kalerkantho


ডিসিসিআইয়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

বিনিয়োগ বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



বিনিয়োগ বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিতে হবে

ডিসিসিআইর গোলটেবিল বৈঠকে গতকাল অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানসহ অন্য বক্তারা

বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩০তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যতায় গুরুত্ব দিতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে এসব পরামর্শ দেন বক্তারা।

‘২০৩০ লক্ষ্যমাত্রা : কৌশলগত অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এ বৈঠকে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে নিয়ে যেতে নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি আবুল কাশেম খান। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, বেজার নির্বাহী প্রেসিডেন্ট পবন চৌধুরী, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান প্রমুখ। এ ছাড়া দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা এই সভায় অংশ নেন।

সভায় বক্তারা বলেন, করপোরেট কর হ্রাস, শুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে উন্নতির দিকে নিতে হবে। বর্তমানে দেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতাকেও কাজে লাগাতে হবে।   

অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সরকারি কাজে অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। দুর্নীতির চেয়েও অপচয় হচ্ছে বেশি। এর চেয়েও বেশি অপচয় কাজ না করে ফেলে রাখা। সেটি অহরহ হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশের চেয়ে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐক্যতা বেশি। ভাষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে একই হওয়ায় এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেক বেশি। দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ’

ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবেই এগিয়ে চলছে। উদ্যোক্তা বাড়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সূচকেও এগিয়েছে দেশ। দেশের উন্নতির জন্য সমস্যা চিহ্নিত করে কাজ করতে হবে। এলডিসিভুক্ত দেশের তালিকা থেকে বের হতে সমন্বিত অর্থনীতি প্রয়োজন।

মোয়াজ্জেম হোসেন আরো বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশের মধ্যে বাংলাদেশেই করপোরেট কর সবচেয়ে বেশি। অন্য দেশে এত বেশি করপোরেট কর নেই। এই কর কমলে ব্যবসার প্রসার সম্ভব। করের টাকা ব্যবসায় খাটিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো যেতে পারে। এই করহার কমিয়ে ব্যক্তি কর বাড়ানোর বিষয়ে ভাবা যেতে পারে। তিনি বলেন, এক-তৃতীয়াংশের বেশি রেজিস্টার্ড বা জয়েন্ট স্টক কম্পানি কর দেয় না। এটা কোনোমতেই ঠিক নয়। এ বিষয়ে ভাবতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।

সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্ত সম্পর্কের দুয়ার খুলেছে। আঞ্চলিক সহযোগিতায় সড়কপথে ও করিডরের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেটিকে কাজে লাগাতে হবে। দেশের উন্নয়নে বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও বাজেটে সঠিক বরাদ্দ রাখতে হবে।

অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, উন্নয়নের চাবি হচ্ছে অবকাঠামো উন্নয়ন। উন্নতির জন্য অবকাঠামো খাতে যথাযথ উন্নয়ন প্রয়োজন। কেবল অবকাঠামোতে বিনিয়োগ হলেই এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়েও উন্নয়ন হবে। অনেক দেশ উন্নয়নের একটি পর্যায়ে গিয়ে থমকে গেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেন এমন না হয়।

বেজার নির্বাহী প্রেসিডেন্ট পবন চৌধুরী বলেন, ‘একটি দেশের উন্নতিতে বিনিয়োগের সংস্কৃতি কেমন সেটি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে সেবা দিলে বিনিয়োগ সহজতর হয়। নতুন নতুন বিনিয়োগকারী আনতে অনেক দূর এগিয়েছি আমরা। ইতিমধ্যে নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে দেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। দেশ দ্রুত উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। এ জন্য সকলকেই একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। ’

ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ‘১০ বছর আগের অনেক প্রকল্প নিয়ে পড়ে আছি আমরা। যা অনেক আগেই শেষ হওয়ার কথা। দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিদ্যুৎ সরবরাহ, জমি অধিগ্রহণ ও ব্যবসা শুরু এবং ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নে সমস্যা রয়েছে। তবে হার্ড অবকাঠামোর চেয়ে সফট অবকাঠামো সুবিধা দেওয়া বেশি সম্ভব। ’

জিএসপি সুবিধার কথা তুলে ধরে আসিফ ইব্রাহিম আরো বলেন, ১২.৫ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নতুন নীতিমালা যুক্ত করা হয়েছে। এই সুবিধা বাতিল হয়ে গেলে রপ্তানি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে। অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তবে তাতে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বাংলাদেশ সঠিক পথেই আছে, টেকসই উন্নয়নে সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।


মন্তব্য