kalerkantho


‘যে কর্মে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা সেখানে নারীর গুরুত্ব কম’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘যে কর্মে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা সেখানে নারীর গুরুত্ব কম’

গতকাল ‘উইমেন লিডারশিপ সামিট ২০১৭’-এ প্যানেল আলোচনায় বক্তারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঘরে বসে রান্নাসহ গৃহস্থালির যেসব কাজের কোনো আর্থিক মূল্যায়ন হয় না সেসব করতে হয় নারীদের। আবার ঘরের বাইরে এই কাজগুলোতেই যদি আর্থিক সংশ্লিষ্টতা যুক্ত থাকে তাহলে সেসব জায়গায় পুরুষরা চলে আসে।

অর্থাৎ কর্মক্ষেত্রে যেখানে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সেখানেই নারীরা গুরুত্ব কম পায় বলে মনে করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘উইমেন লিডারশিপ সামিট ২০১৭’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। আইপিডিসি ফাইন্যান্সের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠিত নারীরা অংশ নেন। উইমেন ইন লিডারশিপ হলো বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের (বিবিএফ) একটি প্রকল্প।   

প্রথম সেশনে কিনোট স্পিকারের বক্তব্য প্রদানকালে দীপু মনি বলেন, ‘নারীরা রান্না করা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ ঘরে বসে করে, যেগুলোতে কোনো ধরনের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে যখন কোনো জায়গায় রান্নার কাজ করা হয় সেখানে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা যুক্ত হয়। তখন আবার সেখানে নারীদের বদলে পুরুষরা গুরুত্ব পায়। অর্থাৎ যেখানে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সেখানেই নারীরা গুরুত্ব কম পায়।

পুরুষরা যখন প্রবাসে থাকে তখন কিন্তু তারা ঝাড়ু দেওয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজ করে থাকে। কিন্তু নিজের ঘরে সেই কাজগুলো করতে গেলেই তাদের ইগোতে লাগে। এটা হলো একটা পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব। ’ পরিবার বা সমাজ সব জায়গা থেকেই এই পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব দূর করে পুরুষদের উচিত নারীদের বিরোধিতা না করে সহযোগিতা করা। আর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য নারীদের আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ়চেতা হতে হবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন আরো বাড়ানোর দাবি করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে।

তবে চট্টগ্রামের সংরক্ষিত আসনের এমপি ওয়াসেকা আয়েশা খান মনে করেন, ‘পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব পরিবর্তনের যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সবার আগে নারীদের নিজেদের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। দৃঢ়ভাবে ঠিক করতে হবে আমি যেটা করতে চাই। তা না হলে আইন, সমাজ কেউ আমাদের কোনো সুযোগ দেবে না। ’

এ সময় নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে বক্তব্য দেন আমির অ্যান্ড আমির ল অ্যাসোসিয়েটসের হেড অব চেম্বার ব্যারিস্টার তানিয়া আমির। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী-পুরুষ সবাই একসঙ্গে কাজ করেছে। নারীরা যুদ্ধে গেছে, মিছিল-মিটিং করেছে। সেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একটিই স্বপ্ন ছিল। এমন একটি রাষ্ট্র হবে যেখানে সব মানুষের সমান অধিকার থাকবে। কিন্তু প্রায় ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নারীদের তাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করতে হয়। নারী অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হলেও রাষ্ট্র এটি পুরোপুরি দিতে পারেনি। কিছু বাধা, কিছু জঞ্জাল রয়েছে। সেগুলো সরকারকেই ঠিকঠাক করে দিতে হবে। কারণ সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্র এটি দিতে বাধ্য। ’

কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত মোহাম্মদী গ্রুপের এমডি রুবানা হক বলেন, পোশাক খাতে বিপুল পরিমাণ নারী কর্মী কাজ করে। এ খাতের সংগঠন বিজিএমইএতে ৩৬ জন পরিচালক রয়েছেন যেখানে একজনও নারী নেই। সারা দেশে এখনো নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা খুব কম বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘এই যে নারী দিবসটি পালন করা হচ্ছে এটি বিভাজনের একটি চিহ্ন। পুরুষদেরও একটি দিবস রয়েছে, সেটি ১৯ নভেম্বর। সেটা তো কেউ ঘটা করে পালন করে না। আসলে পালন করার প্রয়োজনও পড়ে না। সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশে পুরুষ দিবসও পালন করা যেতে পারে। ’ আর সরকার যেভাবে নারীদের উঠে আসার জন্য চাকরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সেটার পাশাপাশি বেসরকারি খাতও যেন নারীদের উঠে আসার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে এই আশা করেন তিনি।

সম্মেলনের শুরু হয় হোটেল লা মেরিডিয়ানের জিএম আশওয়ানি নায়ারের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে। সূচনা বক্তব্যের পর ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট এবং ডাব্লিউআইএলের সভাপতি নাজিয়া আন্দালীব প্রিমা সম্মেলনটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। আইপিডিসি ফাইন্যান্সের এমডি সিইও মমিনুল ইসলাম নারীর ক্ষমতায়ন এবং আইপিডিসির অংশগ্রহণ বিষয়ে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সেশনে ম্যাগনাম ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিংয়ের অর্গানাইজেশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজরি সার্ভিসের ডিরেক্টর দেনেব জীনাত লতিফ, আইটি প্রতিষ্ঠান দোহাটেকের স্বত্বাধিকারী লুনা শামসুদ্দোহা, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. রওনক জাহানসহ আরো অনেকে বক্তব্য দেন।


মন্তব্য