kalerkantho


পেঁয়াজবীজ আবাদ করে মুনাফায় কৃষকরা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মসলাজাতীয় খাদ্যপণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ অন্যতম। তাই উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পেঁয়াজবীজের আবাদ বাড়িয়েছে রাজবাড়ীর কৃষকরা। পেঁয়াজের পাশাপাশি বীজের আবাদ করে তাই এ জেলার কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছে। এবার জেলা সদর, পাংশা, বালিয়াকান্দি, গোয়ালন্দ ও কালুখালী উপজেলা এলাকায় পেঁয়াজবীজ উৎপাদন হয়েছে ৩৯৭ হেক্টর। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৩২৮ হেক্টর। যা কি না গত বছরের তুলনায় ৬৯ হেক্টর বেশি। জেলায় এবার ছয় হাজার কৃষক পেঁয়াজবীজের আবাদ করছে।

রাজবাড়ী সদরের দাদশী ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের কৃষক রেজাউল সেখ জানান, তিনি প্রতিবছর পেঁয়াজের পাশাপাশি পেঁয়াজবীজের আবাদ করেন। এ বছর তিনি দুই বিঘা জমিতে বীজের চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বীজের বাজার দর দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।

সেই হিসেবে বিঘাপ্রতি উৎপাদিত পেঁয়াজবীজ পেয়ে থাকেন দুই থেকে আড়াই মণ। প্রতি মণ বীজ ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় তাঁরা বিক্রি করেন। তিনি পেঁয়াজবীজের আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বীজ আবাদে অধিক লাভবান হওয়ায় তাঁর মতো অনেক কৃষকই এখন তা চাষ করছে।

আরেক কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, জমি চাষ থেকে শুরু করে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, দিনমজুর, ফসল উত্তোলনসহ বিঘাপ্রতি ব্যয় হয়েছে তাঁর ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘা ফসলি জমি থেকে বীজ পেয়ে থাকেন দুই থেকে আড়াই মণ। এ বছর আশা করছেন এক বিঘা জমির উৎপাদিত বীজ দেড় থেকে দুই লাখ টাকা তিনি বিক্রি করতে পারবেন।

কৃষক সাইদুল মোল্লা বলেন, বাজারে পেঁয়াজবীজের উচ্চমূল্য রয়েছে। তা ছাড়া এটি একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় তাঁরা দিন দিন পেঁয়াজবীজ উৎপাদনে ঝুঁকছেন। বীজ উৎপাদনে যে খরচ হয় তা পেঁয়াজ বিক্রি করে উঠে আসে। আর বীজ বিক্রির সবটুকুই তাঁদের লাভ হয়।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শ্রীনিবাস দেবনাথ জানান, পেঁয়াজ একটি মসলাজাতীয় ফসল। এর বাজার দর বেশি হওয়ার প্রতিবছরই পেঁয়াজ ও পেঁয়াজবীজের আবাদ বাড়ছে। বর্তমানে জেলার ছয় হাজার কৃষক পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করছে। দিন দিন এর আবাদ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নানা ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যার কারণে কৃষকরা পেঁয়াজবীজ চাষ করে লাভবান হচ্ছে। এবার জেলা সদর, পাংশা, বালিয়াকান্দি, গোয়ালন্দ ও কালুখালী উপজেলা এলাকায় পেঁয়াজবীজ উৎপাদন হয়েছে ৩৯৭ হেক্টর। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৩২৮ হেক্টর। যা কি না বিগত বছরের তুলনায় ৬৯ হেক্টর বেশি।


মন্তব্য