kalerkantho


কমানো হচ্ছে ঋণের সুদহার

মেয়াদ বাড়ছে শেয়ারবাজারের ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা তহবিলের

রফিকুল ইসলাম   

২৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



মেয়াদ বাড়ছে শেয়ারবাজারের ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা তহবিলের

২০১০ সালে পুঁজিবাজারের ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় গঠিত ফান্ডের ঋণে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় আবারও এই ফান্ডের মেয়াদ বাড়ছে। একই সঙ্গে কমানো হচ্ছে সহায়তার ঋণে সুদের হারও।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এসংক্রান্ত একটি সুপারিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই নির্দেশনা জারি করবে মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর সহায়তায় এই ফান্ডটি শুরুতে ভালোই সাড়া পায়। মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী ঋণ নিয়ে আবার অনেকে ফেরত দিয়েছে। পুনরায় অর্থায়নে ফান্ডটির মেয়াদ শেষ হতে চললে অর্থ ফেরত দিতে বাধ্যবাধকতা ও ব্যাংকের ঋণেও সুদহার কমে যওয়ায় বিনিয়োগকারীর আগ্রহ কমে যায়। ইতিমধ্যে ফান্ডটির মেয়াদ কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। যার মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর কথা ও পুঁজিবাজারকে গতিশীল করা চিন্তা থেকে ফান্ডটির মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ফান্ডটির মেয়াদ ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার পরিবর্তে ২ বছর সময় বাড়ানো হবে।

আর সুদহার ১.৫ শতাংশ কমিয়ে ৬ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই প্রস্তাবনা গৃহীত হলে ফান্ডটির মেয়াদ দাঁড়াবে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর। আর সুদহার দাঁড়াবে ৬ শতাংশে। এ ছাড়া যেসব ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী একবার ঋণ নিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে তারাও আবার ঋণ নিতে পারবে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী উপকৃত হবে আর বাজারও গতিশীল হবে বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণের হার এক ডিজিটে। অর্থাৎ ১০ শতাংশের কম। চলতি বছরের জুন মাস শেষে ব্যাংকগুলোর গড় সুদের হার ৯.৫৬ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে গড় সুদহার ৮.৬৬ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকে ৯.১০ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংকে ৭.৮৬ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকে গড় সুদহার ৯.৮৮ শতাংশ। সেই হিসাবে ব্যাংকঋণের চেয়ে ৬ শতাংশ সুদে ফান্ডটির ঋণে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী উপকৃত হবে এমন আশা পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টদের।

আইসিবি সূত্র জানায়, তহবিলসংক্রান্ত তদারকি কমিটি ও আইসিবি ফোনালাপ, পত্রযোগাযোগ ও ডোর টু ডোর যোগাযোগের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ বিষয়ে জানিয়েছে। পুুঁজি হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত কিছু বিনিয়োগকারী এই ঋণ সহায়তা নিলেও অনেকে নেয়নি। পুনর্নিয়োগ হিসেবে এই ঋণ পুঁজিবাজারে ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা থাকায় ওই সময়ে মন্দা বাজারে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করার পর সুদসহ অর্থ ফেরত দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায়নি। এ কারণেই অব্যবহৃত থেকে গেছে ফান্ডটির অর্থ।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিনিয়োগকারীর কথা চিন্তা করে ফান্ডটির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুদহার হ্রাস ও ২০১৯ সাল সময় বাড়ানোর সুপারিশ করেছি। ফান্ডটি বিনিয়োগকারীর জন্য বেশ উপকার বয়ে আনলেও মেয়াদ শেষ ও ব্যাংকের সুদহার কমে যাওয়ায় আগ্রহ কমে যায়। অনেকের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ফিরিয়ে দেওয়া বাধ্যবাধকতায় কম সময় থাকায় অনেকে আগ্রহ দেখায়নি। এই সময় বাড়ানো হলে উপকৃত হবে বিনিয়োগকারীরা। ঋণ নিয়ে পুনরায় বিনিয়োগ করতে পারবে। ’

সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে সাতটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে ৭৫১ বিনিয়োগকারীর ২৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা ছাড় হলেও নিতে আসেনি। এক বছরের মধ্যে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় করণীয় সম্পর্কে এবং ফান্ডটির বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে চলতি বছরের শুরুর দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় ফান্ড তদারককারী প্রতিষ্ঠান আইসিবি।

চিঠিতে বলা হয়েছিল, ফান্ডটির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। আগে ঋণগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় তিন বছর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছে। সর্বোচ্চসংখ্যক কিস্তিতে ঋণও পরিশোধ করেছে। এই সময়ে নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঋণ প্রদানের পর পরিশোধের সময় খুব কম। পরিশোধ করতেও কম সময় পাবে বিনিয়োগকারীরা। কাজেই বিনিয়োগকারীরা পুনরায় এই ঋণ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ’

সূত্র জানায়, কয়েক দফা মেয়াদ, সুদহার ও ঋণ পরিশোধে সময়সীমা বাড়ানো হলেও ফান্ডটির ঋণে যথাযথ সাড়া পায়নি সংশ্লিষ্টরা।


মন্তব্য