kalerkantho


চতুর্থ এশিয়া এলপিজি সামিট উদ্বোধনীতে নসরুল হামিদ

৭০ শতাংশ মানুষ এলপি গ্যাস পাবে দুই বছরে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



৭০ শতাংশ মানুষ এলপি গ্যাস পাবে দুই বছরে

আইসিসিবিতে এলপিজি সামিটের উদ্বোধনীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, এলওএবি সভাপতি সালমান এফ রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাজিমউদ্দিন চৌধুরী ও বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহানসহ অন্যরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস সীমিত, তাই আমাদের বিকল্প জ্বালানি দিকে যেতে হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনা আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের কাছে সহনীয় দামে এলপি গ্যাস পৌঁছে দেওয়া’, গতকাল রবিবার ঢাকায় শুরু হওয়া দুই দিনের ‘চতুর্থ এশিয়া এলপিজি সামিট ২০১৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন আশ্বাস দিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীর কুড়িলসংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে এ সম্মেলন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গত পাঁচ-ছয় বছরে দেশের অর্থনীতির আকার অনেকটা বেড়েছে। বেসরকারি খাতে গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা বেড়েছে। তাই সরকারের বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি নীতিমালা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। বিশ্বের কোথায় এলপিজির কেমন দাম আছে, দেশের মধ্যে কোন অঞ্চলে এলপিজির আনা-নেওয়ার খরচ কেমন, এগুলোর ওপর ভিত্তি করে এলপিজির দাম নির্ধারণের ‘ম্যাকানিজম ফ্যাক্টর’ ঠিক করে দেওয়ার জন্যই এই নীতিমালা করা হবে। এখন এলপিজির দাম নির্ধারণে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাও করতে হবে। বিস্ফোরক অধিদপ্তরকে সংশোধন করতে হবে। কেননা সেখানে সিলিন্ডার পরীক্ষা নিয়ে অনেক ধরনের অনিয়ম হয়। এটা দূর করতে হবে গ্রাহকের নিরাপত্তা বিধানের জন্য।

এলপিজি সামিটে ২২টি দেশের ১০০টিরও বেশি কম্পানি অংশ নিয়েছে। দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের পর আরো একটি দিন অংশগ্রহণকারীদের এলপিজি কারখানা পরিদর্শনের একটি অনুষ্ঠান রয়েছে। ওয়ার্ল্ড এলপিজি অ্যাসোসিয়েশন (ডাব্লিউএলপিজিএ), সিঙ্গাপুরের অল ইভেন্টস গ্রুপ এবং বাংলাদেশের গ্লোবাল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড যৌথভাবে এই সামিটের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে দেশের এলপিজি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান মালিকদের নবগঠিত সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলওএবি) লোগো উন্মোচন করা হয়। নসরুল হামিদের উপস্থিতিতে সংগঠনটির সভাপতি সালমান এফ রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাজিমউদ্দিন চৌধুরী, বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান, ওমেরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী প্রমুখ ফিতা কেটে এই লোগো উন্মোচন করেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমর্থনে অনুষ্ঠিত এই সামিটের প্লাটিনাম স্পন্সর ওমেরা এলপিজি, গোল্ড স্পন্সর বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লি. এবং সিলভার স্পন্সর হেক্সগন রাগাস্কো। উদ্বোধনী বক্তব্যে নসরুল হামিদ আরো বলেন, ‘বছর দশেক আগে একটা কথা প্রচলিত ছিল, দেশ প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ভাসছে। এটি ছিল একটি রাজনৈতিক ভাঁওতাবাজি। কারণ বিএনপি-জামায়াত সরকারের নীতি ছিল প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি করা। কিন্তু বর্তমান সরকার মূল্যবান প্রাকৃতিক এই সম্পদ রপ্তানি না করে দেশের কাজে লাগাতে চায়। তবে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস সীমিত। এই গ্যাসের ১২ শতাংশের বেশি ব্যবহার হচ্ছে বাসাবাড়ি ও পরিবহনে। মাত্র ৩০ লাখ লোক প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করতে পারছে। চার কোটি লোক অন্যান্য উেসর জ্বালানি দিয়ে কাজ চালাচ্ছে। ’

সালমান এফ রহমান বলেন, “এলপিজির দাম নির্ধারণে আমাদের অ্যাসোসিয়েশন থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড’ দাম নির্ধারণ করে দেব সব কম্পানির জন্য। তবে সেটা হবে অঞ্চলভিত্তিক। অর্থাৎ উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার জন্য হয়তো আলাদা আলাদা দাম হবে। এটা আমরা এপ্রিলের মধ্যেই করতে পারব বলে আশা করছি। ”

সামিটের প্রথম অধিবেশনে ‘টেকসই এলপিজি বাজার নির্মাণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপজীব্য’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউএলপিজিএর পরিচালক ডেভিড টেইলর। এ সময় তিনি জানান, ২০১৫ সালে সারা বিশ্বে ২৮ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহার হয়। বিশ্বব্যাপী ব্যবসা ছিল ২৫ হাজার কোটি ডলারের। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি এলপিজি উৎপাদিত হচ্ছে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি এলপিজি ব্যবহার হয় বাসাবাড়িতে, ৪৪.১ শতাংশ। এরপর রাসায়নিক ও পরিশোধনে ব্যবহার হয় ৩৩.৫ শতাংশ। শিল্প ও কৃষিতে ব্যবহার হয় ১৩.১ শতাংশ এবং পরিবহনে ব্যবহার হয় ৯.৩ শতাংশ।

ডেভিড টেইলর বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের বিশ্বাস, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ কোটি মানুষ প্রচলিত উেসর জ্বালানি থেকে এলপিজিতে চলে আসবে। পরিবহনে এলপিজির ব্যবহার ধোঁয়া ও কার্বন কমিয়ে ইঞ্জিনকে সুরক্ষা দেওয়ায় এ খাতেও এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে। বর্তমানে বিশ্বে দুই কোটি ৬০ লাখ পরিবহন এলপিজি ব্যবহার করছে। ’ এ ছাড়া ‘প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে এলপিজির ব্যবহারে আসা : বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন ঘরানা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ রিয়াদ আলী। বক্তব্য দেন ওমেরা পেট্রোলিয়াম গ্রুপের এজিএম তানজীব চৌধুরী।


মন্তব্য