kalerkantho


নতুন বিও অ্যাকাউন্ট খোলায় ধীরগতি

পুরনো বিনিয়োগকারীরাই সক্রিয় পুঁজিবাজারে

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পুরনো বিনিয়োগকারীরাই সক্রিয় পুঁজিবাজারে

মাঝে কিছু উত্থান-পতন বাদ দিলে গত তিন মাস ধরে দেশের পুঁজিবাজারে বেশ চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। এর মধ্যে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের পুঁজিবাজারের চালচিত্রকে পরিপক্ব বাজার হিসেবেই মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এক সেক্টরের দর বৃদ্ধির সঙ্গে অন্য সেক্টরের মূল্য সংশোধনকে ভালো বাজারের আচরণ হিসেবেই দেখছেন তাঁরা। আর বাজারের সার্বিক গতি-প্রকৃতির পেছনেই রয়েছে পুরনো বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতি।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৫ নভেম্বর দেশে সক্রিয় বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা ছিল ২৯ লাখ সাত হাজার ৫৮২ জন। ডিসেম্বর শেষে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে বিও অ্যাকাউন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ লাখ ৪৮ হাজারে। অর্থাৎ মাত্র ৩০ কার্যদিবসে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে ৪০ হাজার ৪১৮টি। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ৩৪৭টি। কিন্তু চলতি বছরে গতকাল ২৭ জানুয়ারি সর্বশেষ আপডেটে সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৮৩টিতে। অর্থাৎ এ বছরের সর্বশেষ ৪১ কার্যদিবসে নতুন বিও বেড়েছে ছয় হাজার ৯৮৩টি। গড়ে প্রতিদিন বেড়েছে ১৭০টি অ্যাকাউন্ট।

এরমধ্যে রবিবার খোলা হয়েছে মাত্র আটটি বিও অ্যাকাউন্ট। তবে বিও সংখ্যা কমলেও নতুন বছরে বাজারে লেনদেন বেড়েছে গত বছরের শেষ দুই মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় উপস্থিতি এবং পুরনো বিনিয়োগকারীদের কার্যকারিতা বাড়ার ফলেই দীর্ঘদিন পর বাজার আবার চাঙ্গা হয়েছে।

চিটাগং ইনভেস্টর ফোরামের আহ্বায়ক আসলাম মোরশেদ বলেন, ‘আমরা যারা পুরনো বিনিয়োগকারী তারা কিন্তু বড় ধরনের লোকসানের মধ্যেও এক দিনের জন্যও শেয়ারবাজার ছেড়ে বের হইনি। বাজার চাঙ্গা হওয়ার সাথে সাথে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর শূন্য আসন আবার বিনিয়োগকারীদের হাস্যরসে ভরে উঠেছে। এর মধ্যে হাতেগোনা কিছু নতুন বিনিয়োগকারী থাকলেও বেশির ভাগই পুরনো বিনিয়োগকারী। অনেকে হয়তো মাইনাস ইক্যুইটির কারণে পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা করতে পারত না। কিন্তু বাজার ভালো হওয়ার সাথে সাথে আবারও পোর্টফোলিওতে নিজেদের অধিকার ফিরে পেয়েছে। আমারও যেমন মাইনাস পোর্টফোলিও এখন অনেকটাই লেবেল হয়ে গেছে। অনেকে হয়তো পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার পারফরম্যান্সের কারণে লাভের মুখও দেখেছে। এই মুহূর্তে বাজারে লেনদেনের যে ধরন তা আসলেই আশাব্যঞ্জক। এর ফলে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কেটেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। ’

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহ জহুর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে হয়তো ২৯ কিংবা ৩০ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট কার্যকর রয়েছে। তবে এর মধ্যে সেকেন্ডারি মার্কেটে সক্রিয় আছে কমবেশি এক লাখ ১৭ হাজার থেকে ১৮ হাজার বিনিয়োগকারী। শেয়ারবাজারটা মূলত এরাই চাঙ্গা রেখেছে। এর মধ্যে ফিন্যানশিয়াল ইনস্টিটিউট যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারী। বাকিগুলো মূলত আইপিও লটারিতে অংশ নিতেই কার্যকর থাকে। বিও অ্যাকাউন্টধারীদের মধ্যে যারা নিষ্ক্রিয় তাদের সক্রিয় করলেই বাজারে আর কোনো তারল্য সংকট থাকে না। ’

সালেহ জহুর আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি ঘোষণার পর থেকে গত তিন সপ্তাহে পুঁজিবাজারের যে লেনদেন তা অনেক পরিপক্ব বলেই মনে হচ্ছে। যদি কোনো সেক্টরের দাম বাড়ে তাহলে অন্য আরেকটি সেক্টরের মূল্য সংশোধন হচ্ছে। ’

একই কথা বললেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে বাজারের যে আচরণ তা আসলেই পরিপক্ব। প্রথমে দর বাড়া শুরু হয় আর্থিক সেক্টর দিয়ে। পরবর্তী সময়ে তা সংশোধন হয়ে অন্য সেক্টরের দর বেড়েছে। এটা একটা ভালো শেয়ারবাজারের আচরণ হওয়া উচিত। এভাবে চললে সহসা বাজারে বাবল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ’ নতুন বিও অ্যাকাউন্ট খোলা প্রসঙ্গে সালেহ জহুর বলেন, ‘বিও অ্যাকাউন্ট কমছে বা বাড়ছে এটা দিয়ে বাজারের প্রকৃত অবস্থা বুঝায় না। কারণ কেউ বিও অ্যাকাউন্ট খুললেই যে সে লেনদেনে সক্রিয় তা বুঝায় না। বরং এই বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হয় মূলত আইপিও লটারিতে অংশ নেওয়ার জন্য। ’


মন্তব্য