kalerkantho


যানজটে বছরে ক্ষতি ২০ হাজার কোটি টাকা

গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন চায় ঢাকা চেম্বার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন চায় ঢাকা চেম্বার

ডিসিসিআই সভাকক্ষে সংলাপ সঞ্চালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

ঢাকার যানজটের কারণে প্রতিবছর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা। দেশের শহরাঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০ শতাংশ লোক ঢাকায় বসবাস করে। ঢাকা শহরের ওপর থেকে চাপ কমানোর জন্য এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং সামাজিক সেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিতে হতে। গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। বিশেষ করে সারা দেশে কার্যকর রেল সংযোগ স্থাপন ও রেলের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘ঢাকার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ : সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সংলাপে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান এসব কথা বলেন। ঢাকা চেম্বার অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সংলাপ সঞ্চালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান, সদস্য এম এস সিদ্দিকী, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আব্দুল হক, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আরো অনেকে।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অনেক সংস্থার অংশীদারির কারণে রাজধানী ঢাকার অবকাঠামো ও সেবা খাতের উন্নয়ন বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন রামা। সভায় তিনি বলেন, বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা অন্যতম। এ ছাড়া এ শহরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও প্রচুর।

তবে তা অর্জনে সরকারের যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন খুবই জরুরি।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ঢাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করা প্রয়োজন, যা নীতিনির্ধারণী মহলকে তাদের পরিকল্পনা প্রণয়নে সহযোগিতা করবে। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে সমভাবে ঢাকা ও মফস্বল অঞ্চলের উন্নয়ন করা দরকার। তা ছাড়া সামাজিক সেবা খাতগুলোতে গুরুত্বারোপ করার সময়ে এসেছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও পর্যটনের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।

হোসেন জিল্লুর রহমান এসএমই খাতের বিকাশে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন এবং পুরান ঢাকার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সম্ভাবনা ও সমস্যা বিষয়ে মতিবিনিময় সভা আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ২০১৬ সালে পিপিআরসি পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা শহরে বসবাসকারী প্রতিটি পরিবারের মাসিক গড় আয় ৩৮ হাজার টাকা। তিনি সরকারের উন্নয়নমুখী সুশাসনে নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান। তিনি ঢাকার সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে রাজউক, সিটি করপোরেশন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্টেকহোল্ডাদের নিয়মিত সমন্বয় সভা আয়োজনের প্রস্তাব করেন।

মুক্ত আলোচনায় এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আব্দুল হক বলেন, সেবা প্রদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর গাফিলতির কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সময়মতো সম্ভব হচ্ছে না, পাশাপাশি পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ঢাকা চেম্বারের সদস্য নিয়ামত উল্ল্যাহ মজুমদার বলেন, সরকার রাজস্ব ও ভ্যাট আহরণের ক্ষেত্রে মনোযোগী হলেও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালু রাখার জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবা প্রদানের বিষয়ে খুবই উদাসীন।


মন্তব্য