kalerkantho


অর্গানিক খাদ্য উৎপাদনে ১৫% প্রণোদনা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



অর্গানিক খাদ্য উৎপাদনে ১৫% প্রণোদনা দাবি

জৈব খাদ্য (অর্গানিক ফুড) উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে উৎপাদন, বিপণন অথবা ভোক্তাপর্যায়ে ১৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে দেশে অর্গানিক পণ্যের চাষাবাদ বাড়বে। পাশাপাশি তা রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআই সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অর্গানিক ফুড : কৃষি বাণিজ্যের নতুন যুগ’ শীর্ষক সেমিনারে ব্যবসায়ীরা এ দাবি জানান। এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি ব্যবসায়ীদের দাবিকে সমর্থন করে প্রণোদনার বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। সেমিনারের আয়োজন করে এফবিসিসিআইর কৃষি খাত বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) উপদেষ্টা প্রফেসর মোসলেম আলী।

মূল প্রবন্ধে মোসলেম আলী বলেন, অর্গানিক খাদ্যের চাহিদা গত কয়েক বছরে বাড়ছে। প্রথাগতভাবে উৎপাদিত পণ্যের চেয়ে অর্গানিক পণ্যের দাম বেশি হলেও এই খাদ্য নিরাপদ হওয়ায় সারা বিশ্বে ব্যবহার বাড়ছে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সাড়ে ৩ হাজার কোটি ইউরোর অর্গানিক খাদ্য গ্রহণ করেছে।

প্রতিবছর প্রায় ১০ শতাংশ করে এর চাহিদা বাড়ছে। ভারতের মতো বাংলাদেশ সরকার কৃষকদের প্রণোদনার মাধ্যমে অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আকৃষ্ট করতে পারলে রপ্তানিতে অর্গানিক খাদ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে কৃষিকাজে সারের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এখনই এর নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। এ জন্য অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করতে হবে। এ পদ্ধতিতে সুগন্ধি চাল চাষ করতে পারলে ভারত, থাইল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তা বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। আলোচনায় বক্তব্য দেন বাপার সভাপতি এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সি, আলু রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি ড. শেখ আবদুল কাদের, অটো ব্রেড অ্যান্ড বিস্কিট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শফিকুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবু নাসের প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, আগে সাড়ে ৭ কোটি মানুষের জন্য চাল আমদানি করা হতো। এখন সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের জন্য চাল আমদানি করতে হয় না। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমাদ বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীনে অর্গানিক ফুডের জন্য কর্তৃপক্ষ থাকতে হবে। যারা খাদ্যসামগ্রীকে অর্গানিক ফুড হিসেবে সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজ করবে। বিশ্বে ব্যাপকভাবে অর্গানিক ফুডের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশেও তা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে অর্গানিক খাদ্য উৎপাদন করতে গিয়ে খাদ্য উৎপাদন কমানো যাবে না। অর্গানিক ফুড উৎপাদনের ক্ষেত্রে উৎপাদন, বিপণন অথবা ভোক্তাপর্যায়ের যেকোনো একটি ১৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।


মন্তব্য