kalerkantho


এশিয়ায় ভোক্তা আস্থা সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



এশিয়ায় ভোক্তা আস্থা সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থান ও শেয়ারবাজারে ইতিবাচক অগ্রগতির মধ্য দিয়ে এশিয়ায় ভোক্তা আস্থা সূচকে কিছুটা এগিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল বুধবার আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান মাস্টারকার্ড প্রকাশিত ‘মাস্টারকার্ড ভোক্তা আস্থা সূচক’ শীর্ষক এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

এতে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী দেশ হিসেবে শীর্ষ পাঁচে রয়েছে বাংলাদেশ।

জরিপে সবচেয়ে বেশি আস্থা বা আশাবাদ দেখা গেছে কম্বোডিয়ার ভোক্তাদের মধ্যে। বদৌলতে দেশটির ভোক্তা আস্থা সূচক দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ১ পয়েন্ট। এবারের জরিপে এটিই কোনো দেশের সর্বোচ্চ স্কোর। কম্বোডিয়ার পরের চারটি স্থানে অর্থাৎ শীর্ষ পাঁচে রয়েছে ভিয়েতনাম (স্কোর ৯০ দশমিক ৮ পয়েন্ট), বাংলাদেশ (৮৯ দশমিক ৪ পয়েন্ট), ফিলিপাইন (৮৮ দশমিক ৮ পয়েন্ট) ও চীন (৮৮ দশমিক ২ পয়েন্ট)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮টি এশিয়া প্যাসিফিক বাজারের ১১টির মধ্যে ভোক্তা অনুভূতি স্থিতিশীল রয়েছে। পাঁচটিতে অগ্রগতি হয়েছে এবং দুটির ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে। গত ছয় মাসে বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে ৬.৬ পয়েন্ট। সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৬.৭ পয়েন্ট।

তবে দেশটির সার্বিক স্কোর ৭৮.০ পয়েন্ট।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক ভোক্তা আস্থা ৬৬.৯ পয়েন্ট। ছয় মাস আগের ৬২.৭ পয়েন্ট থেকে সামান্য উন্নতি হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ারবাজারে অগ্রগতি ৭.৩ পয়েন্ট এবং কর্মসংস্থানে ৫.১ পয়েন্ট।

জরিপে ভারতের স্কোরই সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৩ পয়েন্ট কমেছে। তা সত্ত্বেও দেশটির ভোক্তা আস্থা সূচক আশাব্যঞ্জক অবস্থায় রয়েছে। ভারতের স্কোর হলো ৮৬ পয়েন্ট। মিয়ানমারের ভোক্তা আস্থা সূচক কমেছে ৬ পয়েন্ট। জরিপ মতে, ভারতে কোয়ালিটি অব লাইফ বা জীবনযাত্রার মান নিয়ে এবং মিয়ানমারে শেয়ারবাজার নিয়ে নৈরাশ্য বা হতাশার কারণেই মূলত ভোক্তা আস্থা সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

চলতি ২০১৭ সালের এপ্রিল ও জুন মাসে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৮টি বাজার বা দেশের মোট ৯ হাজার ১৫৩ জন্য ব্যক্তির ওপর এ জরিপ পরিচালিত হয়; যাদের বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছর। এসব মানুষকে তাঁদের নিজ নিজ দেশের পাঁচটি অর্থনৈতিক উপাদান বা বিষয় সম্পর্কে ছয় মাসের পূর্বাভাস জানাতে বা ভবিষ্যৎ বাণী করতে বলা হয়। বিষয়গুলো হচ্ছে অর্থনীতি, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, নিয়মিত বা দৈনন্দিন আয়ের সম্ভাবনা, শেয়ারবাজার ও জীবনযাত্রার মান। শূন্য থেকে ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে এই সূচকের পয়েন্ট হিসাব করা হয়। এর মধ্যে শূন্য হলো একেবারে নিরাশার বা চরম হতাশাপূর্ণ, ১০০ হলো সর্বোচ্চ আশাবাদে পরিপূর্ণ এবং ৪০ থেকে ৬০ হচ্ছে নিরপেক্ষ অবস্থান।

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ কিছু সমস্যার মধ্যে থাকলেও সার্বিকভাবে ভোক্তা আস্থা সূচক বেড়েছে। তবে কম্বোডিয়া, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ও ফিলিপাইন প্রভৃতি উদীয়মান অর্থনীতির সহন ক্ষমতা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। সে জন্য এসব দেশের আগামী ছয় মাসের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে জনগণও বেশ আশাবাদী। এশিয়ার উদীয়মান দেশগুলোর সুবাদে সার্বিকভাবে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন অব্যাহত থাকলেও সরকার ও ব্যবসায়িক খাতের আরো স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়া দরকার। সেই সঙ্গে বাইরের আঘাত বা অভিঘাত মোকাবেলায়ও জোর দিতে হবে। ’

ভোক্তা আস্থা জরিপে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, হংকং, তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার।

মাস্টারকার্ড ইনডেক্স অব কনজ্যুমার কনফিডেন্স জরিপটি ২০ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে এশিয়া প্যাসিফিকের বিভিন্ন অঞ্চলে করা হয়। জরিপটি ১৯৯৩ সালের প্রথমার্ধে শুরু হয় এবং বছরে দুবার করা হয়ে থাকে।


মন্তব্য