kalerkantho


সরবরাহ সংকট না হওয়ার আশা আমদানিকারকদের

দুই মাস আগেই রমজানের ভোগ্য পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দুই মাস আগেই রমজানের ভোগ্য পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে

বেশ আগেভাগেই রমজানের ভোগ্য পণ্য আসছে চট্টগ্রাম বন্দরে। রমজান শুরু হবে আগামী ২৭ মে।

এর দুই মাস আগে থেকেই ছোলা, চিনি, ভোজ্য তেল ও মটরডাল আসতে শুরু করেছে। কনটেইনার ভর্তি ভোগ্য পণ্য ইতিমধ্যে আমদানিকারকের গুদামে পৌঁছেছে, আর খোলা জাহাজে আসা পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নামানো হচ্ছে।

জানতে চাইলে রমজানে ভোগ্য পণ্যের বড় আমদানিকারক সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার বাজার ঠিক থাকবে। সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে, মজুদও ভালো সুতরাং দাম ঠিক থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। ’

একই মন্তব্য করে ভোগ্য পণ্যের আরেক বড় আমদানিকারক চট্টগ্রামের বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত বছর রমজানের তুলনায় এ বছর ভোগ্য পণ্যের দাম ভালো থাকবে। এবার সরবরাহ চ্যানেল ভালো, আন্তর্জাতিক বাজারে দামও ভালো ছিল কিন্তু মার্কিন ডলারের দরটা একটু সমস্যায় ফেলেছে। ’

তিনি বলেন, গত বছর রমজানের পণ্য আমদানির সময় ডলারের দর ছিল ৭৮ টাকা এবার সেটি বেড়ে ৮০ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। গত বছর ছোলার বুকিং দর ছিল টনপ্রতি এক হাজার ডলার, এবার টনপ্রতি ছোলা ৭৮০-৮১০ টাকায় কিনতে পেরেছি। কিন্তু ডলারের দাম বেশি থাকায় একটু বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

তার পরও মনে হয় গতবারের চেয়ে এবার দাম কম হবে।

আমদানির তথ্য মতে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ছোলা আমদানির শীর্ষে রয়েছে সিটি গ্রুপ, একই সঙ্গে মসুর ডাল আমদানির শীর্ষেও রয়েছে সিটি গ্রুপ। আর মটর ডাল আমদানির শীর্ষে রয়েছে এন আর ট্রেডিং। চিনি আমদানির শীর্ষে রয়েছে এস আলম গ্রুপ। আর ভোজ্য তেল আমদানির শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রামের এস এ গ্রুপ।

এস এ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহাব উদ্দিন আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রমজানের বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়বে না বরং কমবে কারণ এখন বাজারে তেলের দাম কম সুতরাং বাড়ার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম গত বছর থেকেই কম আর টার্মিনালগুলোতে মজুদ বেশ ভালো। ’

চট্টগ্রাম বন্দরের হিসাবে, এ মুহূর্তে বহির্নোঙরে সাড়ে ৩৪ হাজার টন মসুর ডাল ভর্তি জাহাজ গোল্ডেন আই থেকে পণ্য নামানোর কাজ চলছে। এর বাইরে এক লাখ ৩২ হাজার অপরিশোধিত চিনি নিয়ে তিনটি জাহাজ থেকে পণ্য নামানো চলছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এ কে এম সামশুজ্জামান রাসেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে রমজানের ভোগ্য পণ্য নিয়ে জাহাজ আসছে। দ্রুত পণ্য ছোট জাহাজে নামিয়ে গুদামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এখনো জাহাজ থেকে পণ্য নামানো হচ্ছে বহির্নোঙরে। ’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য ব্যাংকগুলোতে দুই হাজার ৭৪৬ কোটি ডলারের ঋণপত্র খুলেছেন আমদানিকারকরা। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২.৩২ শতাংশ বেশি। এই সাত মাসে গম, ডালজাতীয়, চিনি, দুগ্ধজাত খাবার ও শুকনা ফল আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তবে দেশে উৎপাদন ভালো হওয়ায় চাল ও পেঁয়াজের আমদানিতে ঋণপত্র খোলা কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে ভোজ্য তেলের ঋণপত্র খোলাও।

এই সাত মাসে বিভিন্ন ধরনের ডাল আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৩৭ কোটি ডলারের, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি। চিনি আমদানির জন্য ব্যাংকগুলোতে ৫৪ কোটি ডলারের ঋণপত্র খোলা হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৭১ শতাংশ বেশি। আর শুকনা ফল আমদানির জন্য ২০ কোটি ডলারের ঋণপত্র খুলেছেন ব্যবসায়ীরা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬.৩৮ শতাংশ বেশি।

পাইকারি বাজারে রমজানকে কেন্দ্র করে কিছুটা বেড়েছে ছোলার দাম। খাতুনগঞ্জ বাজারে গতকাল সোমবার অস্ট্রেলিয়ার ছোলা বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ২৬৫০ টাকা থেকে ২৭০০ টাকা।

জানতে চাইলে ছোলার আড়তদার আরিফ মোহাম্মদ ফোরকান কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজারে শুধু অস্ট্রেলিয়ান ছোলা বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় এখন মণপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে রমজানের বাজার কী হবে এখনো বোঝা যাচ্ছে না।


মন্তব্য