kalerkantho


ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিল ব্রিটিশ পার্লামেন্টে

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিল ব্রিটিশ পার্লামেন্টে

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যখন বিলটি অনুমোদন হচ্ছিল তখন পার্লামেন্টের বাইরে চলছিল ব্রেক্সিটবিরোধী বিক্ষোভ। ছবি : এএফপি

কয়েক সপ্তাহের বিতর্কের পর অবশেষে ব্রিটেনের আইন প্রণেতারা ব্রেক্সিট বিলের অনুমোদন দিলেন। এর ফলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে লিসবন চুক্তির আর্টিকেল ৫০ প্রয়োগ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।

তবে বিলটি আইনে পরিণত হতে এখনো আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে। ব্রিটেনের রানির অনুমোদনের পরই এটি চূড়ান্ত হবে। আশা করা হচ্ছে, মঙ্গলবারেই এ অনুমোদন হয়ে যাবে।

আগামী ২৫ মার্চ রোমে ইইউর ৬০তম জন্মদিন উদ্যাপিত হবে। এর পরই আনুষ্ঠানিকবাবে ইইউ থেকে বিচ্ছেদ আলোচনা শুরু করবেন মে। ২০১৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ব্রিটেনের ৫২ শতাংশ জনগণ ইইউ ছাড়ার পক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের পর গত সোমবার উচ্চকক্ষও এটি পাস করায় প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের জন্য ইইউ ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে আর কোনো বাধা রইল না। বিচ্ছেদের এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে দুই বছর। ব্রেক্সিটমন্ত্রী ডেভিড ডাভিস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা এখন আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার দ্বারপ্রান্তে।

’ তিনি বলেন, ‘সুতরাং আমরা এ মাসের শেষেই পরিকল্পনামাফিক আর্টিকেল ফিফটি প্রয়োগ করে গোটা দেশের স্বার্থেই কার্যকর ফল বয়ে আনতে পারব। ’

এদিকে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জন স্কটিশদের স্বাধীনতার জন্য ২০১৮ কিংবা ২০১৯ সালের শুরুর দিকে নতুন করে আরেকটি গণভোটের দাবি করায় এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইইউ নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা নিয়ে চাপের কারণে নতুন একটি বাধার মুখে পড়েছেন মে। গতকাল পার্লামেন্টে এক বক্তব্যে টেরেসা মে ব্রেক্সিট বিলে অনুমোদন দেওয়ায় আইন প্রণেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের পুরো দেশের জন্য এটি ‘ব্রেক্সিট মুহূর্ত’। তিনি বলেন, ‘আশা করছি, মার্চ শেষে আমরা ব্রেক্সিট আলোচনা শুরু করব। ’

ব্রেক্সিটের ফলে ইউরোপীয় একক বাজার সুবিধা আর পাবে না ব্রিটেন। তবে এতে অর্থনৈতিক যে ক্ষতি হবে তা কাটিয়ে উঠতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। গত সোমবার কমনওয়েলথ দিবস উপলক্ষে তেরেসা মে এক বিবৃতিতে বলেন, কমনওয়েলথের মাধ্যমে ব্রিটেন ও অন্য দেশগুলো নিজেদের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে পারে, উন্নয়নে এগিয়ে যেতে পারে।

পাউন্ডের দাম কমল : এদিকে গতকাল ব্রেক্সিট উদ্বেগে ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম কমে আট সপ্তাহে সর্বনিম্নে নেমেছে। যদিও ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন বৈঠক নিয়ে বাজার কিছুটা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। গতকাল স্টার্লিংয়ের দাম কমে হয় ১.২১১০ ডলার, যা দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিবিসি, রয়টার্স।


মন্তব্য