kalerkantho


শেরপুরে হবে আরো সাতটি ‘দুধগ্রাম’

শেরপুর প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শেরপুরে হবে আরো সাতটি ‘দুধগ্রাম’

শেরপুরের তিলকান্দি মিল্ক ভিলেজে বাড়ি বাড়ি গরু লালন-পালনের এমন দৃশ্য দেখা যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

শেরপুর সদরের তিলকান্দি গ্রামে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে গড়ে তোলা ‘দুধগ্রাম’ বাণিজ্যিকভাবে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছে। আর এ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সদরের আরো তিন গ্রামসহ জেলার আরো চারটি উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে একটি করে দুধগ্রাম।

আগামী জুনের মধ্যে এসব দুধগ্রাম প্রতিষ্ঠা করা হবে। সেগুলো হচ্ছে নালিতাবাড়ীর দক্ষিণ রানীগাঁও, নকলার জালালপুর, শ্রীবরদীর কলাহাটি ও ঝিনাইগাতীর হাসলীগাঁও। দুধগ্রামের খামারিদের সমবায়ের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেবে ব্যাংক ও সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর তিলকান্দি দুধগ্রামের গাভি পালনকারী ১৫ জন দুগ্ধ খামারির মধ্যে মাথাপিছু ২০ হাজার টাকা করে এবং ভাটিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের পাঁচজন দুগ্ধ খামারির মধ্যে ২৫ হাজার টাকা করে ঋণ বিতরণ করেছে। দুধ উৎপাদনের কাজে ওই ঋণ কাজে লাগিয়ে তা কিস্তিতে ১০ মাসের মধ্যে পরিশোধ করলে ঋণ পরিশোধকারী দুগ্ধ খামারিদের আবারও বেশি পরিমাণে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ডা. এ এম পারভেজ রহিম।

এদিকে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দুগ্ধ খামারিরা তাঁদের গাভির জন্য ‘বীমা সুবিধা’ চালু এবং উৎপাদিত দুধের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে শেরপুরে মিল্ক ভিটার একটি পাস্তুরিত কারখানা স্থাপনের দাবি জানান। জেলা প্রশাসক খামারিদের দাবির বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। সেই সঙ্গে তিনি পাশের জামালপুরে মিল্ক ভিটার পাস্তুরিত কারখানায় দুধ সরবরাহের বিষয়টিও খামারিদের ভাবার পরামর্শ দেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান জানান, তিলকান্দি দুধগ্রামের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় শেরপুর সদরে আরো তিনটি এবং অন্য চারটি উপজেলায় একটি করে দুধগ্রাম প্রতিষ্ঠার কথা ভাবা হচ্ছে।

এ জন্য ইতিমধ্যে ব্যাংকসহ বিভিন্ন এনজিও খামারিদের সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে। অন্য চার উপজেলায় আগামী জুনের মধ্যে দুধগ্রাম প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন। গত বছরের ১০ নভেম্বর শেরপুর সদর উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের তিলকান্দি গ্রামকে ‘মিল্ক ভিলেজ’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ওই দুধগ্রামে বর্তমানে গাভি পালনকারী কৃষকের সংখ্যা ১৮১ জন। ২৭৬টি গাভির মাধ্যমে প্রতিদিন দুই হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে।


মন্তব্য