kalerkantho


বিনিয়োগে গতি আনতে চাই জ্বালানি নিশ্চয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিনিয়োগে গতি সৃষ্টি করতে জ্বালানি নিশ্চয়তা থাকতে হবে। উন্নয়নকে সবার ওপর স্থান দিতে হবে।

তা না হলে রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা থাকলেও বিনিয়োগে গতি আসবে না। নতুন বিনিয়োগের ঝুঁকি নেবেন না দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা। আর ওয়ান স্টপ সার্ভিস হতে হবে নির্ঝঞ্ঝাট ও দ্রুত।  

গতকাল বুধবার ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ : বিডার ভূমিকা ও প্রস্তাবিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর ও পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম বিশেষ অতিথি ছিলেন।

কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। এটা বিনিয়োগের জন্য সুখবর। তবে বর্তমানে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক নয়।

বিডা চেষ্টা করছে বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করতে। তিনি বলেন, উপযুক্ত প্রকল্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সুপারিশ করবে বিডা। ওয়ান স্টপ সার্ভিস হবে ডিজিটাল ব্যবস্থায়। উদ্যোক্তারা অনলাইনে সেবার জন্য আবেদন করবে, বিডা দ্রুত সেবা দেবে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিনিয়োগে গতি সৃষ্টির প্রধান উপাদান গ্যাস-বিদ্যুতের বিষয়ে দেশে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কয়লানীতি হয়নি। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে বাধা আসছে। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, তাতে পক্ষ-বিপক্ষ মত রয়েছে। এসব দেখে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকতে হবে। সে জন্য রাজনীতিকদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। সব ক্ষেত্রে রাজনীতি না করে উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতে হবে। এনার্জি প্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবকাঠামো সুবিধার অভাবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম। এখানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।

উত্তরা মোটর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান বলেন, রয়ালিটি, টেকনিক্যাল নো হাউ ফি, কনসালট্যান্সি ফি ইত্যাদি বিদেশে পাঠাতে বিডার অনুমোদন নিতে হয়, যা অনেক জটিল। পাশাপাশি ট্যাক্সও দিতে হয়। তিনি এসব ফি পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা ও এসব ফির বিপরীতে কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেন। দেশি শিল্পকে উৎসাহিত করতে তৈরি পণ্য আমদানিতে উচ্চ হারে করারোপের সুপারিশ করেন তিনি।

বাংলা ফোনের এমডি আমজাদ হোসেন বলেন, দেশে ভালো ভালো আইন আছে। সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হলে নতুন আইনের দরকার হবে না।

কোরিয়ান ইপিজেডের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সারওয়ার বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিসে একটা নির্দিষ্ট সময় থাকা দরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ না হলে তার জবাবদিহির ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

অন্য বক্তারা বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সেবাগুলোকেও বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিসের আওতায় নিয়ে আসার প্রস্তাব করেন অনেকে। সংগঠনের সভাপতি হাফিজুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এম এস সিদ্দিকী। সাবেক সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, এফবিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ, প্রীতি চক্রবর্তী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

 


মন্তব্য