kalerkantho


ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান বললেন

প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কর্মীই একেকজন উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কর্মীই একেকজন উদ্যোক্তা

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে লোকবক্তৃতায় প্রধান বক্তা ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের হাতে হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ফারাজ আইয়াজ হোসেনের একটি স্কেচ তুলে দেন ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ এম ইসলামসহ শিক্ষার্থীরা

প্রিতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিকের ভেদাভেদ করা হলে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মনে করেন ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লতিফুর রহমান। তিনি বলেন, “যিনি অর্থ লগ্নি করবেন, তিনিই কেবল উদ্যোক্তা, এ ধারণা সঠিক নয়। প্রতিষ্ঠানে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা প্রত্যেকেই একেকজন উদ্যোক্তা। কারণ প্রতিদিনই তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন বা উদ্যোগ নিচ্ছেন এবং সেটির বাস্তবায়ন করছেন। এ কারণে নিজেকে আমি কখনো প্রতিষ্ঠানের মালিক মনে করি না। ‘মালিক’ শব্দটিও ব্যবহার করি না। ” সফল প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হলে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি মানুষের প্রতিযোগিতামূলক বেতন কাঠামোর পাশাপাশি যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান।

গতকাল সোমবার সোবহানবাগে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার আয়োজিত ‘সফল উদ্যোক্তা’ শীর্ষক ধারাবাহিক লোকবক্তৃতায় প্রধান বক্তা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে লতিফুর রহমান এ কথা বলেন। এ সময় অনুষ্ঠানে হলভর্তি শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের সামনে নিজের ব্যবসায়িক সাফল্য ও উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প শোনান ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য করণীয়, ব্যবসায়িক নীতি-নৈতিকতা, পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী প্রশ্নেরও খোলামেলা জবাব দেন এই শিল্পোদ্যোক্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আপনি প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিক, তা আগে কখনো জানতাম না।

এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে আপনার মূলনীতি কী?’ ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান জবাবে বলেন, ‘আমি নিজেকে মালিক পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। এসব প্রতিষ্ঠানে আমি যাইও না, এমনকি সেখানে আমার বসার কোনো কক্ষও নেই। ওখানে আমার যে সহকর্মীরা আছেন তাঁরাই প্রতিষ্ঠান চালান। ’

তরুণদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত এই বরেণ্য শিল্পপতি বলেন, ‘তোমাদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই চলবে না, নৈতিক শিক্ষায়ও শিক্ষিত হতে হবে। তা না হলে তোমাদের অর্জিত শিক্ষা এবং সার্টিফিকেট কোনো কাজে আসবে না। ’

এ সময় লতিফুর রহমান হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত প্রিয় নাতি ফারাজ আইয়াজ হোসেনের নৈতিক শিক্ষাকে স্মরণ করে বলেন, ‘ফারাজ ছিল তোমাদের মতোই তরুণ। সে তার জীবন দিয়ে নৈতিকতার প্রমাণ দিয়ে গেছে। ’

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ফারাজ আইয়াজ হোসেনের একটি স্কেচ তাঁর নানা লতিফুর রহমানের হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফারাজ আইয়াজ হোসেন এবং লতিফুর রহমানের নামেও পৃথক দুটি শিক্ষাবৃত্তি চালু করা হবে। দুটি বৃত্তিই দেওয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য।

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়ুয়া নাইজেরিয়া বংশোদ্ভূত এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের উত্তরে লতিফুর রহমান বলেন, ‘উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য নিজের সদিচ্ছাই যথেষ্ট। আইডিয়া তোমাদের চারপাশেই ছড়ানো রয়েছে। শুধু নিজের আগ্রহ আর পছন্দ বুঝে আইডিয়া নির্বাচন করো এবং কঠোর পরিশ্রম করো, সফল হবেই। ’

এ সময় লতিফুর রহমান আরো বলেন, একা একা সংগ্রাম করে কখনো সফল হওয়া যায় না। সফল হতে হলে পারস্পরিক সহযোগিতা লাগে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ কাজ আদায় করে নিতে হলে প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিবেশ কর্মীবান্ধব করতে হয় বলেও মনে করেন এই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ এম ইসলাম ও ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের পরিচালক মো. আবু তাহের খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স) সৈয়দ মিজানুর রহমান।  

অনুষ্ঠানে মো. সবুর খান বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্প ক্ষেত্রে যাঁরা বিপ্লব করেছেন তাঁদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো গবেষণা নেই। সেসব গল্প শুনতেই আমাদের ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া লেকচার সিরিজ। ’

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসা জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম লতিফুর রহমান। নৈতিক ব্যবসার ক্ষেত্রে তিনি এক রোল মডেল। তাঁর মুখে উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প শুনতে পারা নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যের ব্যাপার।


মন্তব্য