kalerkantho


তিন মাসে কোটিপতি ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৩৭৫৯টি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



তিন মাসে কোটিপতি ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৩৭৫৯টি

২০১৬ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা থাকা হিসাবসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৭৯৭টিতে। তিন মাসের ব্যবধানে নতুন কোটিপতি আমানত হিসাব যুক্ত হয়েছে তিন হাজার ৭৫৯টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকে ৬৫ হাজার ৭৯৭টি হিসাবে এক কোটি থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ৫১ হাজার ৭৮১ জন। ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা জমা থাকা হিসাবসংখ্যা ছিল সাত হাজার ৬৬৬টি। ১০ থেকে ২০ কোটি টাকা জমা থাকা হিসাবসংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬৩৪টি।

২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা থাকা হিসাবসংখ্যা ছিল এক হাজার ২১৩টি। ৩৫ কোটি টাকারও বেশি আমানত রাখা হিসাব ছিল ১৯২টি। ৪০ কোটি টাকারও বেশি আমানত হিসাব ছিল ৩১৪টি। ৭৬৯টি হিসাবে ৫০ কোটি টাকারও বেশি জমা ছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে কোটি টাকার বেশি আমানত হিসাব ছিল ৬২ হাজার ৩৮টি।

ওই সময় ৫০ কোটি টাকার ওপরে জমা থাকা আমানত হিসাব ছিল ৭০২টি। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এই হিসাব বেড়েছে ৬৭টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর শেষে কমপক্ষে এক কোটি টাকা আমানত রাখা হিসাবসংখ্যা ছিল ৪৮ হাজার ৮৯৭টি। তিন মাসের ব্যবধানে (২০১৬ সালের ডিসেম্বরে) এই সংখ্যা বেড়ে হয় ৫১ হাজার ৭৮১টি। ৪০ কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ আমানত রাখা হিসাবসংখ্যা বেড়েছে ৩৭টি। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ৩০ কোটি টাকার বেশি আমানত হিসাবের সংখ্যা ২৫টি কমলেও ৩৫ কোটি টাকার বেশি আমানত হিসাব বেড়েছে ৩৪টি, ২৫ কোটি টাকার আমানত হিসাব বেড়েছে ৪৯টি, ২০ কোটি টাকার বেশি আমানত হিসাব বেড়েছে ৬৩টি। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক গঠনের পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতির হিসাবসংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচটি। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭টিতে। ১৯৮০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৮টিতে। পরবর্তী সময়ে দেশে কোটি টাকার বেশি জমা থাকা হিসাবসংখ্যা শুধুই বেড়েছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, এই হিসাবগুলো সবই বেসরকারি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়। এখানে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরের ব্যাংক হিসাবও এই পরিসংখ্যানের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে এমনটা বলা যাবে না। এ ছাড়া একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা থাকতে পারে। তাই হিসাবসংখ্যা বাড়লেই কোটিপতি ব্যক্তি বাড়ছে এমনটাও বলা যাবে না। এর জন্য হিসাবধারীর তথ্য দরকার, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক সেই তথ্য প্রকাশ করে না। শুধু আমানতের পরিমাণের ভিত্তিতে হিসাবসংখ্যার একটি তথ্য প্রকাশ করে।

 


মন্তব্য