kalerkantho


ব্যবসায়ীদের ‘ভ্যাট কার্ড’ দিতে চায় এনবিআর

ফারজানা লাবনী   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ব্যবসায়ীদের ‘ভ্যাট কার্ড’ দিতে চায় এনবিআর

দীর্ঘদিন থেকে নিয়মিত এবং সর্বোচ্চ ভ্যাট বা মূসক পরিশোধ করে আসছে এমন ব্যবসায়ীদের সম্মাননা হিসেবে ভ্যাট কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চিঠিতে ভ্যাট কার্ডধারীকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুুবিধা দেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দেওয়া হলে ভ্যাট কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগামী অর্থবছরের রাজস্ব বাজেট প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জাতীয় সংসদে অনুমোদন শেষে যা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের ভ্যাট প্রদান হিসাবের মূল্যায়ন করে আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্যাট কার্ড প্রদান করা হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, সৎ ব্যবসায়ীদের রাজস্ব প্রদানে উৎসাহিত করতে এনবিআর সব সুবিধা দিতে চায়। রাজস্ব উন্নয়নের অক্সিজেন। ভ্যাট প্রদানের মাধ্যমে এ অক্সিজেন সরবরাহ হয়। যারা ভ্যাট দেয় তারা দেশপ্রেমিক। দেশপ্রেমিক জনগণকে এনবিআর বিশেষ সম্মাননা দিতে চায়।

এনবিআর সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের জন্য এনবিআরের রাজস্ব বাজেট প্রস্তুত কমিটির কর্মকর্তারা গত রবিবারের বৈঠকে ভ্যাট কার্ড দেওয়ার পক্ষে প্রস্তাব তৈরি করে। সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এনবিআরের এ সিদ্ধান্ত যাচাই-বাছাই করে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ভ্যাট কার্ড দেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলে তা আগামী অর্থবছরের রাজস্ব বাজেট প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এনবিআর থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছর থেকে ভ্যাট আইন ২০১২ বাস্তবায়নে এনবিআরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। আইনটির অন্যতম ধারা অনলাইনে ভ্যাট আদায় কার্যক্রম কার্যকর করা। এতে বড় ও মাঝারি মাপের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে ইসিআর মেশিন ব্যবহারে এনবিআর জোর দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে এনবিআর যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে ভ্যাট আইন ২০১২ বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে প্যাকেজ ভ্যাটের বিধানটি বাতিল হচ্ছে। এভাবে ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের অসৎ উপায় অবলম্বন করে বা অহেতুক অজুহাত দেখিয়ে ভ্যাট পরিশোধ না করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। ভ্যাট আইন ২০১২ বাস্তবায়নের পর ভ্যাট আদায়ে স্বচ্ছতা এলে এ হিসাব থেকে সর্বোচ্চ, নিয়মিত বা দীর্ঘমেয়াদি প্রকৃত ভ্যাটদাতা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

নিয়মিত ভ্যাট প্রদানকারীদের এনবিআর থেকে দেশপ্রেমিক হিসেবে আখ্যায়িত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ব্যবসায়ীরা নিয়মিত এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে ভ্যাট পরিশোধ করলে এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। তাই ভ্যাট প্রদানকারী দেশপ্রেমিক সৎ ব্যবসায়ীদের সম্মাননা জানানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এনবিআর এই ব্যবসায়ীদের সব সুবিধা নিশ্চিত করতে চায়। সৎ ব্যবসায়ীদের যোগ্য সম্মাননা প্রদান করতে ভ্যাট কার্ড প্রদানে এনবিআর প্রস্তাব করছে।  

এনবিআরের চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ভ্যাট কার্ড প্রদানকারীকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তাদের মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে। ভ্যাট কার্ডধারী ব্যক্তিরা এ কার্ড দেখিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশের সুযোগ পাবে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পাবে। সরকারি পরিবহনে প্রথম শ্রেণির নাগরিক সুবিধা পাবে। এখানে আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকার পাবে। ভ্যাট কার্ডধারীরা বিদেশ ভ্রমণের ভিসা পাওয়ার সুবিধার্থে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুপারিশ করবে। সরকারি হাসপাতালে নিজের ও স্ত্রী-সন্তানদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা সুবিধা পাবে।


মন্তব্য