kalerkantho


চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট

বিদেশে আটকা আছে দেশের অনেক আমদানি কনটেইনার

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



বিদেশে আটকা আছে দেশের অনেক আমদানি কনটেইনার

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজটের ফলে শ্রীলঙ্কার কলম্বো, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং বন্দরে বিপুল আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার আটকা পড়েছে। সঠিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরমুখী জাহাজে তুলতে না পারায় এসব কনটেইনার সর্বনিম্ন আট থেকে সর্বোচ্চ এক মাস সেই বন্দরগুলোতে পড়ে আছে।

এসব পণ্যের মধ্যে আছে ভোগ্য পণ্য গম, ছোলা, তৈরি পোশাক ও বিভিন্ন ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, স্টিল সামগ্রী।

এসব কনটেইনার দেশে আনতে চট্টগ্রাম বন্দর নতুন জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে না। এতে করে আমদানিকারকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন, বিশেষ করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন রপ্তানিমুখী শিল্প মালিকরা। এই অবস্থায় বিদ্যমান জাহাজের পরিবর্তে বড় জাহাজ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে শিপিং কম্পানিগুলো।

আর বন্দর কর্তৃপক্ষ বর্তমানে চলাচলকারী জাহাজ দিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে। জানতে চাইলে সিএমএ-সিজিএম শিপিং লাইনের মহাব্যবস্থাপক ওয়াহিদুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে আসা কনটেইনার জাহাজগুলো গড়ে দেড় হাজার একক কনটেইনার পরিবহন করে থাকে, এখন জাহাজ পরিবর্তন করে বড় জাহাজ দিয়ে ২৬০০ একক পর্যন্ত কনটেইনার পরিবহন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। ’

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর ও পোর্ট কেলাং বন্দর মিলে আমার তিন হাজার একক পণ্যভর্তি কনটেইনার সাত থেকে আট দিন ধরে আটকা পড়েছে। সেগুলো আনতে বন্দর তো নতুন জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে না। তাই জাহাজের ক্যাপাসিটি বাড়িয়ে আটকা পড়া পণ্য আনা ছাড়া বিকল্প নেই।

শিপিং লাইনগুলো জানায়, শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে মেডিটারিয়ান শিপিং লাইনের (এমএসসি) সাত হাজার পণ্যভর্তি কনটেইনার প্রায় এক মাস ধরে আটকা পড়েছে। আটকা পড়া পণ্যের মধ্যে বড় একটি চালান আছে দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এসিআই গ্রুপের। ২৫ জুলাই কলম্বো বন্দরে নামার পর ৩৮ একক কনটেইনার শুষুধশিল্পের কাঁচামাল এক মাস পর ২৪ আগস্ট সেই বন্দর থেকে জাহাজীকরণের শিডিউল পায়। কিন্তু বিদেশি ক্রেতার অর্ডার বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে এসিআই গ্রুপ দ্রুত পণ্য আনতে চাপ দিতে থাকে। এ অবস্থায় এক সপ্তাহ আগে গত ১৭ আগস্টের একটি জাহাজে অন্য একটি আমদানিকারকের পণ্য জাহাজ থেকে নামিয়ে এসিআই পণ্য তোলা হয়। এ জন্য এসিআই গ্রুপকে বাড়তি মাসুল গুনতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, এসিআই গ্রুপের ৩৬ একক কনটেইনার ৪ আগস্ট কলম্বো বন্দরে পৌঁছেছে কিন্তু সেই পণ্য ২ সেপ্টেম্বরের আগে সেখান থেকে জাহাজীকরণের সুযোগ নেই। অর্থাৎ পণ্য আসার পর প্রায় এক মাস লাগছে জাহাজে তুলতে।

জানতে চাইলে মেডিটারিয়ান শিপিং কম্পানির (এমএসসি) সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) আজমীর হোসাইন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এসিআই কম্পানির বারবার তাগাদার পর বিশেষ ব্যবস্থায় সেগুলো জাহাজীকরণ করা হয়েছে। কিন্তু সব সময় তো আর সম্ভব নয়। এ জন্য আটকাপড়া পণ্য দ্রুত আনতে নির্ধারিত জাহাজের বাড়তি আমরা নতুন একটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি চেয়েছি চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে, কিন্তু এখনো অনুমতি মেলেনি। ’

একাধিক শিপিং লাইন কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে একমাত্র সমাধান বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় কমাতে হবে। বড় জাহাজ দিয়ে, নতুন জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে সাময়িক সমাধান মিলতে পারে কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সুফল মিলবে না। বড় জাহাজ বন্দর জেটিতে প্রবেশেরও একটা সীমা আছে। আর নতুন জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও বন্দর যদি জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় কমাতে না পারে তাহলেও সুফল মিলবে না।

এ বিষয়ে ওরিয়েন্ট ওভারসিস কনটেইনার লাইন (ওওসিএল) ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদেরও প্রচুর কনটেইনার সিঙ্গাপুরে আটকা পড়েছে। সিঙ্গাপুরে আসার পর ২০-২২ দিন পর সেগুলো চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে। কারণ চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে এখনো ৬ দিন অপেক্ষার পর একটি কনটেইনার জাহাজ ভিড়তে পারছে। সমস্যার উত্তরণে বন্দরকে বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় কমাতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। ’

বন্দরের গতকালের বার্থিং লিস্ট অনুযায়ী একটি কনটেইনার জাহাজ বহির্নোঙরে ৪ থেকে ৬ দিন অপেক্ষার পর জেটিতে ভেড়ার সুযোগ পেয়েছে। আর একটি ক্রেনবিহীন জাহাজ আট দিন বহির্নোঙরে অপেক্ষার পর জেটিতে ভিড়তে পারছে।

পরিস্থিতি উত্তরণে বন্দরের পদক্ষেপ জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) গোলাম সারোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যে হারে আমদানি বেড়েছে সে হারে তো জেটি বাড়েনি। এর পরও সীমিত ক্ষমতা দিয়ে আমরা উৎপাদনশীলতা সর্বোচ্চ রাখার চেষ্টা করছি। ’

তিনি বলেন, নতুন জাহাজ অনুমতির বদলে আমরা নির্ধারিত জাহাজ পরিচালনা করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করব। জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় কমিয়ে আনব।


মন্তব্য