kalerkantho


সতর্ক লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সতর্ক লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজার

২০১০ সালে ধসের পর দীর্ঘ ছয় বছরে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলেও চলতি বছরের শুরুতে আবারও আলোচনায় এসেছে পুঁজিবাজার। তলানিতে থাকা সূচক হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী।

ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ে লেনদেনও। স্বাভাবিক নিয়মে বাজার উঠছে না এমন সংশয় ও মুদ্রানীতি ঘোষণার পর থেকে আবারও কমতে থাকে লেনদেন। অনেক শেয়ারের দামও আগের জায়গায় ফিরে যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, বাজার ওই সময় স্বাভাবিক গতিতে চললেও কিছু মন্তব্যে আশাহত হয়েছে বিনিয়োগকারীরা। আস্থাহীনতায় অনেকে শেয়ার বিক্রি করে দেয়। এতে বাজার আবারও নিচে নেমে যায়। বর্তমানে বাজার নিয়মতান্ত্রিকভাবেই এগোচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতিও বাড়ছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার।

এই সময় লেনদেন ৬০০ কোটি টাকা থেকে হাজার কোটির ঘরে উন্নীত হয়। তবে নতুন বছরের শুরুতে অন্য রকম ঢেউ লাগে বাজারে। লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে দুই হাজার কোটিতে উন্নীত হয়। বৃহস্পতিবার গত সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়।

গতকাল রবিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৬ হাজার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড। যার আর্থিক মূল্য এক হাজার ৩৯৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আর মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় ১০ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৩৩৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা আর সূচক কমেছিল ০.৫০ পয়েন্ট। সেই হিসাবে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সূচকের হ্রাস-বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে লেনদেন চলতে থাকে। এই সময়ের পর থেকে প্রায় এক ঘণ্টা একটানা ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার। এতে দিনের সূচক পাঁচ হাজার ৬৫০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। তবে পরবর্তী সময়ে আবারও ক্রমাগত নিম্নমুখী হয় সূচক। দিনশেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৬৩৫ পয়েন্ট।

ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ১.১৫ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ৩৭ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ২.৬০ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৩১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩২৮টি কম্পানির মধ্যে বেড়েছে ১২৬টি, কমেছে ১৬০টি ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪২টি কম্পানির শেয়ারের দাম।

লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে অ্যাকটিভ ফাইন। কম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ৫৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আর তৃতীয় স্থানে থাকা তিতাস গ্যাসের লেনদেন হয়েছে ৫১ কোটি ১০ লাখ টাকা।

অন্য শীর্ষ কম্পানিগুলো হলো লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, বারাকা পাওয়ার, কেয়া কসমেটিকস, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, বেক্সিমকো লিমিটেড, ডেসকো ও বিডি থাই।

দাম বৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, জিএসপি ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স, আইপিডিসি, মতিন স্পিনিং, অ্যাকটিভ ফাইন, ড্যাফোডিল কম্পিউটার ও কেয়া কসমেটিকস।

আরেক বাজার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আর সূচক বেড়েছে ১০ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ২৫৩টি কম্পানির মধ্যে বেড়েছে ৯২টি, কমেছে ১৩৪টি ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টি কম্পানির শেয়ারের দাম।


মন্তব্য