kalerkantho


ডিএসইর সঙ্গে লেনদেনের ব্যবধান বাড়ছেই

চট্টগ্রামের বড় শিল্প গ্রুপগুলোকে পুঁজিবাজারে চায় সিএসই

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২১ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রামের বড় শিল্প গ্রুপগুলোকে পুঁজিবাজারে চায় সিএসই

প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সঙ্গে লেনদেনের ব্যবধান কমাতে পদক্ষেপের অন্ত নেই চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষের। গত ১ জুলাই থেকে বাল্ক ও বৈদেশিক লেনদেনের ওপর থেকেও এক দফা চার্জ কমিয়েও অবস্থার খুব বেশি উন্নতি হয়নি।

তাই সর্বশেষ গত ২ আগস্ট চট্টগ্রামকেন্দ্রিক দেশের একাধিক বড় শিল্প গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক করেছে সিএসই কর্তৃপক্ষ। একাধিক ইস্যু থাকলেও বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল সিএসইতে লেনদেন বাড়াতে করণীয় এবং এই গ্রুপগুলোকে পুঁজিবাজারে লেনদেনে সিএসইতে অংশগ্রহণ বাড়ানো। চট্টগ্রামের র‌্যাডিসন বু্ল বে-ভিউ হোটেলে রাতের বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ডিএসই ও সিএসইর বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি মাসের শুরুর দিকে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার। একই দিন সিএসইতে ৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা ডিএসইর লেনদেনের মাত্র ৫.৯০ শতাংশ। এই সপ্তাহে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে লেনদেনের সবচেয়ে বেশি পার্থক্য ছিল ১ আগস্ট। এদিন ডিএসইর ১২৩৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা লেনদেনের বিপরীতে সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৬২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। লেনদেনের পার্থক্য ৫.০৫ শতাংশ। অথচ বছর দেড়েক দেড়েক আগেও লেনদেনের গড় পার্থক্য ছিল ১০ শতাংশ।

গত ১৭ আগস্ট অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সিএসইর একটি প্রতিনিধিদল দেখা করেছে। সেখানে সিএসইর মার্কেট শেয়ার নিয়ে আলোচনা হয়।

লেনদেনে দিন দিন পিছিয়ে পড়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে গত ১ জুলাই থেকে বাল্ক ও বৈদেশিক লেনদেনে (৫০ লাখ টাকার উপরে) চার্জ কমিয়ে লাখে ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল লাখে ৬০০ টাকা। কিন্তু এর পরেও লেনদেন পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি।

লেনদেনসংক্রান্ত জটিলতা চিহ্নিত করতে এবং সিএসইতে বড় গ্রুপগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে গত বুধবার হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু বে-ভিউতে বসেছিলেন সিএসই কর্তৃপক্ষ। সিএসই চেয়ারম্যান জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেনের সভাপতিত্বে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদারের পরিচালনায় সভায় শীর্ষ ব্যবসায়ীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলিহুসেইন আকবরআলি, আবুল খায়ের গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ চৌধুরী, বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বাশার চৌধুরী, টিকে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম, পিএইচপি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন, এস আলম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, মীর গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর আব্দুস সালাম। এ ছাড়া ইস্পাহানী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএসইর পরিচালক মির্জা সালমান ইস্পাহানী এবং সিএসই পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কিভাবে এসব খ্যাতিসম্পন্ন শিল্প গ্রুপগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। বন্দর নগরী চট্টগ্রামকে দেশের পুঁজিবাজারে তথা সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নতির জন্য কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে ব্যাপারেও আলোচনা করা হয়। সিএসই চেয়ারম্যান পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেট উন্নতির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ কামনা করেন।

সভায় উপস্থিত পিএইচপি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সেখানে আসলে অনেক বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। মূল আলোচনা ছিল সিএসইতে লেনদেন কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে। আমরা আমাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। আমার বক্তব্যে বলেছি, শেয়ারবাজারে বড় কম্পানিগুলো এলে তাতে প্রতিষ্ঠানেরই লাভ। মানুষের টাকাও অলস পড়ে থাকে না। একই সঙ্গে কম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপরও দায়বদ্ধতা আরো বাড়ে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকে। ’

লেনদেন কমার জন্য ডুয়েল মেম্বার (যে ব্রোকারেজ হাউসে ডিএসই এবং সিএসই উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য) ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অনেকটা দায় আছে বলে সিএসই সূত্রে জানা যায়। আগে সিএসই প্রাত্যহিক লেনদেনের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ লেনদেন হতো এই ডুয়েল সদস্যদের কাছ থেকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেটা কমে ২০ থেকে ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সিএসই পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ডিএসইর প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। সেখানে সিএসইর শেয়ার কিভাবে আরো বাড়ানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে আমরা তাঁদের বলেছি, আপনারা তো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছেন, কিন্তু সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কেন কম? জবাবে তাঁরা অভিযোগ দিয়েছেন ডিএসইতে ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়। কিন্তু সিএসইতে অর্ডার দিয়ে বসে থাকতে হয়। এই অভিযোগ থেকে উত্তরণের উপায় জানতে চেয়েছি। ’

তিনি সাম্প্রতিক চীনের সাংহাই শেয়ারবাজার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ‘চীনের রাজধানী পেইচিং হলেও তাদের মূল শেয়ারবাজার সাংহাইয়ে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজার নিউ ইয়র্কে এবং ভারতের প্রধান শেয়ারবাজার রাজধানী দিল্লিতে নয়, বরং বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে। কিন্তু বাংলাদেশে সব কিছু রাজধানীকেন্দ্রিক। আমাদের এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ’


মন্তব্য