kalerkantho


চতুর্থ দিনের মতো কমেছে সূচক

বাজার মূলধন কমেছে তিন হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বাজার মূলধন কমেছে তিন হাজার কোটি টাকা

টানা চতুর্থ দিনে দেশের দুই পুঁজিবাজারে মূল্যসূচক কমছে। সূচক কমার সঙ্গে কমছে দিনের লেনদেন ও শেয়ার হাতবদলের সংখ্যাও।

চার দিনের মূল্য সংশোধনের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। আর চার দিনে শেয়ার হাতবদল কমেছে ১৫ কোটি ৮৮ লাখ। আর চলতি মাসের প্রথম দুই দিনে শেয়ার হাতবদলের সংখ্যা কমেছে প্রায় ১০ কোটি।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই পুঁজিবাজারে সূচক কমছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চার কার্যদিবসে প্রথম দুই দিন সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছিল। তবে শেষ দুই দিন সূচক কমার সঙ্গে কমেছে লেনদেনও। যদিও এর আগে কয়েক দিন ধারাবাহিক উত্থানে লেনদেন হাজার কোটি টাকা পার হয়েছিল। শেষ দুই দিনে লেনদেন হয়েছে হাজার কোটি টাকার নিচে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই বাজার সংশোধন হচ্ছে।

এ সময়ে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলেছে। এ জন্য বাজারে শেয়ারের চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি হওয়ায় কম্পানির শেয়ার দাম কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে বাজার মূলধনও। গত ফেব্রুয়ারিতে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৭৫ হাজার ৭৬০ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার এই মূলধন দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৭২ হাজার ৯০৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সেই হিসেবে বাজার মূলধন কমেছে দুই হাজার ৮৫০ কোটি ২১ লাখ টাকা।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শেয়ার হাতবদলের সংখ্যা ছিল ৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭২টি। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৬১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৫টি। সেই হিসেবে শেয়ার হাতবদলের সংখ্যা কমেছে ১৫ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার ১২৭টি। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হাতবদল কমেছে। কোনো বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করছে অথবা কেউ কেউ শেয়ার কিনে রেখেছে তবে বিক্রি করছে না।

চার কার্যদিবস সূচক কমায় ডিএসইর সূচক কমেছে ৪৮ পয়েন্ট। ২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর সূচক ছিল পাঁচ হাজার ৬৩৫ পয়েন্ট। বৃহস্পতিবার সেই সূচক কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৫৮৬ পয়েন্ট।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮৩০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আর মূল্যসূচক কমেছে ১০ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯৬১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আর মূল্যসূচক কমেছিল ১৫ পয়েন্ট।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর থেকে সূচক হ্রাস-বৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে দিনশেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৫৮৬ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্য সূচক ০.২২ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ২১ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৩০৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩২৯ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৯৬টির, কমেছে ১৮৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৪ কম্পানির শেয়ার দাম।

অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ৪২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আর মূল্যসূচক কমেছে ৩৩ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছিল ১০ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ২৫৭ কম্পানির মধ্যে ৮১টির, ১৪৭টির ও ২৯ কম্পানির শেয়ার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।


মন্তব্য