kalerkantho


উন্নত কর্মপরিবেশ, স্থিতিশীল নীতি ও অবকাঠামো উন্নয়ন

শিল্পে দেশ এগিয়ে নিতে প্রয়োজন তিনের সমন্বয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শিল্পে দেশ এগিয়ে নিতে প্রয়োজন তিনের সমন্বয়

দ্বিতীয় ঢাকা অ্যাপারেল সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় করতে চায়, একই সঙ্গে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এসব লক্ষ্য অর্জন করতে দরকার সহায়ক ব্যবসায়িক নীতি এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিজিএমইএ আয়োজিত দ্বিতীয় ঢাকা অ্যাপারেল সামিটের ‘বিজনেস পলিসি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট : টুওয়ার্ডস এ বেটার বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

তাঁরা বলেন, ব্যাংকের ঋণ নিতে গেলে এখনো অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সেই সঙ্গে আছে চড়া সুদহার। নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। বিদ্যুতের উতপাদন বাড়লেও সঞ্চালনব্যবস্থা এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে। অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং বন্দর সমস্যা রয়েছে প্রকট। এসব বাধা দূর করতে পারলে একদিকে যেমন পোশাক রপ্তানি থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব হবে, তেমনি বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়া যাবে।

এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় সেমিনারের এ অংশে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট, সাউথ এশিয়া ফর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার নির্বাহী পরিচালক রবার্ট ম্যাকডুগাল, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ক্রিস্টোফার উডরোফ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম এ সবুর, বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাসির, এ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের এমডি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠান মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারের কান্ট্রি হেড স্বপ্না ভৌমিক।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ।

প্রবন্ধে নাজনীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের শিল্প সামনে এগিয়ে নিতে হলে এখন তিনটি জিনিসের সমন্বয় খুব জরুরি। আর তা হলো, উন্নত কর্মপরিবেশ, স্থিতিশীল নীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এসব বিষয় নিয়ে সরকার ও মালিকপক্ষকে কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও থাকতে হবে। এসব চাহিদা পূরণ করতে পারলে বিশ্বের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশ হবে অন্যতম প্রধান সোর্সিং কান্ট্রি।

পোশাক খাতে সাম্প্রতিক সময়ের উতপাদন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে নাজনীন আহমেদ বলেন, রানা প্লাজা ধস-পরবর্তী কারখানার সংস্কারকাজসহ বিভিন্ন কারণে পোশাকের উতপাদন ব্যয় বেড়েছে ৮ শতাংশ। উল্টো পোশাকের দর কমেছে গড়ে ১৪ শতাংশ। বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার মান বেড়েছে ডলারের বিপরীতে। উল্টো প্রতিযোগী দেশগুলোতে তাদের সরকার নিজেদের মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান শক্ত করেছে, সেই সঙ্গে সরকার নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশে তার উল্টো চিত্র। এই সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শ্রম পরিবেশ উন্নত হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে এবং হচ্ছে। বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেক দেশ বাংলাদেশে ইতিমধ্যে বিনিয়োগ করেছে। বেশ কিছু দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাই আমরা পিছিয়ে যাব না, সামনে এগিয়ে যাব। ’


মন্তব্য