kalerkantho


নারীদের জন্য পৃথক ব্যাংক চাই

ফারজানা লাবনী   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নারীদের জন্য পৃথক ব্যাংক চাই

গত ১০ বছর আগেও ব্যবসায়ী নারী খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। এখন শহর-গ্রামের অনেক নারী ব্যবসায় আসার সাহস দেখাছে।

তবে ব্যবসায় আসতে এখনো নারীদের মূলধন সংকটে পড়তে হচ্ছে বলে জানালেন উইমেন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ওয়েব) সভানেত্রী নাসরিন আউয়াল মিন্টু। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘এখনো নারী উদ্যোক্তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছে না। ওয়েবের পক্ষ থেকে ২০০৫ সাল থেকে নারীদের জন্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছি। নারীদের জন্য পৃথক ব্যাংক গঠন এখন সময়ের দাবি। ’

নারীদের যোগ্য অধিকার দিতে অনেক নীতি হলেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না উল্লেখ করে নাসরিন আউয়াল মিন্টু আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে নজরদারি করতে হবে। তাহলে নারীরা আরো দ্রুত এগিয়ে যাবে। ’

আজাদ প্রডাক্টসের রত্নাগর্ভা মা হিসেবে সম্মাননা পাওয়া নাসরিন আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘চাকরি করেছি, ব্যবসা করেছি, কিন্তু সব সময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি স্বামী, সন্তান এবং সংসার সুষ্ঠুভাবে সামলাতে। নারীরা কর্মজীবী হলেই যে সে তার সংসারের প্রতি অবহেলা করে, তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, পুরুষের তুলনায় সংসারে নারীর অবদান বেশি।

নারী-পুরুষের বৈষম্য আগের চেয়ে কমেছে, কিন্তু দূর হয়ে যায়নি—এমন অভিমত জানিয়ে নাসরিন আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে পরিবারের নারী-পুরুষের বৈষম্য কমেছে। কিন্তু এখনো দূর হয়ে যায়নি। একই পরিশ্রম করেও নারীর তুলনায় পুরুষরা সুযোগ বেশি পাচ্ছে। ভালো একটি প্রশিক্ষণের সুযোগ এলে নারীকে দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করে পুরুষ কর্মীকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়। আবার পরিবারের মেয়ে শিশুটিকে সব দিক থেকেই ছেলে শিশুর চেয়ে কম সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। দিন বদলের হাওয়ায় অনেক জায়গার চিত্র পরিবর্তন হলেও কর্মক্ষেত্রের চিত্র এখনো পাল্টায়নি। পরিবারে নারীর অবস্থান এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছেনি। ’ 

নাসরিন আউয়াল মিন্টু বলেন, আগের চেয়ে অনেক বেশি নারী কর্মক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছে। অনেক সময় এসব নারী কিছুদিন কাজ করার পর হতাশায় কাজ ছেড়ে দেয়। এ জন্য লেখাপড়া শেখার পাশাপাশি একজন নারীকে অবশ্যই প্রশিক্ষণে মনোযোগী হতে হবে। নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। যোগ্য সম্মান আদায় করে নিতে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। ভালো কাজ জানা থাকলে নারীকে অসম্মান করা বা সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা কঠিন হবে।

নারী শিক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে এই উদ্যোক্তা বলেন, জীবনে সফলতার জন্য একজন নারীর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার তার শিক্ষা। এ জন্য একজন মায়ের উচিত তার ছেলেটিকে যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে স্কুলে পাঠাবে, ঠিক একই গুরুত্ব দিয়ে মেয়েটিকেও স্কুলে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা। নারী শিক্ষার প্রতি সরকার এখন অনেক মনোযোগী। সরকারের এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। আবার অনেকে বেসরকারি খাত থেকেও নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। নারীদের জন্য বাংলাদেশে পর্যাপ্ত এবং যথাযথ গণপরিবহন না থাকায় নারীরা প্রতিবন্ধকতায় পড়ছে বলে মনে করেন নাসরিন আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, গণপরিবহনে নারীদের বসার জন্য সংরক্ষিত সিট যথাযথ নজরদারির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া বিশেষ বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে।


মন্তব্য