kalerkantho


অধিকার সম্পর্কে জানে না ভোক্তা

কুদ্দুস বিশ্বাস, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



অধিকার সম্পর্কে জানে না ভোক্তা

সরকার ভোক্তাদের অভিযোগ দেওয়ার জন্য ‘জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর’ নামে নতুন একটি অধিদপ্তর খুলছে। অথচ ভোক্তারা জানে না প্রতারিত হলে তারা কী করবে। রৌমারী ইছাকুড়ি গ্রামের সুখ বাদশা অভিযোগ করে বলেন, ‘বাজার থেকে ৪৫০ টাকায় এক কেজি গরুর মাংস কিনে বাড়িতে নিয়ে ওজন দিয়ে দেখি ৮০০ গ্রাম। মাংসের দাম নিচ্ছে বেশি; আবার ওজনেও কম দিচ্ছে। আমার মতো প্রতিদিন শত শত গ্রাহক ওই প্রতারণার শিকার হচ্ছে। ’ নটানপাড়া গ্রামের আব্দুস সবুর বলেন, ‘১৪০ ট্যাহায় এক কেজি পাংকাস মাছ নিছি। বাড়িতে মাইফা দেহি ৮০০ গ্রাম। মাছ বিক্রেতারা এভাবেই আমগর ঠখায় কেউ কিছুই কয় না। ’ সরকারিভাবে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৩৮০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার হাট-বাজারগুলোয় প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪৫০ টাকায় বিক্রি হলেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলা শহর ছাড়াও বিভিন্ন হাট-বাজারের খাবারের হোটেলগুলোয় অবাধে পচাবাসি খাবার বিক্রি করা হচ্ছে। একদিনের খাবার পরের দিনও বিক্রি করা হয়।

অন্যদিকে মাংস বিক্রেতারা অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত গরু জবাই করছে। ওজনে কারচুপি মাংস বিক্রেতাদের এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। রাজীবপুরের শহর আলী নামের এক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি বোরো আবাদ করছি। প্রতিদিন পাঁচ লিটার করে ডিজেল কিনতে হয়। দোকান থেকে পাঁচ লিটার ডিজেল কিনে বাইরে মাপলেই দেখা যায় আধা লিটার নেই। সব দোকানেই একই ব্যবস্থা। কী আর করব মুখ বুজে তা সহ্য করতে হয়। ’

রৌমারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোমদেল হোসেন জানান, বাজারে সরকারিভাবে মনিটরিংব্যবস্থা না থাকায় আমরা প্রতারণার শিকার হচ্ছি। বাজারে নকল, ভেজাল, মানহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের উপস্থিতির পাশাপাশি ওজনে কম দেওয়া, নির্ধারিত পরিবর্তনে অন্য পণ্য সরবরাহ করা ছাড়াও পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রায়ই ঘটছে। প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছে ক্রেতারা। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ভোক্তার অধিকার হচ্ছে ‘নিরাপদ পণ্য বা সেবা পাওয়া’। অথচ প্রতারিত হলেও ভোক্তারা কোনো অভিযোগ করতে পারে না। প্রচারণা না থাকায় এবং কোথায় অভিযোগ করবে, সে বিষয়ে জানে না ক্রেতারা।

ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘিত হলে ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত, এসএমএস, ফ্যাক্স, ই-মেইল যেকোনো মাধ্যমে অভিযোগ করা যায়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পণ্যমূল্যের পাঁচ গুণ জরিমানা করার এবং সে অর্থের ২৫ শতাংশ অভিযোগকারীকে প্রদানের বিধান রয়েছে। আইনে আরো বলা হয়েছে, মূল্য পরিবর্তন করা হলে মোড়কেও পরিবর্তন আনতে হবে। কিন্তু হরহামেশাই কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন বা বিএসটিআইকে না জানিয়েই কম্পানিগুলো পণ্যের দাম বাড়িয়ে থাকে।

ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠায় কী ব্যবস্থা বা উদ্যোগ নিয়ে থাকেন—এমন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রায়ই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হচ্ছে। এতে পচাবাসি খাবার হোটেল-রেস্তোরাঁকে জরিমানা করে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। তবে সব হাট-বাজারে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মনিটরিং করা সম্ভব হয় না প্রশাসনিক কাজের ব্যস্ততার কারণে। ’


মন্তব্য