলে শিল্প উদ্যোক্তাদের ক্যাপটিভ জেনারেটরের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে খরচ বেড়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছি আমরা। নিহাদ কবির বলেন, শিল্প খাতের উন্নয়নের জন্য মানসম্মত গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে, স্থিতিশীলতা থাকতে হবে এবং ঘন ঘন জ্বালানির দাম বাড়ানো যাবে না।

সমাপনী বক্তব্যে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘আমাদের জ্বালানি দরকার, প্রয়োজনীয় জ্বালানি দিন এবং নায্য দামে দিন।


মন্তব্য