kalerkantho


মুক্তিযুদ্ধের ছবিসহ নতুন ৫ টাকার নোট আসছে

শেখ শাফায়াত হোসেন   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মুক্তিযুদ্ধের ছবিসহ নতুন ৫ টাকার নোট আসছে

সরকারের পরামর্শে মুক্তিযুদ্ধের ছবিসংবলিত ৫ (পাঁচ) টাকা মূল্যমানের নতুন কাগুজে মুদ্রা বা নোট ছাপার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ৫ টাকার নোটকে সরকারি নোটের অন্তর্ভুক্ত করার পর ইতিমধ্যে সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ স্বাক্ষরিত নোট বাজারে ছাড়া হয়েছে।

তবে সম্প্রতি সিনিয়র অর্থসচিবের পদটিতে পরিবর্তন এসেছে। নতুন সিনিয়র অর্থসচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুনের স্বাক্ষর যুক্ত করে নতুন নোট ছাপারও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

১ ও ২ টাকার নোটের ক্রয়ক্ষমতা কমে আসায় দীর্ঘ ২৬ বছর পর ২০১৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ কয়েনেজ অর্ডার ১৯৭২ সংশোধন করে ৫ টাকার নোটকে সরকারি মুদ্রার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৬ সাল থেকে ইতিপূর্বে যেসব ৫ টাকার নোট ব্যাংক নোট হিসেবে বাজারে ছাড়া হয়েছিল সেগুলোকে সরকারি নোট হিসেবে হিসাবায়ন শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০১৬ সালের ৫ জুন প্রথমবারের মতো সরকারি নোট হিসেবে ৫ টাকার নোট বাজারে আসে। এরপর অবশ্য নোটটিতে ভিন্ন রং ব্যবহার করে নতুনভাবে মুদ্রণ করা হয়। গত ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে নতুন এই নোট ইস্যু করা হয়। পরে ইস্যু করা ওই নোটটি হালকা বেগুনি রঙে মুদ্রণ করা। এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়বস্তু (এমব্লেম) আগের মতোই আছে।

নোটটির সামনের অংশে বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি এবং পেছনের অংশে নওগাঁর কুসুম্বা মসজিদের ছবি রয়েছে। নতুনভাবে মুদ্রিত ৫ টাকার ওই নোটের উভয় পাশের ওপরের অংশে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ লেখা এবং পেছনের অংশে ডান দিকে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক রয়েছে। নোটটির আকার, জলছাপ, ডিজাইন ও অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য বর্তমানে প্রচলিত নোটের মতোই।

সম্প্রতি সরকারের পরামর্শে মুক্তিযুদ্ধের ছবিসহ ৫ টাকার নতুন একটি নোট মুদ্রণের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নোটটির নকশা ও ছবি বাছাইয়ের কাজ করছে নোটের নকশা প্রণয়ন কমিটি। ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে শিল্পী হাশেম খান, মুস্তাফা মনোয়ার ও কে জি মুস্তফা নকশা প্রণয়ন ও ছবি বাছাইয়ের কাজ করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, বর্তমানে প্রায় ১১৫ কোটি পিস ৫ টাকার নোট ও ধাতব মুদ্রা (কয়েন) বাজারে রয়েছে। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৫৭৫ কোটি টাকা। এই তথ্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারির। বর্তমানে এক লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ ১ থেকে ১০০০ টাকার বিভিন্ন মূল্যমানের নোট বাজারে রয়েছে।

নতুন ৫ টাকার নোট ছাপার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী ৫ টাকার নোট ইস্যু করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ যে নোটটি ইস্যু করা হয়েছে সেটা কিছুটা অন্তর্বর্তীকালীন। নোটটি কিছুটা ধীর গতিতে ছাড়া হচ্ছে। তবে বাজারে পর্যাপ্ত ৫ টাকার ধাতব ও কাগুজে মুদ্রা রয়েছে। খুচরার কোনো সংকট হচ্ছে না। ’

শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘ইতিমধ্যে বাজারে প্রচলিত সব ৫ টাকার নোটকেই সরকারি নোটের হিসাবে আনা হয়েছে। তবে পুরনো যেসব ৫ টাকার নোটে গভর্নরের স্বাক্ষর রয়েছে সেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসার পর আর বাজারে ছাড়া হচ্ছে না। ’

জানা গেছে, সরকারি নোট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাজারে ছাড়া ৫ টাকার নোটগুলো যে কাগজে মুদ্রণ করা হয়েছে সেগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম রয়েছে। কেননা যখন ওই কাগজগুলো আনা হয়েছিল তখন ৫ টাকার নোট ব্যাংক নোট হিসেবে ইস্যু করার দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের। কিন্তু সরকারি নোটে রূপান্তরিত করার পর তড়িঘড়ি করে মুদ্রণ করতে গিয়ে আগের আনা কাগজেই মুদ্রণ করা হয় নতুন ৫ টাকার নোট।

বর্তমানে ১, ২ ও ৫ টাকার নোট সরকারি নোট হিসেবে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এই নোটগুলোর দায় সরকারের। অর্থাৎ এই নোটগুলোর বিপরীতে সমপরিমাণ অর্থ এর বাহককে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ সরকারের। ১০, ২০, ৫০, ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোটগুলো ব্যাংক নোট। এই নোটগুলোতে স্বাক্ষর থাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের। নোটগুলো প্রচলনের দায়িত্বও বাংলাদেশ ব্যাংকের। যদিও সরকারের হয়ে ১, ২ ও ৫ টাকার নোটও প্রচলনের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


মন্তব্য