kalerkantho


অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে দরকার নীতির ধারাবাহিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০





অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে

দরকার নীতির ধারাবাহিকতা

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানতে সবার আগে জরুরি সরকারি নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা। সরকার পরিবর্তন হলেও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে সেখানে কোনো পরিবর্তন হবে না, উদ্যোক্তাদের সেটি আশ্বস্ত করতে হবে। এ ছাড়া বিদ্যমান যেসব আইন ও বিধি ব্যবসা পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলো সংশোধন করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের জন্য গ্যাস-বিদ্যুৎ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এসব সমস্যার সমাধান করতে পারলেই কেবল অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসবে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর র‍্যাডিসন হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা এসব মতামত তুলে ধরেন। ‘বিনিয়োগে উৎসাহ’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এতে প্রধান অতিধি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এ সময় অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান সিনিয়র সচিব নজিবুর রহমান, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ এবং বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।

স্বাগত বক্তব্যে বেজার নির্বাহী সদস্য এমদাদুল হক বলেন, সরকার আগামী ১৫ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

ওই সব অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মসংস্থান হবে এক কোটি মানুষের। আর বাড়তি রপ্তানি হবে চার হাজার কোটি ডলার।

সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে জাপান ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের (জেডিআই) নির্বাহী পরিচালক সোয়িচি কোবায়েশি বলেন, ‘আপনি সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছেন। এটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এতগুলো অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কিভাবে হবে। এখানে জমি অধিগ্রহণ অত্যন্ত জটিল কাজ। গ্যাস ও বিদ্যুৎ দেওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা যাতে একই ছাদের নিচে সব সেবা (ওয়ান স্টপ সার্ভিস) পায়, সেটি এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ’ একটি গবেষণা সংস্থার কয়েকটি তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনা আছে। ২০৫০ সাল নাগাদ মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ২৩তম। তবে এসব সমস্যার সমাধান জরুরি।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান নীতির ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, এটি নিশ্চিত করতে না পারলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আসবে না। আর আত্মবিশ্বাস না এলে বিনিয়োগও হবে না। নীতির ধারাবাহিকতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় গ্যাস-বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, যেকোনো শিল্প-কারখানা গড়ার পূর্বশর্ত হলো জমি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ এ সমস্যায় ভুগছে। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, দেশে দক্ষ মানবসম্পদের অনেক ঘাটতি আছে। অবশ্য বর্তমান সরকার দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে।

সুরাইয়া বেগম বলেন, উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম বিনিয়োগ যেদিক থেকেই আসুক, যেখানেই সুযোগ তৈরি হবে, সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। যে কেউ এখানে বিনিয়োগ করতে পারে। তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বন্ড সুবিধা নিয়ে অনেকে অপব্যবহার করছে। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। যাতে কেউ সুবিধার আড়ালে অপব্যবহার করতে না পারে। ’ তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তরফ থেকে যত ধরনের সহযোগিতা করা দরকার, তাই করা হবে। ’

সভাপতির বক্তব্যে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের একজন কলামিস্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। কিন্তু বিনিয়োগ সংস্কৃতি উন্নয়ন না করলে কেউ টাকা বিনিয়োগ করবে না। কারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে অনেক বিকল্প সুযোগ আছে অন্য দেশে। আমাদের দেশে আইন আছে, কিন্তু সেবা নেই। ’


মন্তব্য