kalerkantho


অ্যামচেমের ভোজসভায় অভিমত

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দুর্বল অবস্থানে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দুর্বল অবস্থানে বাংলাদেশ

রপ্তানি বাণিজ্যে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে (এফডিআই) দুর্বল অবস্থানে বাংলাদেশ। ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় বেশি হওয়া, প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নেতিবাচক মানসিকতা ও অবকাঠামো খাতে দুর্বলতা থাকায় এ পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে।

এসব কারণে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এক দশক ধরে স্থানীয় বিনিয়োগে ধীরগতি চলছে। এ অবস্থায় এফডিআই আশা করা যায় না।

পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক সামস্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা-সংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় গতকাল সোমবার এসব কথা বলেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে আলোচ্য সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ, চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের গত ঢাকা সফরে প্রতিশ্রুত বিনিয়োগ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

অ্যামেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে এ সভার আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, সাবেক পররাষ্টসচিব ফারুক সোবহান ও সাবেক প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জমির। আলোচনা সভায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চেম্বার এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন নতুন প্রশাসনের নীতির কারণে বাংলাদেশের বাণিজ্যে মিশ্র প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন বক্তারা।

বাংলাদেশি পণ্যে স্থগিত মার্কিন শুল্কমুক্ত সুবিধা বা জিএসপি ফিরে পাওয়ার আলোচনা আবার শুরুর পরামর্শ দিয়ে তাঁরা বলেছেন, অন্তত দেশটি থেকে আমদানি করা তুলায় তৈরি হওয়া পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দাবিতে জোর লবিং করা উচিত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে এখনই আলোচনায় বসতে সরকারকে পরামর্শ দেন তাঁরা।

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় হাতিয়ার হচ্ছে এফডিআই। বাংলাদেশের বাণিজ্যে প্রতিযোগী চীন, ভিয়েতনাম এমনকি লাওস, উগান্ডায়ও এফডিআই বাড়ছে। অথচ এ দেশে এফডিআই মন্দা কাটছে না। তিনি বলেন, এক দশক ধরে স্থানীয় বিনিয়োগ ভালো চিত্র প্রদর্শন করছে না। এ অবস্থায় এফডিআই আশা করা যায় না। বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময়ের জরিপে এফডিআইয়ে বাংলাদেশের দুর্বল অবস্থানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক গতিচিত্র সম্পর্কে সঞ্চালকের প্রশ্নের জবাবে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ধারাবাহিক উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং দ্রুতগতিতে উন্ন্নয়নে এগিয়ে যাওয়া দেশগুলোর অন্যতম এখন বাংলাদেশ। তবে এখনো চার কোটি মানুষ দ্রারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। দারিদ্র্য হ্রাসে আরো কী করা যায় তা ভাবতে হবে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সম্পৃক্ততা বাড়াতে উচ্চমূল্যের পণ্য এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে হবে। শ্রমিকের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।

ফারুক সোবহান বলেন, এফডিআই বাড়াতে চীনের বিনিয়োগ একটা বড় ইস্যু হতে পারে। প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরে প্রতিশ্রুত বিনিয়োগ আনতে সরকারের পক্ষে তাগাদা থাকতে হবে। চীনকে দেওয়া দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা দিতে হবে। তিনি বলেন, দক্ষিণ দক্ষিণ সহযোগিতা উন্নয়নে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক এই সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সহজ সংযোগ তৈরি করতে পারে।

মোহাম্মদ জমির বলেন, ব্রেক্সিট এবং মার্কিন নতুন প্রশাসনের কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। তবে ইইউর অস্ত্র ছাড়া সব পণ্যে (ইভিএ) জিএসপি সুবিধার তুলনায় যুক্তরাজ্যের জিএসপি হবে ভিন্ন ধরনের। দুই বছর পর ব্রেক্সিট কার্যকর হলেও জিএসপির আলোচনা এখনই শুরু করতে হবে বাংলাদেশকে।


মন্তব্য