kalerkantho


দেশে পাটের ব্যাগের চাহিদা ৩০০ কোটি

পাটপণ্যে স্থানীয় বাজারকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পাটপণ্যে স্থানীয় বাজারকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ

বিশ্ববাজারে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার অভাবে পিছিয়ে পড়ছে দেশের একসময়ের প্রধান রপ্তানি আয়ের খাত পাট। রপ্তানি আয়ও চার-পাঁচ বছর ধরে স্থবির হয়ে পড়েছে। তাই এ খাতের সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ, বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে এর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে বিশ্ববাজারের সংকট মোকাবেলায় এ খাতকে সুরক্ষা দিতে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারকে গুরুত্ব দিতে হবে।   ইপিবির পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, ২০১০ সালে যেখানে পাটপণ্যে রপ্তানি করে আয় ছিল ১৩০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে (২০১৫-১৬) তা আরো  ১০ কোটি ডলার কমে  মাত্র ১২০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পাট খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইআরএফ এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মিজা আজম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার উল্লেখযোগ্য না হলেও ভারতের বাজারের প্রায় মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশ যাচ্ছে এখান থেকে।

এ ছাড়া স্থানীয় বাজার বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে। এক পরিসংখ্যান দিয়ে তাঁরা বলেন, দেশের বাজারে প্রায় ৩০০ কোটি পাটের ব্যাগের চাহিদা রয়েছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাবে প্রতিবছর সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনছে।

তাই পাট খাতের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এ জন্য সরকারি কারখানাগুলোয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, কারখানার মানোন্নয়নে আরো গুরুত্ব দেওয়া এবং সরকারি দুর্নীতি কমিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ ছাড়া বিশেষায়িত কারখানার সংখ্যা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুসারে পণ্যে বহুমুখীকরণে জোর দিতে হবে। পণ্যের নকশা এবং গবেষণা বাড়াতে বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ রাখতে হবে। তাঁরা আরো বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বিশেষায়িত কারখানার সংখ্যা প্রতিবছরই কিছু না কিছু বাড়লেও বাংলাদেশের গত ৫০ বছরেও দু-একটির বেশি বাড়েনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা আজম বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ করে গত এক বছরে বিজেএমসির প্রায় ২০০ কোটি টাকার লোকসান কমানো হয়েছে। ’

বিজেএমসিকে সরকারের একটি প্রতিবন্ধী সন্তান উল্লেখ করে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, পাট খাত বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দিতে ভ্যালু চেইনে গুরুত্ব দিতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক বাজার নিয়ে গবেষণা এবং ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট করা হবে।

একটি ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পাটশিল্পকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা করেন মির্জা আজম। এ জন্য শিগগিরই দেশে পাটপণ্যের আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজন করা হবে। আমার বিশ্বাস, বিশ্ববাজারে পলিথিনের ১০ শতাংশ বাজার দখল করা গেলেও পাটপণ্য রপ্তানি করে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা আয় সম্ভব।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের কাঁচা পাট নিয়ে পাটজাত পণ্য উৎপাদন করলেও তাদের উৎপাদন মূল্য আমাদের চেয়ে অনেক কম। এ ছাড়া আমাদের চেয়ে তাদের শ্রমিক মজুরিও বেশি তবুও আমার উৎপাদন খরচে অনেক পিছিয়ে আছি। ’ দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “আমাদের পাটকলগুলো ‘এ’ ক্যাটাগরির পাটের মূল্যে পরিশোধ করে পাটকলে ঢোকানো হয় ‘সি’ ক্যাটাগরির পাট। এভাবে উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া ভারতে একই যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলেও আমাদের পাটকলের কারখানগুলোয়  মেইনটেন্যান্স না করার কারণে প্রয়োজনীয় উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে না। এর ফলে আমাদের রপ্তানি আয় চার-পাঁচ বছর ধরে ১২০ কোটি ডলার থেকে ১৩০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। ’

ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোসলেহ উদ্দিন, বাংলাদেশ জুট ডাইভারসিফায়েড প্রডাক্ট ম্যানুফ্যাকচারাস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের  সভাপতি মো. রাশিদুল করিম মুন্না প্রমুখ বক্তব্য দেন।


মন্তব্য