kalerkantho


আকস্মিক লোকসানে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা

ফখরে আলম, যশোর   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আকস্মিক লোকসানে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা

ধর্মঘটে বেনাপোলে আটকা পড়ে শত শত ট্রাক

দেশব্যাপী পরিবহন ধর্মঘটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে। ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও এরই মধ্যে ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে।

ক্ষেতের সবজি বাজারে যেতে পারেনি, মৌসুম শুরু হলেও নানা প্রজাতির মাছের চারা পোনা কেনাবেচা বন্ধ ছিল। দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ পণ্যজটের সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরে আটকে পড়া মাছ-পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে। জরুরি অক্সিজেন গ্যাস, গার্মেন্ট পণ্য ও শিল্প-কারখানার কাঁচামাল আটকা পড়ার কারণে উতপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে চার দিনের ধর্মঘটে ৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সবজি ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত যশোরের সাতমাইল, বারিনগর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ক্ষেতের সবজি ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। এই অঞ্চল থেকে প্রতিদিন ১৫টি ট্রাকে করে সবজি দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। এ ছাড়া এখানকার পাতাকপি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হয়। কিন্তু ধর্মঘটে সবজি রপ্তানিও ব্যাহত হচ্ছে।

আবদুলপুর গ্রামের সবজি চাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার আড়াই বিঘা ক্ষেতের পাতাকপি পড়ে রয়েছে। ধর্মঘটে আমি আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়েছি। ’

পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি মাসে এখান থেকে ১৬টি ট্রাকে সবজি চট্টগ্রাম হয়ে বিদেশে যায়। ধর্মঘটের কারণে তা বন্ধ ছিল। আমাদের চেয়ে চাষিরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ’

সূত্র জানায়, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে ৬২টি হিমায়িত মত্স্য প্রত্রিয়াজাত কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার প্রক্রিয়াজাত মাছ চট্টগ্রাম ও খুলনা বন্দর দিয়ে আমেরিকা, জাপান, হংকং, তাইওয়ান, দুবাইসহ আরো কয়েকটি দেশে যায়।

যশোরের মোফা ফিশ প্রসেসিং কারখানার মহাব্যবস্থাপক আনিসুর রহমান বলেন, ‘ধর্মঘটের কারণে মাছ জাহাজীকরণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে আমাদের সুনাম নষ্টের পাশাপাশি ক্রেতারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে। আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে। ’ বেনাপোল স্থলবন্দরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতাল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত জরুরি গ্যাস, পেঁয়াজ, মাছ, গার্মেন্ট পণ্য, শিল্প-কারখানার কাঁচামাল বন্দরে আটকা পড়ে গত দুইদিনে। বেনাপোল সীমান্তের দুই দিকে কয়েক হাজার পণ্যবাহী ট্রাক এখনও আটকা পড়ে আছে। বন্দরের উপপরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, ‘প্রতিদিন বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে গড়ে ৩০০টি ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। ধর্মঘটের কারণে কোনো ট্রাক পণ্য নিয়ে যেতে পারেনি। যে কারণে পণ্যজট সৃষ্টি হয়েছে। ’

ইন্দো-বাংলা চেম্বারের বন্দর কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমার নিজের ১৪টি ৪০ ফুট গ্যাস বোঝাই ট্যাংকার চার দিন ধরে বন্দরে পড়ে আছে। জরুরি এই গ্যাস সরবরাহ বিঘ্ন হওয়ায় রোগীদের অসুবিধা হচ্ছে। কাঁচামালের অভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিল্প-কারখানার উতপাদন। ’

ধর্মঘটে যশোরের চাঁচড়া মত্স্য পল্লীর বেচাবিক্রিতে ভাটা পড়ে। স্থানীয় নার্সারি মালিক মহিতুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের উতপাদিত পাঙ্গাস মাছের পোনা ভোলা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, পাথরঘাটাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। কিন্তু ধর্মঘটে মাছ পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে। ’


মন্তব্য