kalerkantho


অবকাঠামো উন্নয়নে গ্রামীণ আয় বেড়েছে বাংলাদেশের

বাণিজ্য ডেস্ক   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



অবকাঠামো উন্নয়নে গ্রামীণ আয় বেড়েছে বাংলাদেশের

গ্রামে অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে বেড়েছে কৃষি উৎপাদন, কমেছে পণ্য বিপণন খরচ

গ্রািমীণ অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের আয় বেড়েছে বলে মনে করে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার এশিয়ায় অবকাঠামো বিনিয়োগ নিয়ে ‘মিটিং এশিয়াস ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিডস’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থা।

এতে পরিবহন অবকাঠামো কিভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে এশিয়ায় এমন উদাহরণ দেখাতে গিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে বিনিয়োগের ফলে এ দেশের কৃষি উৎপাদন বেড়েছে, গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের আয় বেড়েছে, পরিবহন খরচ কমেছে এবং স্কুলগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে।

তবে বিদ্যুতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পিছিয়ে রয়েছে। এতে শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়ছে ৬.০ শতাংশ হারে। অন্যদিকে শহরের পাশাপাশি গ্রামেও টেলিকম খাতে অনেক দূর এগিয়েছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর টেলিকম খাতে এখনো বিপুল বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। নিরাপদ পানি প্রাপ্তি ও স্যানিটেশন সুবিধার দিক থেকেও এশিয়ায় পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এ দেশের শহর ও গ্রামে উভয় ক্ষেত্রেই নিরাপদ পানির ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, উন্নয়নশীল এশিয়ার দেশগুলোকে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে।

একই সঙ্গে জোরালো প্রবৃদ্ধি অর্জন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধেও লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সংস্থা জানায়, বেশ কিছু দরিদ্র দেশের সরকারকে পরিবহন, টেলিকম, বিদ্যুৎ, পানি ও স্যানিটেশনসহ সব খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়নে নাটকীয় গতি পেলেও ৪০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ৩০০ মিলিয়ন মানুষ নিরাপদ খাবার পানি পায় না এবং ১.৫ বিলিয়ন মানুষ মৌলিক স্যানিটেশন সেবা থেকে বঞ্চিত।

প্রতিবেদনের পাশাপাশি এক বিবৃতিতে এডিবি প্রেসিডেন্ট তাকেহিকো নাকাও বলেন, বর্তমানে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যে অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে তার চেয়ে চাহিদা অনেক বেশি। এ মুহূর্তে এশিয়ায় নতুন ও আরো উন্নত অবকাঠামো প্রয়োজন। যা গুণগত মানসম্পন্ন কাজে সহায়ক হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উৎসাহিত করবে। এর পাশাপশি জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কাজ করতে বৈশ্বিক যে চাহিদা তৈরি হচ্ছে তা পূরণ করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অবকাঠামো উন্নয়নে ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরে উন্নয়নশীল এশিয়ায় ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন। যা বর্তমানে বিনিয়োগকৃত ৮৮১ বিলিয়ন ডলারের দ্বিগুণ হবে। এডিবির মতে, এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে হবে ১৪.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, পরিবহন খাতে ৮.৪ ট্রিলিয়ন ডলার এবং টেলিকম খাতে ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

৮০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনে। বলা হয়, বছরে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এবং গণপরিবহনে। অথচ বর্তমানে প্রতিবেদনে যোগ হওয়া ৪৫টি দেশেই বিনিয়োগ ব্যবধান অনেক বেশি।


মন্তব্য