kalerkantho


সাত মাসে ২০ শতাংশ কমেছে প্রবাসী আয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সাত মাসে ২০ শতাংশ কমেছে প্রবাসী আয়

গত নভেম্বরে প্রবাসীরা মাত্র ৯৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। ওই অঙ্ক ছিল গত পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন।

তাতেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এবার ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স আরো কমে মাত্র ৯৩ কোটি ৬২ লাখ ডলারে নেমেছে। সর্বশেষ ২০১১ সালের নভেম্বরে প্রবাসীরা ৯০ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন।

সব মিলিয়ে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ৮১১ কোটি ২৫ লাখ ডলার। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৪৮ শতাংশ কম। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯৭৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

বিশ্ববাজারে তেলের দর পড়ে যাওয়া এবং মুদ্রা বিনিময় হারসহ কিছু কারণে রেমিট্যান্স কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। গত জানুয়ারি শেষে অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যেই আবার রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করবে। ’ কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে আসা রেমিট্যান্সের তথ্যে সেই আশাবাদের প্রতিফলন ঘটল না।

বরং স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্সের একটি রেকর্ড তৈরি করল।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তেলের দাম পড়ে যাওয়া ও মুদ্রা বিনিময় হার ছাড়াও আরো দুটি কারণে রেমিট্যান্স কমে গেছে। আমাদের দেশের শ্রমিকরা বেশি রয়েছে—এমন দেশগুলোতে বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার ভুয়া এজেন্ট দেখিয়ে অবৈধভাবে টাকা দেশে পাঠানো এবং সৌদি আরবে নতুন শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় অনেকেই তাঁদের আত্মীয়স্বজনদের সে দেশে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যে কারণে অনেক প্রবাসীর পক্ষে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ কিছুটা সীমিত হয়ে গেছে। এগুলোও আমাদের শোনা কথা। আমাদের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে কাজ করছে। দেশের মধ্যে এবং দেশের বাইরে গিয়ে তারা খোঁজ নিচ্ছে। তাদের প্রতিবেদন পেলেই রেমিট্যান্স কমার কারণ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা যাবে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি মুদ্রা ভাঙিয়ে টাকার রূপান্তর করতে গেলে এখন তুলনামূলক কম অর্থ পাওয়া যায়। এ কারণে বেশি লাভের আশায় অনেকেই অবৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর পথ বেছে নিচ্ছে। তা ছাড়া দেশের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার নাম ব্যবহার করে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান হুন্ডিতে সহায়তা করছে। এ জন্য গত জানুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শহর দুবাইয়ে অবৈধ পথে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোয় ২৫ দোকানকে জরিমানা করেছে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিভাগ।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ডলারের বিপরীতে পাউন্ড, ইউরো, রিঙ্গিত, সিঙ্গাপুরি ডলারসহ প্রভৃতি মুদ্রার মূল্যমান কিছুটা কমে গেছে। ফলে এসব দেশে অবস্থানরত প্রবাসী দেশে অর্থ পাঠালে তাঁদের স্বজনরা আগের থেকে কিছু কম টাকা পাচ্ছে।

এসব কারণে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিট্যান্স নিয়ে তৎপর হয়ে উঠলেও তেমন ফল হয়নি। রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার কারণ চিহ্নিত করতে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। প্রবাসী আয় বেশি আসে, এমন ৩০টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে সভা করেছে সংস্থাটি। তা ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হুন্ডির অর্থ স্থানান্তর বন্ধে সম্প্রতি এই সেবার লেনদেন ও অর্থ উত্তোলন সীমা কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে।

রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার এই ইস্যুতে গত মাসে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও সভা করেছে। রেমিট্যান্স কমার কারণ জানতে বাংলাদেশি শ্রমিক অধ্যুষিত চার দেশে গেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিরা।

গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গেছে। প্রতিনিধিদলের দেশে ফিরে রেমিট্যান্স কমার কারণ সম্পর্কে গবেষণামূলক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।


মন্তব্য