kalerkantho


সূচক বাড়লেও লেনদেন কমেছে পুঁজিবাজারে

ব্যাংক ও আর্থিক খাতে উল্লম্ফন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ব্যাংক ও আর্থিক খাতে উল্লম্ফন

পুঁজিবাজারে আর্থিক খাতের ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে উল্লম্ফন ঘটেছে। দুই খাতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনও।

৬৭ শতাংশ ব্যাংক আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৭৭ শতাংশ কম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। আগের দিনও এই দুই খাতের শেয়ারের দামে ঊর্ধ্বমুখিতা ছিল। মোট লেনদেনের ৩০ শতাংশই ছিল এই দুই খাতের।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে লেনদেন বেড়েছে। ব্যাংক খাতে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে ৩.৯৬ শতাংশ। এই খাতের ৩০ ব্যাংকের মধ্যে বৃহস্পতিবার ২৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। চারটি ব্যাংকের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত আর ছয়টির শেয়ারের দাম কমেছে। সেই হিসাবে প্রায় ৬৭ শতাংশ বা ৬৬.৬৬ শতাংশ ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেড়েছে।

আগের দিন ব্যাংক খাতে লেনদেন ছিল মোট লেনদেনের ১৩.৮২ শতাংশ অর্থাৎ লেনদেন হয়েছিল ১৫৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার এই লেনদেন দাঁড়িয়েছে ২২৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা বা ১৭.৭৭ শতাংশ। এই খাতের প্রায় সব ব্যাংকের শেয়ারের দাম এক টাকার চেয়ে কম বেড়েছে। কোনোটির বেড়েছে ৮০ পয়সা, ৭০ পয়সা কিংবা ৩০ পয়সা। এতে শেয়ার হাতবদল বেশি হওয়ায় লেনদেন বেশি হয়েছে।

নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেনদেন হয়েছে ২২টির। এতে ১৭টির বা ৭৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে আর কমেছে তিন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। আর একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের লেনদেন হয়নি।   আগের দিনের চেয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লেনদেন বেড়েছে ০.১২ শতাংশ। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৮১ কোটি ১৯ লাখ টাকা, বৃহস্পতিবার এই লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা ১৬.৩৯ শতাংশ। এই খাতের বে লিজিংয়ের শেয়ারের দাম বেড়েছে ১.৬০ টাকা। ফারইস্ট ফাইন্যান্সের বেড়েছে এক টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্স এক টাকা ও প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের বেড়েছে ১.২ টাকা। তবে ন্যাশনাল হাউজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের শেয়ারের দাম কমেছে এক টাকা।

লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয়েছে ২১২ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা ১৬.৫৮ শতাংশ। আগের দিন এই লেনদেন ছিল ১৫৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা বা ১৪.২৬ শতাংশ। সেই হিসাবে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে ২.৩২ শতাংশ।

গতকালের বাজার : সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের দুই বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন। একই সঙ্গে কমেছে শেয়ার হাতবদলের সংখ্যাও। যদিও আগের দিন দুই বাজারেই সূচক ও লেনদেন বেড়েছিল।

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ৩৩০টি কম্পানির ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ৯৭১টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। টাকার অঙ্কে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১৮৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আগের দিন শেয়ার হাতবদলের সংখ্যা ছিল ৩৬ কোটি ৯৮ লাখ ৪২ হাজার ১৫৬টি। আর লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৩০২ কোটি ১১ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছিল ২৭ পয়েন্ট।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর থেকেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে সকাল ১১টা পর্যন্ত সূচক ঊর্ধ্বমুখিতার পর কমেছে। এই সময়ের পর থেকে দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত সূচক কমে। যদিও পরবর্তী সময়ে আবারও সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। দিন শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৬৭১ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ৪৯ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৩১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া কম্পানিগুলোর মধ্যে বেড়েছে ১৫৭টি, কমেছে ১২২টি ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১টি কম্পানির শেয়ারের দাম।

আরেক বাজার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছে ৪৬ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছিল ৫০ পয়েন্ট। বৃহস্পতিবার লেনদেন হওয়া ২৫১টি কম্পানির মধ্যে বেড়েছে ১৩২টি, কমেছে ৭৭টি ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪২টি কম্পানির শেয়ারের দাম।


মন্তব্য